শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট ভালো করানোর জন্য স্কুল শিক্ষকরাই প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস করে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। রেজাল্ট নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও সুনাম অর্জন করতে এই অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন কিছু শিক্ষক। 

স্কুল থেকেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে ভালো রেজাল্টের জন্য

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে গ্রেফতারের পর তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত সপ্তাহে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন কমলাপুর শের-ই-বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানিয়েছেন, স্কুলে প্রশ্ন পৌঁছে যাওয়ার পর ওই স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমের নির্দেশে তিনি সেগুলোর ছবি মোবাইল ফোনে তুলতেন, তারপর উত্তরসহ শিক্ষার্থীদের দিতেন। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো রেজাল্ট করে এবং স্কুলের সুনামও বৃদ্ধি পায় সেজন্য এই পন্থা বেছে নেন বলেও স্বীকারোক্তিতে জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জ্ঞানকোষ নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ওই কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও প্রশ্ন দিতেন। তাদের সঙ্গে ৫-৭ হাজার টাকায় চুক্তি করতেন।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়ার পথে বা প্রশ্ন ভাগ করার সময় ছবি তুলে তা সংগ্রহ করে। তারপর ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নের সমাধান বা উত্তর বানিয়ে ফাঁসের ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর তা আদান-প্রদানের জন্য এই চক্রটি মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে থাকে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, ‘কোচিং সেন্টারের প্রসার, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সুনাম বৃদ্ধি এবং মুনাফা লাভের জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল জ্ঞানকোষ কোচিং সেন্টার।’

গত ৮ মার্চ দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আট সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি। তারা হলেন— কমলাপুর শের-ই-বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম ওরফে শুভ, লিটন ওরফে আকাশ, রুমন ওরফে মাহির, রাজিব আলী, আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, তারিকুজ্জামান হিমেল ওরফে আবির ও অন্তর।

এই ঘটনায় আইসিটি এ্যাক্ট ও পাবলিকেশন এ্যাক্ট-এ মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারকৃত শিক্ষক ও অন্যান্যদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ইতোমধ্যে রফিকুল ইসলাম, তার কোচিং সেন্টারের খণ্ডকালীন শিক্ষক সহযোগী জহিরুল ইসলাম ওরফে শুভ গত সপ্তাহে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “কমলাপুরের ওই স্কুলের এক শিক্ষকসহ দু’জন জবানবন্দি দিয়েছে। তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছি আমরা, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।”

কমলাপুর শের-ই-বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। আজ (শুক্রবার) রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন চলছে। ডিবি দক্ষিণের সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘কমলাপুরের ওই স্কুলের অধ্যক্ষ রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। আমরা তা যাচাই-বাছাই করছি।’

ডিবি দক্ষিণের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্কুলের ভালো ফলাফলের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করতে শিক্ষকরাই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়েছেন। তাদের কারণেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাত্রছাত্রীদের হাতে আগেই চলে যায়। তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আরও অন্তত ১১টি স্কুল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.