প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ও চীন যা বলছে, তা আমার কাছে এত বিবেচ্য বিষয় নয়। তিনি বলেন, ‘তাদের (ভারত ও চীন) কূটনীতিকেরা কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওখানে যায়। 


তারা তাদের অবস্থা দেখে, কথা বলে। এরপর প্রত্যেকেই সহানুভূতিশীল মন নিয়েই বিষয়টা দেখেছে।’ শুক্রবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সফলতা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক রোহিঙ্গা বিষয়ে চীন ও ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চীন বা ভারত তাদের কী কথা, কী মত সেটা আমার এত বিবেচ্য বিষয় না। কারণ এটা তাদের যার যার দেশের মতামত। আমাদের দেশে তারা যখন রোহিঙ্গাদের দেখেছেন, তখন তারা প্রত্যেকেই সহানুভূতিশীল, সেটা আমরা দেখেছি। ভারত চীন সকলেই এগিয়ে এসেছে। তারা ত্রাণ পাঠাচ্ছে। সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’

চীন ও ভারতের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘চীন ও ভারতসহ সকল দেশের কূটনীতিকরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। তারা সবাই শরণার্থীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, ৫টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই কিন্তু মিয়ানমারের বিরোধ রয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের পর ৪ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনায় আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।  মিয়ানমারের ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পর খাদ্য, বাসস্থান, জরুরি ত্রাণ এবং তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে জটিল সঙ্কট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।  এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারে, তাহলে ৭ থেকে ৮ লাখ শরণার্থীকেও খাওয়াতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে শেখ রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। সেও একই মতামত ব্যক্ত করেছে।’

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (আন্তোনিও গুতেরেস) রোহিঙ্গাদের খারাপ সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেছেন- এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনি তার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করবেন।’
এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গঠনে বিএনপির সঙ্গে বসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্য বিশ্বজুড়েই ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। দয়া করে আর বিএনপির সঙ্গে বসার কথা বলবেন না। এটা আমার কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, নেদারল্যান্ডের রানী, এস্তোনিয়া ও কসবোর প্রেসিডেন্ট, নেপাল ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইএমও’র মহাপরিচালক, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালক এবং আইবিএম’র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।
এসব বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং ওআইসিসহ সকলের কাছে এ সমস্যা সমাধানের সহায়তা কামনা করেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.