বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো বিষয় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অস্বীকার করা হলেও, তা বাড়ছে। এসব হত্যাকাণ্ড স্বীকার করে নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে ফৌজদারি ও বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে একাধিকবার। কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তো থামছেই না, উল্টো বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা এর শিকার হচ্ছেন। এমনকি সন্ত্রাসীদের হাতে পুলিশ হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। 


মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলছেন, এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমে না। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় লঘু পাপে গুরুদণ্ড হয়ে যায়। নানা কারণে ন্যায়বিচারের যে শর্তগুলো আছে, সেগুলো মানা হয় না। আর ন্যায়বিচারের শর্ত যদি একটা সমাজে মানা না হয় তাহলে সেখানে অপরাধ কমে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। তাই বিচারবহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করে ‘অপরাধীদের’ বিচার অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। কোনোভাবেই ‘অপরাধীদের’ বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা যাবে না।   

গত বছর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় হিউম্যান রাইটস ফোরামের বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৮২৩ জন। একই সময়ে গুমের শিকার হন ৩৪ জন। সংগঠনটি থেকে এ ভয়াবহ তথ্য প্রচার করা হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থামছে     না। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেও বিভিন্ন সময় জঙ্গি, বনদস্যু, রাজনৈতিক কর্মী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অনেককে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাম করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ তালিকায় রাজনৈতিক কর্মীসহ অনেকেই ছিলেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলার আসামিরাও। অনেককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করারও অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ ঠাকুরগাঁওয়ে সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবক পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাঁড়িপুকুর এলাকায় গত সোমবার রাতে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের ভাষ্য। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিহতের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার নাম-পরিচয় এখনো জানতে না পারলেও গত মাসের ওই ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত ছিল বলে তাদের সন্দেহ।

পুলিশ সুপার বলেন, ওই ডাকতিতে জড়িত কয়েকজন জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাঁড়িপুকুর এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাতে সেখানে অভিযানে যায়।

চলতি মাসের প্রথম দিন কক্সবাজারের চকরিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামি রহিম উদ্দিন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে দাবি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার কয়েক দিন আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু মিয়া (৫৯) নামে আরেক শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছে।

গত ১৯ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জালাল উদ্দিন। এ হত্যার মামলায় আসামি নুর মোহাম্মদ মানিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। গত ২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম এ আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু মো. ফজলুল করিম (পুলিশ পরিদর্শক) আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আবেদন করে আসামিকে আদালতে হাজির করেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে অপরাধ কমছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমার মতে কমছে না। যতদিন পর্যন্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হবে, যতদিন পর্যন্ত বিচারকে ন্যায়বিচার হিসেবে দেখা না হবে, ততদিন পর্যন্ত অপরাধপ্রবণতা সমাজে কমে না। কারণ, মানুষ আসলে বুঝতে পারে কোনটা অপরাধ, কোনটা অপরাধ না। কীসের জন্য কীসের শাস্তি হচ্ছে, কেন কোনোরকম পদক্ষেপ কারও বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে। এগুলো এত বেশি বেছে বেছে করা হয় যে, যারা অনেক সময় এর থেকেও গুরুতর অপরাধী তারা ছাড়া পেয়ে যায়। অনেক সময় লঘু পাপে গুরুদণ্ড হয়। নানা কারণে ন্যায়বিচারের যে শর্তগুলো সেগুলো মানা হয় না এবং ন্যায়বিচারের শর্ত যদি একটা সমাজে মানা না হয়, তাহলে সেখানে অপরাধ কমে না।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.