সরকারিভাবে বাসভবনের বরাদ্দ নেই। নিজ দপ্তরের নেই কোনো গেস্ট হাউস। মাসে সরকারিভাবে বাসা ভাড়া পেলেও ভাড়া বাসায় থাকেন না। বরং দেড় বছরের অধিক সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নারী হোস্টেলের দুটি রুমকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করে চলেছেন দিব্বি। 

পুরুষ কর্মকর্তার দখলে নারী হোস্টেলের রুম

বসবাসের জন্য নেই কোনো অনুমোদন, অন্যদিকে ন্যূনতম কোনো টাকাও দেন না হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে।

এমন অনিয়ম করে চলেছেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আবুল খায়ের। তবে ডিডি নারী হোস্টেলে থাকার ব্যাপারে মুখ না খুললেও বলছেন নিজ দপ্তরের একটি রুমে থাকেন।  এদিকে, নিয়মিতভাবে থাকা বিধিবহির্ভূত হলেও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার কারণে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারছেন না রাজশাহীর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, বেগম সুফিয়া কামাল হলের নিচ তলার দু’কক্ষ নিয়ে মাঝে মাঝে থাকেন ডিডি। এতে বিব্রত হোস্টেলের প্রশিক্ষণার্থীরাও। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিটিআই-এর বেগম সুফিয়া কামাল তিনতলা হলে ৫০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৬০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বাকিদের বাইরে কোনো বেসরকারি হোস্টেলে বা স্বজনদের বাসায় থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে। অথচ ডিডি যে দুটি রুম নিয়ে থাকছেন সেখানে কমপক্ষে ছয়জন থাকার সুবিধা পেতেন। যদিও রুম দুটি নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কমন রুম হিসেবে ব্যবহার হতো।  এ পরিস্থিতিতে বিনোদনের সুযোগ থেকেও এখন বঞ্চিত হচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

বর্তমানে ২৩০ জন পুরুষ ও নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা হল। পিটিআইয়ে মোট ২০০ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেওয়ার আসন রয়েছে। সেখানে এবার ৩০ জন অধিক প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনতলা ভবনের নিচ তলার সিঁড়ি ঘরের পাশেই রুম দুটি ব্যবহারের জন্য ভেতরের দরজা বন্ধ করে বাইরের দিকে রাখা হয় আলাদা দরজা। তার উপরে সবুজ রংয়ের টিনের শেড দিয়ে ঢেকে টাইলসে মোড়ানো তৈরি করা হয়েছে বারান্দা এবং সঙ্গে বের হয়েছে আসার পথ। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের স্টাফ ও প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, ওই রুম দুটি বাসার মতো করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছেন উপ-পরিচালক। তবে তিনি হলের খাবার খান না। 

ডিডিকে লিখিতভাবে ওই রুম দুটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি পিটিআইয়ের সহকারি সুপারিন্টেনডেন্ট অঞ্জনা সরকার।  অভিযোগের ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আবুল খায়ের জানান, তার জন্য সরকারিভাবে বাসভনের কোনো বরাদ্দ নেই। এখন পর্যন্ত বরাদ্দের কোনো সুযোগও হয়নি। হয়ত ভবিষ্যতে হতে পারে। রাজশাহীতে কোনো বাসা ভাড়াও নিয়ে থাকেন না।  নিজ দপ্তরের একটি রুমে থাকেন বলে জানান তিনি।  তবে পিটিআই নারী হোস্টেলে থাকার ব্যাপারে কথা বলতে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.