কোথাও চলছে পয়োনিষ্কাশনের সংযোগ প্রশস্ত করার কাজ, কোথাও ওয়াসার পানি সরবরাহের নতুন সংযোগ বসানোর কাজ। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে শুরু হয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। এ বছরও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থা রাজধানীজুড়ে চালাচ্ছে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। সংস্থাগুলো সড়ক খননের নিয়মনীতি না মানায় নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে বহু গুণ।

রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে ধাপে ধাপে ভোগান্তি
 আগারগাঁও থেকে পল্লবী আর লালমাটিয়া থেকে গাবতলী—সড়ক মানেই যেন ধুলার রাজ্য। স্থানে স্থানে মাটির স্তূপ, গভীর গর্তে ভরা। অভিজাত এলাকা গুলশানও এই দশা থেকে মুক্ত নয়। আর মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-রামপুরার সড়ক অনেকটাই নালায় পরিণত হয়েছে।

দুই সিটি করপোরেশন ও সেবা সংস্থা মিলে ঢাকার মূল সড়ক ও অলিগলির কম-বেশি পাঁচ শতাধিক স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি চালাচ্ছে। বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে সড়ক খননের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে গত মঙ্গল ও গতকাল বুধবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে এসব শর্ত পালন করার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ফরাজী শাহাবউদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির ফলে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গর্তগুলো ঘেরাও দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বারবার ঠিকাদারদের শর্ত মেনে কাজ করতে বলা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে ধাপে ধাপে ভোগান্তি
 উড়ালসড়কের কারণে মগবাজার-মৌচাক জল-কাদায় ডুবছে
নির্মাণাধীন মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা এখন দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সিদ্ধেশ্বরীর সাজ্জাদ হোসেন বললেন, তিনি রোজ প্রগতি সরণি অফিসে যেতেন মালিবাগ রেলক্রসিং ধরে। এখন এই পথে গভীর গর্ত ও কাদা-পানি। একদিন তো রিকশা উল্টে আহতও হয়েছেন। তাই তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড ধরে ঘোরাপথে অফিসে যাতায়াত করছেন। সময়ও বেশি লাগছে।
উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে পূর্ব-পশ্চিমে মগবাজার মোড় থেকে সোজা পথে রাজারবাগ মোড় পর্যন্ত। আর উত্তর দিকে মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ আবুল হোটেল পর্যন্ত। দক্ষিণে মালিবাগ মোড় থেকে শান্তিনগর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই তিন স্থানে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ আর নির্মাণসামগ্রী রাখার পর যানবাহন চলাচলের জন্য দুপাশে দুই লেনের সামান্য সড়কই অবশিষ্ট আছে। ফুটপাত নেই বললেই চলে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্তের। কোথাও হাঁটুসম, কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত পানি জমে আছে। কিছু স্থানে কাদায় মাখামাখি। গত সপ্তাহের বৃষ্টির ফলে এই দশা।
এই প্রকল্প এলাকার আশপাশে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, আবুজর গিফারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আছে অসংখ্য বিপণিবিতান। মৌচাক মার্কেট ও আয়েশা শপিং মলের সামনের সড়কে হাঁটুসম পানি।
ফরচুন মলের স্টার গ্যালারি নামে প্রসাধনসামগ্রীর দোকানমালিক জাফর আহমেদের মতে, এই উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ তাঁর পেটে লাথি দিয়েছে। গত তিন মাসে ক্রেতা কমেছে।
রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে ধাপে ধাপে ভোগান্তি
 মেট্রোরেলের খোঁড়ায় শুধু ধুলার ওড়াউড়ি
শেওড়াপাড়া থেকে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দুপাশেই গর্ত খোঁড়া। নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছেই হাজি আশ্রাফ আলী হাইস্কুলের গলির প্রবেশমুখে বিশাল গর্ত খোঁড়া। গলি থেকে মূল সড়কে ওঠার পথ বন্ধ। গর্তের মাঝে বসানো আছে একটি কংক্রিটের স্ল্যাব। শিক্ষার্থী-পথচারীরা প্রথমে এসে লাফ দিয়ে স্ল্যাবে উঠছে, আরেক লাফে মূল সড়কে।
স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন আফরোজা বেগম। তিনি বলেন, ‘মাটি, যন্ত্রপাতি দিয়া পুরা রাস্তাই তারা নিয়ে ফেলছে। চলার পথটুকু পর্যন্ত রাখে নাই। এভাবে লাফায়-ঝাপায় কষ্ট করতে হবে কেন। সাধারণ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে কি কাজ করা যায় না।’
রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে ধাপে ধাপে ভোগান্তি
উন্নয়ন মানেই কি ভোগান্তি?
গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়নে ১ হাজার ২৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। এই অর্থবছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা। বাকি টাকা ২০১৮ সালের মধ্যে ব্যয় করা হবে।
টেকনিক্যাল মোড় থেকে মাজার রোডের পুরোনো গাবতলী পর্যন্ত এবং পুরাতন গাবতলী অংশ থেকে মিরপুর-১ নম্বর পর্যন্ত অংশে পানিনিষ্কাশনের পাইপ বসাচ্ছে উত্তর সিটি করপোরেশন। মাজার রোডের প্রথম কলোনি এলাকায় পাইপ বসানোর নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে সড়কের ওপর রেখে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা স্ল্যাব, রড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ফুটপাতে চলাচলের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্থানীয় লোকজন বাঁশ ও টিন দিয়ে গর্তের ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘গুলশান, বনানী ও বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার একেক সড়ক একেক সময় খোঁড়া হচ্ছে। দেখা যায়, গুলশান এলাকার সড়কগুলোতেও ডিএনসিসির ঠিকাদারেরা কোনো ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ছাড়াই কাজ করছেন।
মিরপুর ২ নম্বর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়কেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মিরপুর মডেল থানার বিপরীতে সড়কে অর্ধেকজুড়ে রাখা হয়েছে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিশালাকার গাড়ি, নির্মাণসামগ্রী। ফলে সড়কের প্রস্থ কমে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
রিকশায় বসে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, রাস্তা খুঁড়লে ধাপে ধাপে ভোগান্তি হয়। কোনো নিয়ম না মেনে, জনগণের সুবিধা বিবেচনা না করে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি বাড়ছে। খোঁড়া শেষে যেনতেনভাবে মাটি ভরাট করায় ধুলাও বাড়ছে, শ্বাস নেওয়া যায় না।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.