উত্সবমুখর পরিবেশে প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চার মেয়র পদপ্রার্থীসহ মোট ১৫৮ জন প্রার্থী। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নামলেন প্রার্থীরা

প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে পুরো টাউন হল মাঠ মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাঁদের অনুসারীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে। কাঙ্ক্ষিত প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে কেউ দলীয় কার্যালয়ে যান, কেউ কেউ ফেরেন বাড়ি।
সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল প্রথমে মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ দেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার হাতে দলীয় নির্ধারিত প্রতীক নৌকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর বাবা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজল খানসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় প্রতীক পাওয়ার পর আঞ্জুম সুলতানা নগরের রামঘাট এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যান।
এরপর বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কুকে দলীয় নির্ধারিত প্রতীক ধানের শীষ দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিনসহ জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় প্রতীক পাওয়ার পর নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটপাড়া, বিষ্ণুপুর, মৌলভীপাড়া ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন মনিরুল হক।
নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি-রব) শিরিন আক্তার তারা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মামুনুর রশীদ পেয়েছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীক। গতকাল দুপুরে হাইকোর্টের আদেশ জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রতীক বরাদ্দ নেন মামুনুর রশীদ। এ নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আঞ্জুম সুলতানা নবাগত মেয়র পদপ্রার্থী। অন্য তিন প্রার্থী ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর নগরের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২টি প্রতীক বরাদ্দ ছিল। অন্যদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০টি প্রতীক বরাদ্দ ছিল।

‘ঘুড়ি’ নিয়ে কাড়াকাড়ি
১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন মো. কাইয়ুম খান বাবুল, মো. শাখাওয়াত উল্লাহ, মো. রাজিউর রহমান ও মো. কাউছার মাহমুদ। ওই চার প্রার্থী ঘুড়ি প্রতীক চেয়ে আবেদন করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁদের সমঝোতার আহ্বান জানান। কিন্তু তাঁরা কেউ সমঝোতা করতে রাজি হননি। পরে লটারির মাধ্যমে কাইয়ুম খান ঘুড়ি প্রতীক বরাদ্দ পান।

মাইকিং ও পোস্টার টানানো শুরু
বেলা আড়াইটায় নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী মনিরুল হকের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে মাইকিং শুরু হয়। এ সময় কান্দিরপাড় লিবার্টি মোড় ও ভিক্টোরিয়া কলেজ সড়কে ধানের শীষের পোস্টার টানানো হয়। অন্যদিকে বেলা তিনটায় নগরের বাদুরতলা এলাকায় আঞ্জুম সুলতানার পক্ষে মাইকিং হয়।
প্রতীক বরাদ্দের পর আঞ্জুম সুলতানা বলেন, ‘নৌকা স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক। আগামী ৩০ মার্চ নৌকা প্রতীকের পক্ষে কুমিল্লার জনগণ রায় দেবে।’ মনিরুল হক বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন ও শান্তিময় কুমিল্লা নগর গঠনের জন্য মানুষ আবারও আমাকে ভোট দেবেন। আমার কাছে কাজের জন্য এসে কেউ ফেরত যাননি।’

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.