সে বললো আমার ভাইটাকে সিনেমায় নিতে হবে। দেখলাম শুকনা একটা ছেলে। আলাদা কিছু ছিল না ওর মধ্যে। আমি রাজি হলাম। তখন শাকিল খানের কোনো শিডিউল পাওয়া যাচ্ছিল না। 


শাকিলের পাশাপাশি নাম দেখে ওর নাম রাখলাম শাকিব খান। এ ক’দিন ওকে অফিসে নিয়ে আসতে বললাম। প্রযোজকের সাথে কথা বললাম। সবাই রাজি হলো।’ শাকিবের শুরুর দিকে কথা বলছিলেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান।

প্রায় দেড় যুগ আগের কথা, ‘একদিন আমি এফডিসিতে সাউন্ড কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমাদের ড্যান্স ডিরেক্টর আজিজ (আজিজ রেজা) আমার পা চাপড়ে ধরলো।  আমার পা চেপে ধরলো, আমাকে একটা অ্যালবাম দেখালো।

শাকিব খানের আসল নাম মাসুদ রানা। শাকিব খান নামের বাইরেও ঢালিউডের কিং খান ও বস নাম্বার ওয়ান নামে তাকে ডেকে থাকেন তার ভক্তরা।  ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ এই নায়ক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুর রব ছিলেন একজন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও মাতা নূরজাহান একজন গৃহিণী। 

সুদর্শন এই নায়কের উচ্চতা ৬ ফুট। ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। ছাত্রও ছিলেন সাইন্সের। কিন্তু এইচএসসি পড়ার সময়ই সিনেমার প্রতি ঝোঁক তৈরী হয়। শেষে ঝুঁকলেন সিনেমাতেই। ছোট বেলার স্বপ্নেরা হারিয়েছে। তবে তার সামনে খুলেছে নতুন এক স্বপ্নের দুয়ার। 

শাকিব ১৯৯৯ সালে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’ চলচ্চিত্রে। আফতাব খান টুলু পরিচালিত এ ছায়াছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন আরেক নবাগতা কারিশমা শেখ।

তবে এই ছবির শুটিং শেষ হওয়ার আগেই তার অন্য একটি সিনেমা মুক্তি পায়। এই দিক থেকে শাকিব খান অভিনীত প্রথম ছবি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’। এটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক অভিনয়শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান। দু'জনেরই এটি ছিল প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।

ছবি হিসেবে অনন্ত ভালোবাসা খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরের বছর ২০০০ সালে অভিনয় করেন গোলাম, আজকের দাপট, দুজন দুজনার, বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে। এজে রানা পরিচালিত আজকের দাপট চলচ্চিত্রে প্রথম পূর্ণিমার বিপরীতে, আবু সাঈদ খান পরিচালিত দুজন দুজনার চলচ্চিত্রে প্রথম পপির বিপরীতে ও দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে প্রথম মুনমুনের বিপরীতে অভিনয় করেন।

২০০১ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারী, স্বপ্নের বাসর, মায়ের জেহাদ, রাঙ্গা মাস্তান, হিংসার পতন, বন্ধু যখন শত্রু ছায়াছবিগুলো। এফআই মানিক পরিচালিত স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও শাবনূরের পাশাপাশি তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

২০০২ সালে মুক্তি পায় এফআই মানিক পরিচালিত ফুল নেবনা অশ্রু নেব, ও স্ত্রীর মর্যাদা, শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায়, জিল্লুর রহমানের নাচনেওয়ালী এবং বাদল খন্দকারের বিশ্ব বাটপার। স্ত্রীর মর্যাদা ছায়াছবিতে তিনি প্রথম মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন। মাসুদ রানার শাকিব হয়ে ওঠামাসুদ রানার শাকিব হয়ে ওঠা ২০০৩ সালে অভিনয় করেন সাহসী মানুষ চাই, প্রাণের মানুষ, ক্ষমতার দাপট, ও সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে। এ বছর তার অভিনীত মহম্মদ হাননান পরিচালিত সাহসী মানুষ চাই চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয় এবং তিনটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

২০০৪ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো মধ্যে নয়ন ভরা জল, আজকের সমাজ, বস্তির রানী সুরিয়া, রুখে দাঁড়াও উল্লেখযোগ্য।  ২০০৫ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত এমএ রহিম পরিচালিত সিটি টেরর। এ চলচ্চিত্রে তিনি আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মান্নার সাথে অভিনয় করেন। এছাড়া শাহীন-সুমন পরিচালিত বাঁধা চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও পূর্ণিমার সাথে অভিনয় করেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.