রাজধানীর চামেলীবাগে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্ন রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের বড় সন্তান ঐশী রহমান মানসিকভাবে অসুস্থ কিনা তা পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

‘মানসিক স্বাস্থ্য’ পর্যবেক্ষণ শেষে ঐশী ফের কারাগারে

এর আগে এ মামলার দু’পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারপতিদের খাস কামরায় প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঐশীকে পর্যবেক্ষণ করেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা

পর্যবেক্ষণকালে বিচারপতিরা ঐশীকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন এবং ঐশী তার উত্তর দেন বলে জানা যায়। তবে ঐশীকে কী কী বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি আইনজীবীরা। 

সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এজলাস বসার পর আদালত সময় চেয়ে ঐশী ও এ মামলার আইনজীবীদের তাদের খাস কামরায় আহ্বান জানিয়ে ফিরে যান।  এর আগে আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুসারে আজ সোমবার সকালেই ঐশীকে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। গত ৩ এপ্রিল ঐশীকে আদালতে উপস্থিত করতে কারা মহাপরিদর্শকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।  আদালত তখন বলেছিলেন, ‘ঐশীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে, সে তা জানে কিনা এবং তার মানসিক অবস্থা দেখা দরকার’। 

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী হত্যা মামলায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। এরপর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঐশীর খালাস চেয়ে আপিল করেন ঐশীর আইনজীবী।  নিয়ম অনুসারে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২৫টি যুক্তিতে সাড়ে সাতশ পৃষ্ঠার নথিপত্র-পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। 

ঐশীর আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বলেন, ‘নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে অনেক ধরনের ত্রুটি রয়েছে। আমরা আপিল করেছি। আপিলে মূলত ঐশীর বয়সের বিষয়টাকেই গুরুত্ব সহকারে আদালতের কাছে তুলে ধরা হবে। আমরা বিচারিক আদালতে ঐশীর জন্মনিবন্ধন সনদ ডকুমেন্ট হিসেবে তুলে ধরেছি। সেখানে তার জন্ম তারিখ ১৭ আগস্ট ১৯৯৬। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছে ১৯৯৪ সালের ১৭ আগস্ট।’ তিনি বলেন, ‘ঐশীর ডিএনএ টেস্ট সঠিক ছিল না। কীভাবে ডিএনএ টেস্ট হয়েছে তার ডকুমেন্টস নেই। যারা ডিএনএ টেস্ট করেছেন তাদের কাউকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। আমরা বলেছি, ঐশী এখনো শিশু। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে প্রাপ্তবয়স্ক। আদালত বলেছেন, সে কিশোরী। কিন্তু কিশোরী বলতে আইনে বয়সের কোনো সংজ্ঞা নেই।’ 

এছাড়া ২১ নম্বর সাক্ষী ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোর্শেদের সাক্ষ্য আমলে নেননি। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৪৯ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব বিষয় যুক্তি হিসেবে আমরা আপিল আবেদনে তুলে ধরেছি। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে আদালত বিবেচনা করলে আশা করি, আপিলে ঐশী ন্যায়বিচার ও খালাস পাবে।’ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে দুটি অভিযোগের দায়ে এই দম্পতির একমাত্র কন্যা ঐশী রহমানকে দু’বার মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ। 

রায়ে প্রত্যেক মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর অন্যটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। এ ছাড়া ঐশীকে আশ্রয় দেওয়ায় তার বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেন আদালত। 

রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে ঐশীর আইনজীবী আপিল আবেদন করেন। এর আগে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবেও মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ওই দিন ৬ ডিসেম্বর ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে ঐশী রহমান হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। আপিলে তিনি বলেছেন, তার বিচার প্রক্রিয়া ছিল ভুলে ভরা। মিথ্যা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বয়সের ক্ষেত্রে মামলার বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করেনি আদালত। 
রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে একটি বাসায় সপরিবারে থাকতেন পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট ওই বাসা থেকে স্ত্রী স্বপ্না রহমানসহ তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান ওই দিনই পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ২৪ আগস্ট ঐশী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে পরে তিনি ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। 

২০১৫ সালের ৯ মার্চ ঐশী ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র এবং নিহতদের বাসার শিশু গৃহকর্মী সুমীর বিরুদ্ধে শিশু আইনে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে ওই বছরের ৬ মে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রথমে ঐশীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরে মামলাটি (নিষ্পত্তি) বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.