ঢাকায় উবারের ব্যবহার বাড়ছে। গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি মাসে ১০ শতাংশের বেশি হারে চালক ও যাত্রী বেড়েছে ট্যাক্সি-সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উবারের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধির হার ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি।

বাড়ছে উবারের ব্যবহার, যাত্রীরা সন্তুষ্ট


অন্যদিকে, ঢাকার বেশির ভাগ উবার ব্যবহারকারী ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠানটির সেবায় নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভবিষ্যতে এই সেবা যেন ঢাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ট্যাক্সির মতো না হয়ে যায়, সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া তদারকি জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ট্যাক্সি-সেবাদাতা উবারের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। এটি মুঠোফোন অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ির মালিক-চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এখানে গাড়িচালক ও যাত্রী- দুই পক্ষকেই আগে থেকে নিবন্ধিত হতে হয়, যা এই অ্যাপ ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালক- উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ঢাকায় প্রতি ট্রিপের ২৫ শতাংশ অর্থ পায় উবার। বাকিটা গাড়ির মালিক ও চালক পাবেন।

গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকায় উবার চালুর ঘোষণা দেওয়ার তিন দিন পর সড়ক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উবারকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। তবে এ ঘোষণার পরও উবারের সেবা বন্ধ হয়নি। চালু হওয়ার দুই মাসের মাথায় গত ২৩ জানুয়ারি থেকে উবারের ভাড়া বেড়েছে। শুরুতে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১৮ টাকা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ২১ টাকা হয়েছে। থেমে থাকা অবস্থায় প্রতি মিনিটের জন্য ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫০ টাকা ভিত্তি ভাড়া (বেজ ফেয়ার)।

চালকরা জানান, মোট পাওয়া ভাড়ার ২৫ শতাংশ প্রতিদিন সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে নেয় উবার কর্তৃপক্ষ। উবারের দেওয়া একটি হটলাইন নম্বরে ফোন করলে তারা জানিয়ে দেয়, কোন এলাকা থেকে বেশি কল আসছে। তারা সেসব এলাকায় চালকদের ছড়িয়ে পড়ার পরামর্শ দেয়। ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে ভাড়ায় চালানোর অভিযোগে থানা-পুলিশের ঝক্কি পোহানোর কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন চালক।

উবারকে একটি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পক্ষপাতী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘উবার লেটেস্ট টেকনোলজি, আগেই বলেছি, এর বিরোধিতা আমি করি না। নতুন টেকনোলজিকে স্বাগত জানাতে হবে। এটাকে সিস্টেমের আওতায় আনতে একটি কমিটি করা হয়েছে এবং আলাপ-আলোচনা চলছে। এটি চলুক, বন্ধ করে না দিয়ে একটি সিস্টেমে আনতে হবে। ’

উবারকে আইনি কাঠামোতে আনতে যে কমিটি কাজ করছে, তার প্রধান বিআরটিএর পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার। তিনি জানান, উবারের বিষয়ে এখনো প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়নি। উবার বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার নীতি, কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদির বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব ধরে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর নিজেরা বসে আরেকটি সভা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। চলতি সপ্তাহেই এ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। ’

বিআরটিএর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, উবারের মতো সেবা চালুর জন্য অনুমোদন চেয়ে কয়েকটি দেশি প্রতিষ্ঠানও বিআরটিএর কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে টপ আইআই নামের একটি প্রতিষ্ঠান উবারের আগেই প্রস্তাবসহ আবেদন করেছিল। তাদের প্রস্তাব যাচাই করে এরই মধ্যে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়ও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

অনুমোদন দিতে নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, এদের জন্য ব্যক্তিগত হিসেবে নিবন্ধিত গাড়ি ভাড়ায় চালানোর বিষয়টি ট্যাক্সিক্যাব নীতিমালায় আনতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য বিআরটিএর কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.