সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে মহা টেনশনে রাজনীতিবিদরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আসনের সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে— এমন শঙ্কায় অনেকেরই এখন ঘুম হারাম অবস্থা। এ নিয়ে আগেভাগে তদবিরও শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক মন্ত্রী-এমপি।

জানা গেছে, এ অবস্থায় ভোট বাড়াতে আসনের সীমানা কম-বেশি করতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করছেন রাজনীতিকরা। আওয়ামী লীগের অনেকে যেমন তদবিরে ব্যস্ত, তেমন বিএনপির সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীও আসনের সীমানা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন। নতুন প্রার্থী হতে সীমানা কমানোর জন্য অনেকেই কাজ করছেন। অনেক মন্ত্রী-এমপি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইসির কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় অর্ধশত সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য আগস্ট থেকে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে এ কাজ শেষ করা হবে। এর মধ্যে আগস্টে আগের নীতিমালা পর্যালোচনা করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সেপ্টেম্বরে সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা এবং অক্টোবর-নভেম্বরে সীমানার খসড়া তৈরি করা হবে। 

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খসড়া প্রকাশ, ফেব্রুয়ারিতে দাবি-আপত্তি গ্রহণ এবং শুনানি শেষ করবে ইসি। এরপর এপ্রিলের মধ্যে সীমানার গেজেট প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৫০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করে। ওই সময় ১৭ শতাংশ আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন ৮৭টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিল।

পরে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫০টির আসন সীমানা নবম সংসদের মতোই রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদীয় আসন নিয়ে কমপক্ষে ১০ জন মন্ত্রী ও অর্ধশতাধিক এমপি খুবই টেনশনে আছেন। তারা সীমানা সংযোজন ও বিয়োজন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন। কীভাবে নিজ নিজ আসনে আবারও বিজয়ী হওয়া যায়- তা নিয়ে নানা ধরনের ছক তৈরি করছেন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ভোটার অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিজ আসন থেকে বাদ দিতেও চাইছেন অনেক এমপি। আবার সেসব এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক রয়েছে- তা যাতে নিজের আসনের বাইরে না যায়, তাও ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। 

এ জন্য তারা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কাজের সঙ্গে যুক্ত এমন নেতাদের মাধ্যমে অথবা নিজে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। জানা গেছে, ঢাকার দুজন এমপি ও একজন মন্ত্রী সবচেয়ে বেশি টেনশনে আছেন। কারণ তাদের সংসদীয় আসন সীমানা একদিকে বড়, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের এলাকায়। তাই এসব এলাকা ছোট করার চিন্তায় আছেন তারা। এ ছাড়া কয়েকজন এমপির এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যেন অন্য এলাকায় কেটে না যায়- সে জন্য তদবির শুরু করেছেন। বরিশাল বিভাগে একজন মন্ত্রীর এক উপজেলা নিয়ে একটি আসন চাইছেন। গাইবান্ধার একটি আসনে দুটি উপজেলা। আর দুই উপজেলায় বিএনপি-জামায়াতের ভোট রয়েছে। তাই আসনের সীমানা কমানোর চিন্তা আছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় অর্ধশত সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে আসনের জনসংখ্যার ভারসাম্য, প্রশাসনিক সুবিধা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিষয়ে বিবেচনা করেই এসব আসনে সীমানায় পরিবর্তন আনা হবে। 

এ ছাড়া বিগত ২০১৩ সালের সীমানা নির্ধারণের সময় যেসব আসনের প্রশাসনিক অখণ্ডতা বজায় রাখা হয়নি বা ভৌগোলিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে- এমন আসনগুলোতে এবারে পরিবর্তন আনতে চাইছে ইসি। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩ সালে সীমানা নির্ধারণের সময় অনেক আসনে জনংসংখ্যার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ২০০৮ সালের সীমানা নির্ধারণে যেসব আসনে প্রশাসনিক অখণ্ডতা রক্ষিত হয়নি বা  ভৌগোলিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল- সে রকম ৫০টি আসনে ২০১৩ সালে পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি ঢাকার সংসদীয় আসনে বেশির ভাগই ২০০৮ সালের সীমানা বহাল রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় নানা জটিলতা আছে- এমন কিছু আসনে সীমানায় আংশিক পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০০৮ সালে ব্যাপক সীমানা বিন্যাস হওয়ায় ২০১৩ সালে বড় কোনো বিভাজন করা হয়নি। সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ অনুযায়ী প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৫০ আসনে পরিবর্তন করা হয়। তবে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন, এবারে ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.