ওয়ানডেতে ৩০০’র বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির আগে ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শুক্রবার গায়ানায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের গড়া ৫ উইকেটে ৩০৮ রানের স্কোর তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়রা গড়েছে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩০০’র বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড। রেকর্ড গড়া জয়ে ক্যারিবীয়রা যতটা খুশি, তার চেয়েও বেশি খুশি বাংলাদেশ! ক্যারিবীয়দের এই জয়ের মধ্য দিয়ে যে নিশ্চিত হয়ে গেছে, এই সিরিজে অন্তত আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশকে টপকে যেতে পারছে না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের সুযোগ ছিল বাংলাদেশকে টপকে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭ নম্বরে উঠে যাওয়ার। সে জন্য সিরিজে পাকিস্তানকে জিততে হতো ৩-০ ব্যবধানে। সেটা হলে বাংলাদেশকে ৮ নম্বরে ঠেলে পাকিস্তান শুধু ৭ নম্বরেই উঠে যেত না, সরাসরি ২০১৯ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথেও এগিয়ে যেত এক ধাপ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় পাকিস্তানিদের সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে। ক্যারিবীয়দের জয়ে বাংলাদেশও ফেলেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।


যাই হোক গায়ানার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের ৩০৮ রানকে নিরাপদই মনে হচ্ছিল। হবেই না কেন! শেষ ১৩ ওভারে ক্যারিবিয়ানদের দরকার ছিল ১২৮ রান! সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তানও তখন অনেকটা নির্ভার! কিন্তু হঠাৎই যেন খোলস ছেড়ে বের হলেন জেসন মোহাম্মেদ। ৩০ বছর বসয়ী ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৫৮ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৯১ রানের দানবীয় ইনিংস। তার সঙ্গে ইনিংসের শেষ দিকে অ্যাসলে নার্সও ধারণ করেন অগ্নিমূর্তি। দুজনের ব্যাটিং তাণ্ডবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ওভার হাতে রেখেই পেয়ে যায় ৪ উইকেটের জয়। দারুণ এই জয়ে সিরিজে ১-০তে লিড নিয়েছেন জেসন হোল্ডাররা।

গেল মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দুই বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরেছেন মোহাম্মেদ। ফিরেই হাঁকিয়েছিলেন টানা দুইটি হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু কোন ম্যাচ জেতাতে পারেননি। ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ানরা হেরেছিল ৩-০তে। আক্ষেপটা ছিল! পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের মাত্র ৬ষ্ঠ ম্যাচ খেলতে নেমেই হয়ে গেলেন জয়ের নায়ক। কচুকাটা করেছেন মোহাম্মদ আমির-ওয়াহাব রিয়াজ-হাসান আলীদের নিয়ে গড়া পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে। ১১ চার আর ৩ ছয়ে ৯১ রান করে দলকে উপহার দিলেন জয়। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অফস্পিনার অ্যাশলে নার্স যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মোহাম্মেদকে। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ৩৪ রান। দুজনে মাত্র ৪.৩ ওভারেই গড়েন ৫০ রানের অবিছিন্ন জুটি! ওভার প্রতি ১১.১১ গড়ে রান তুলেছেন তারা। এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে টি-টুয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা লেগ স্পিনার শাদাব খানের। ৫২ রানে ২ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সফল বোলার। আমিরও ২ উইকেট পেয়েছেন ৫৯ রান খরচায়।


এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৫ রান যোগ করে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও কামরান আকমল। চার বছর পর দলে ফিরে কামরান খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। শেহজাদের ব্যাট থেকে আসে ৬৭ রান। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ হাফিজ। ৯২ বলে ৬ চার আর ৩ ছয়ে এই রান করেন ডানহাতি অলরাউন্ডার হাফিজ। শেষদিকে শোয়েব মালিকের ৩৮ বলের ঝড়ো ৫৩ রানে ৩০৮ রানের পুঁজি পায় পাকিস্তান। ক্যারিবিয় ডানহাতি অফস্পিনার নার্স ৬২ রানে ৪ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৩০৮/৫ (৫০ ওভারে) (শেহজাদ ৬৭, কামরান ৪৭, হাফিজ ৮৮, মালিক ৫৩, সরফরাজ অপরাজিত ২০; হোল্ডার ৫৮/১, নার্স ৬২/৪)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০৯/৬ (৪৯ ওভারে) (লুইস ৪৭, পাওয়েল ৬১, মোহাম্মেদ অপরাজিত ৯১, নার্স অপরাজিত ৩৪; আমির ৫৯/২, হাফিজ ৩৫/১, রিয়াজ ৬৯/১, শাদাব ৫২/২)

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.