পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে বেড়ানোর নাম করে বাসায় গিয়ে জামাল খান পাটোয়ারী (২৮) ও রাজীব হাওলাদার নামে দুই বন্ধু পুরান ঢাকার শ্যামপুর এলাকার পারুল বেগমকে (৩২) ধর্ষণের পর হত্যা করে। 



রাজীব ও পারুল সাবেক সহকর্মী হিসেবে বন্ধু ছিলেন। ঘাতকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বামীর অনুপস্থিতিতে পারুলের বাসায় চুরি করা। চুরি করতে গিয়ে এক পর্যায়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি ঘটায় তারা।  ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন।

গত ১৮ জুন শ্যামপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে পারুল নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
গ্রেফতারদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ উদ্দিন জানান, জামাল ও রাজীব পরস্পর বন্ধু। রাজীব ও নিহত পারুল পূর্বে একটি কীটনাশক কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

পারুলের স্বামী লিটন একজন গাড়ি চালক। মাঝে মধ্যে তিনি বাড়ির বাইরে থাকতেন। তা জানতো রাজীব। রাজীব তার বন্ধু জামালকে বিষয়টি জানান। জামাল একজন পেশাদার চোর। দু্ই বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে, পারুলের স্বামীর অনুপস্থিতে বাসায় গিয়ে মালামাল চুরি করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজীব পারুলকে ফোন দিয়ে রাতে বেড়াতে আসার কথা জানায় এবং বেড়াতে যায়।

যাওয়ার সময় রাজীব ও জামাল পেয়ারা, আম, হালিম ও দু’টি কোমলপানীয়র বোতল নিয়ে যায়। কৌশলে তারা হালিম ও কোমলপানীয়তে ঘুমের ওষুধের গুড়া মিশিয়ে দেয়। বাসায় গিয়ে গল্পের ছলে সেগুলো পারুলকে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পারুল গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে। এরপর দুই জনে মিলে পারুলকে ধর্ষণ করে। কিন্তু একাধিকবার ধর্ষণের এক পর্যায়ে পারুল কিছুটা চেতনা ফিরে পেয়ে চিৎকার করতে চাইলে জামাল তার গলা চেপে ধরে আর রাজীব মুখ চেপে ধরে এবং মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পারুলের স্বর্ণের নাকফুল, ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

উপ কমিশনার আরো জানান, নিহতের ভাই মো. নয়ন ১৯ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ দিন তদন্ত করে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়। অবশেষে কদমতলী থানা পুলিশ বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করে।  এ সময় মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. ইউসুফ আলী, শ্যামপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ফজলুর রহমান, মিডিয়া সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কান্তি চৌধুরী, কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাজু মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.