নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগীর ফাঁসি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। 

ফাঁসি কার্যকর যেকোনো সময়, স্বাভাবিক মুফতি হান্নান

রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রানভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন যেকোনো সময় কার্যকর করা হতে পারে হরকাতুল জিহাদের নেতার মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এমন সময়ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে স্বাভাবিক অবস্থাতেই আছেন তিনি।

সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রপতি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন জানার পরও তার মানষিক কোনো প্রকার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি স্বাভাবিকই আছেন।’ দুই একদিনের মধ্যে কোন আত্মীয়স্বজন তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসেননি।

কারা কর্মকর্তা জানান, মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার খবর পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির মঞ্চটিতে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। ‘যেদিন মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয় সেদিন থেকে ২১ দিনের আগে নয়, ২৮ দিনের পরে নয় এমন হিসাব করা হয়। মুফতি হান্নানের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে সেই দিনক্ষণ চলে এসেছে। এ সপ্তাহের যে কোনো দিন ফাঁসি কার্যকরের আইনি সুযোগ রয়েছে।

এদিকে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, প্রাণভিক্ষা চেয়ে হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এখন জেল কোড অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। এরপর সেখান থেকে কারাগারে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়। এরপরই কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

মিজানুর রহমান আরো জানান, এখনো কারাগারে তাদের হাতে ফাঁসি কার্যকর করা সংক্রান্ত কাগজপত্র এসে পৌঁছায়নি। কাগজপত্র এলে জেল কোড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২০০৪ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের ১৯ মার্চ ওই মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনকে আপিল বিভাগের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২২ শে মার্চ তাকে কারাগারে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় পড়ে শোনানো হয়।

এদিকে, মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তার বিরুদ্ধে যশোরে উদীচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যারচেষ্টা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং রমনা বটমূলে বোমা হামলাসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রমনা বটমূলে বোমা হামলার মামলাতেও তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। সূত্র : বিবিসি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.