জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে ‘গুমের পক্ষে স্বীকারোক্তি’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   


শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন গুমের উপরে- এটা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, গুম হচ্ছে এবং তারা এই গুমের সঙ্গে জড়িত।’

‘উনারা (প্রধানমন্ত্রী) স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই গুমটা বাংলাদেশে হচ্ছে। এটা একটা ভালো কথা যে, একটা সত্য স্বীকার করেছেন’ যোগ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ডিফারেন্সটা (পার্থক্য) বুঝে নিতে হবে আপনাদেরকে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে তুলনা করেছেন। একটাকে বলা হয়, এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্স অর্থাৎ যেটা সরকারি পর্যায়ে, রাষ্ট্রপর্যায়ে যাদেরকে গুম করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এই গুম মধ্যযুগে বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ঘটনাগুলো ছিল। এখন কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্স চলছে। প্রতিপক্ষকে গুম করে ফেলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই অভিযোগটা (গুমের শিকার ব্যক্তিদের) প্রত্যেকটা পরিবার দিয়ে আসছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এটা কিন্তু অন্য কোনো গুমের ব্যাপার নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই গুম প্রতিহত করার জন্যে এই সরকারের কোনো উদ্যোগ থাকবে না এজন্য যে, গুমটাকে তারা ব্যবহার করছেন তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘(গুম) কী কারণে হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে, এটা কি শুধু বাংলাদেশে? ২০০৯ সালের একটি হিসাব- বৃটেনে দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়ে গেল। তার মধ্যে ২০ হাজারের কোনো হদিসই পাওয়া গেল না। আমেরিকার অবস্থা আরও ভয়াবহ।’

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বের করার অন্তরায়ের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বাস। এইটুকু ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে এত মানুষের অবস্থান। অথচ এই সকল উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কত। তাদের সব কিছু তো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন, তারপরও সেই দেশে এতলোক গুম হয়, তার খোঁজ পাওয়া যায় না।’

সেই তুলনায় বাংলাদেশে পরিস্থিতি ভালো দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই তুলনায় আমরা অবস্থা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখে যখন কোনো ঘটনা ঘটছে সাথে সাথে খোঁজ নিচ্ছি।’

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে বেআইনিভাবে গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বলে কিছু দিন আগে অভিযোগ তুলেছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও গুমের অভিযোগ করে আসছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.