দেয়ালে পানের পিকের দাগ। সিঁড়িজুড়ে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে ময়লা–আবর্জনা।  ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পলিথিন, চটের পচা বস্তাসহ নানা ধরনের বর্জ্য। উৎকট দুর্গন্ধ। সিঁড়ির পাশে শুয়ে আছে ভবঘুরে।


পাতালসড়কের পূর্ণিমা প্রান্তের সিঁড়ি দিয়ে নামতেই দেখা যায় কাঁথা গায়ে শুয়ে আছেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। ‘পথচারীদের হাঁটার পথে আপনি শুয়ে আছেন?—এ কথা বলার পর ছেঁড়া কাঁথাটি আরও ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নাম বলতে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘কী করমু ভাই, থাকার জায়গা নাই, শোওনেরও জায়গা নাই। এইখানে শুইলে অসুবিধা কী?’ একটু এগোতেই দেখা গেল, একজন নারী তাঁর ছোট শিশুকে নিয়ে শুয়ে আছেন।

একই দিন পাতালসড়কের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আবদুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘এই পথে আর বুঝি যাওয়া যাবে না। একে তো ময়লা, আবর্জনা আর দুর্গন্ধ, তার ওপর ভবঘুরের অবাধ চলাফেরা। দেখলে মনে হয় এই আন্ডারপাসের কোনো অভিভাবক নেই।’

পাতালসড়ক দিয়ে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার সময় কথা হয় দুই তরুণীর সঙ্গে। তাঁদের একজন বললেন, এই পথে চলতে গেলে ভয় লাগে। কয়েক দিন আগে সন্ধ্যায় তাঁর ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে।

বুধবার পাতালসড়কের চারটি প্রবেশপথেই আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে দেখা যায়নি কোনো নিরাপত্তাকর্মীকে। তবে গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ঝাড়ু দিতে দেখা যায়। এ সময় ধুলার কারণে পাতালসড়কে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় পাতালসড়কের পশ্চিম প্রান্তে কথা হয় একটি বিমা কোম্পানির কর্মকর্তা আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকে চারবার তিনি এই পাতালসড়ক দিয়ে যাতায়াত করেছেন। সকাল থেকেই ছিল আবর্জনায় ভরা। আর এখন ব্যস্ত সময়ে ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন পাতালসড়কটি নির্মাণ করে। ২০১৪ সালে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশন পাতালসড়কটি ঢেলে সাজায়। ১৭ এপ্রিল ‘প্রজাপতি গুহা’ নামে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে এটি। ভেতরে প্রায় ১৬ লাখ টাকার নতুন টাইলস বসানো হয়। বাতি দিয়ে আলোকিত করা হয়। সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকত একটি এলইডি টেলিভিশন। এ ছাড়া নিরাপত্তারক্ষীও থাকত সব সময়। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি পাতালসড়কের সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে।

পাতালসড়কটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৫-এর অধীনে। গত বুধবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে ডিএসসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম অজিয়র রহমান বলেন, পাতালসড়ক সংস্কারকাজের জন্য কিছু সময় গেছে। এখন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। যাদের সহযোগিতায় পাতালসড়ককে ‘প্রজাপতি গুহা’ করা হয়েছিল, সংস্কারকাজের সময় তারা নিরাপত্তারক্ষী ও টেলিভিশনটি সরিয়ে নিয়েছিল। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা আর যোগ দেননি।

এস এম অজিয়র রহমান বলেন, পাতালসড়কের উন্নয়নে প্রায় ১০ লাখ টাকার একটি কাজ হবে। সেটি শেষ হলে চলাচলের সময় পথচারীদের মনে হবে, তাঁরা অ্যাকুরিয়ামের ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন। তবে মেট্রোরেলের কাজ ছাড়াও কিছু কারিগরি কারণে কাজটি শুরু হতে সময় লাগছে। তিনি বলেন, শিগগিরই করপোরেশনের উদ্যোগে পাতালসড়কে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া পাতালসড়ক পরিষ্কার রাখার কাজেও জোর দেওয়া হবে।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.