সদরঘাট ২৫৬-এটা কোনও ঠিকানা নয়। এটা জঙ্গি অর্থায়নের একটি কোড। সিরিয়া থেকে ৪০ লাখ টাকা পাঠিয়েছিল সাইফুল হক সুজন। 


যে ওই কোড বলবে তার কাছেই টাকা দেওয়ার নির্দেশ ছিল । হুন্ডির মাধ্যমে চীন হয়ে এই টাকা আসে সুজনের বাবা আবুল হাসনাত ও ছোট ভাই গালিবের কাছে। টাকা দেওয়ার কথা ছিল নব্য জেএমবির প্রধান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীকে। তবে তার আগেই রাজধানী কাওরান বাজারে সুজনের প্রতিষ্ঠান আইব্যাকসের অফিসে হানা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।  সুজনের বাবা, ভাই, শ্যালক ও এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করে এবং জঙ্গি অর্থায়নের জন্য পাঠানো ৩৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়,সম্প্রতি মার্কিন ‘ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন’ (এফবিআই) যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এ সংক্রান্ত একটি নথিপত্র এফিডেভিট আকারে জমা দিয়েছে। সেই নথির সূত্র ধরেই জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক সুজনের জঙ্গি অর্থায়নের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বছর দুই আগে সে সিরিয়ার রাক্কা নগরীতে নিহত হয়। একইসঙ্গে আলোচনায় এসেছে, স্পেনে থাকা সুজনের বড়ভাই আতাউল হক সবুজও।

ধারণা করা হচ্ছে, স্পেনের সম্প্রতি জঙ্গি হামলায় সবুজের অর্থায়ন বা তার সরাসরি যোগসাজোশ থাকতে পারে। জঙ্গি কার্যক্রম ও অর্থায়ন করায় সবুজকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঢাকার সিটিটিসি ইউনিট ইন্টারপোলের মাধ্যমে চিঠিও পাঠিয়েছিল।

সিটিটিসি ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সুজন আসলে লন্ডনে পড়তে গিয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।২০০৩ সালে ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় সে ব্রিটেনে পাড়ি জমায়। সেখানকার সাউথ ওয়েলসের ইউনিভার্সিটি অব গ্ল্যামর্গানে কম্পিউটার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করে। পরে সেখানে একটি কম্পিউটার ফার্ম তৈরি করে ব্যবসা শুরু করে। মূলত এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করতো।বাংলাদেশে নব্য জেএমবির কার্যক্রমের শুরুর দিকে এর শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর কাছেও টাকা পাঠিয়েছিল সে।’

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা নব্য জেএমবির মধ্যম পর্যায়ের অন্তত দুজন জঙ্গি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সুজনের অর্থ পাঠানোর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। যাদের সঙ্গে জঙ্গি সাইফুল হক সুজনের সরাসরি দেখাও হয়েছে। এমনকি, তারা সুজনের বাবা আবুল হাসনাতকেও চিনতো। আবুল হাসনাত সম্প্রতি কারাগারে আটক অবস্থায় মারা যায়।সুজনের পরিবারের সদস্যরা সবাই জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।’

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ে অনেক তথ্য পাচ্ছি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অর্থায়ন বন্ধ করতে পারলেও জঙ্গিবাদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, আইব্যাকস টেকনোলজিস লিমিটেড নামে সাইফুল হক সুজনের প্রতিষ্ঠানটির ১০টি শাখা ছিল। প্রিন্টার বিক্রয়ের নামে সে মূলত জঙ্গি অর্থায়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতো। ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এলশিনাওয়িকে গ্রেফতারের পর এফবিআই জঙ্গিদের অর্থপাচারের এই নেটওয়ার্কের বিষয়ে জানতে পারে, যার একদিন আগে সিরিয়ার রাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় মারা যায় সাইফুল হক সুজন। যদিও বিষয়টি প্রকাশ হয় সুজন মারা যাওয়ার ১৯ দিন পর ওই বছরেরই ২৯ ডিসেম্বর।ওই বছরই সুজনের অফিসে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

সিটিটিসি ইউনিট বলছে, সুজন যেমন ব্রিটেন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সিরিয়াতে পাঠিয়েছে, তেমনি সিরিয়া থেকেও বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য টাকা পাঠিয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় নিজের প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস ও বাবা-ভাইকে ব্যবহার করেছে সে। সুজনের জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি জেনে তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। যার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, অন্যটি মানি লন্ডারিং আইনে। মামলা দু’টির এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত করছে সিটিটিসি ইউনিট।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.