সীমান্ত সংকট নিয়ে রাজনীতিবিদদের সংযত থাকার অনুরোধ সত্ত্বেও সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের মন্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলে দিল।

 

মুলায়ম গতকাল বুধবার লোকসভায় বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পাকিস্তানে তারা এ জন্য পরমাণু অস্ত্রও জড়ো করেছে।

মুলায়মের প্রস্তাব, এর পাল্টা ভারতেরও উচিত তার অবস্থানের বদল ঘটিয়ে তিব্বতের স্বাধীনতাসংগ্রামে সাহায্য করা।

লোকসভায় মুলায়মের এই মন্তব্য ও প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক শীর্ষস্থানীয় সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সর্বদলীয় বৈঠকেই সবাইকে সংযত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ওই অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, সরকার কূটনৈতিক স্তরে পরিস্থিতির মোকাবিলার চেষ্টা করছে। এ ধরনের মন্তব্য পারস্পরিক ভুল-বোঝাবুঝি বাড়িয়ে তোলে।

যুক্ত ফ্রন্ট আমলে দেবগৌড়া ও ইন্দর কুমার গুজরাল প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মুলায়ম ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। লোকসভার জিরো আওয়ারে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন থেকেই বলে আসছি, চীনের দিক থেকে ভয়ংকর বিপদ আসছে। সরকারকে সাবধানও করে এসেছি। চীন হলো ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা ভারতকে আক্রমণের ছক কষে ফেলেছে। তারা পাকিস্তানে পরমাণু অস্ত্রও মজুত করেছে। ভারতের গোয়েন্দাদের তা জানাও।’

মুলায়ম বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের কিছু করতে পারবে না। তারা আমাদের শত্রু নয়। শত্রু হলো চীন।’ তাঁর কথায়, ‘ভুটানের ওপর চীন নজর দিয়েছে। নেপালকেও তারা কবজা করেছে। ভুটানকে রক্ষা করা ভারতের কর্তব্য।’ সরকারকে তাঁর সুপারিশ, ভারতের উচিত চীনকেও পাল্টা চাপে রাখা। সে জন্য তিব্বতের স্বাধীনতাসংগ্রামকে ভারতের সমর্থন করা দরকার।

সরকারিভাবে মুলায়মের মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে এই মন্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিড়ম্বনাও বাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের কথায়, স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সবার সংযত থাকা উচিত। সর্বদলীয় বৈঠক ও স্থায়ী কমিটিতে এই পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সদস্যদের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছিলেন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী সেখানে জানতে চেয়েছিলেন, ভুটানকে চীন ভয় দেখিয়ে কাছে টানতে চাইছে কি না। তিনি এই প্রশ্নও করেন, ভারতের মিত্র দেশগুলো কেন ক্রমশ আর সেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছে না? সিপিএমের মহম্মদ সেলিম জানতে চান, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের প্রভাব কেন দিন দিন বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সুগত বসু জানতে চান, চীনা প্রেসিডেন্টের সাধের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে যোগ না দেওয়াই ভারতের ওপর চীনের রাগের কারণ কি না।

জয়শঙ্কর সীমান্ত সংকটের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, এটা ঠিক, অন্যান্যবারের তুলনায় চীন এবার অনেক বেশি আগ্রাসী। তিনি বলেন, কূটনীতিতে বলা হয়, কঠিন পরিস্থিতিতে একটা গভীর শ্বাস নাও। একটু ভাবো। তারপর আবার কথাবার্তা শুরু করো। ভারত এখন এই নীতি নিয়েই চলছে। কূটনৈতিক স্তরে মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.