‘আমি কোনো দিন আমার বেতন চোখে দেখিনি। আমার স্বামী সব নিয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে আমাদের অধিকার রক্ষা হওয়া উচিত।’ কথাগুলো নাদিয়া নামে আলজেরীয় নারীর।

আলজেরিয়ার নারীরা চাকরি করার মধ্য দিয়ে দেশটির প্রচলিত রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারছেন। কিন্তু অনেক নারীকেই তাঁর বেতন তুলে দিতে হয় স্বামীর হাতে। নিজের উপার্জনের ওপর নেই নিজের অধিকার। অথচ এ বিষয়ে দেশটিতে আইনও আছে।

চাকরিজীবী নারীদের ভাষ্য, বেতনের অর্থ নিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করা হয়। যদি নিজের বেতনের ওপর স্বামীকে হস্তক্ষেপ করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে তাঁকে (স্ত্রী) ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয় অথবা বিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয়। শুধু স্বামীরা বেতনের ওপর হস্তক্ষেপ করেন এমনটা নয়, পরিবারের বাবা বা ভাইয়েরা বাড়ির মেয়েদের আয়ের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

২০০৫ সালে দেশটিতে নারী চাকরিজীবীর সংখ্যা ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ আর ২০১৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আলজেরিয়ায় বর্তমানে ২০ লাখ নারী কাজ করেন, যেখানে কর্মজীবী পুরুষের সংখ্যা ৯০ লাখের একটু নিচে।

কিন্তু ২০০৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা যেখানে ৩৪ হাজার ছিল, সেখানে সাত বছরে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় ৬০ হাজার।

আইনজীবী ফাতেমা-জোহরা বেনব্রাহাম বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বিশেষ করে স্ত্রীদের বেতনের ওপর কর্তৃত্ব ফলানো এ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। সম্প্রতি কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রধান কারণ অর্থ।

বেনব্রাহাম বলেন, এটি একধরনের আর্থিক নিপীড়ন। এ এক ভয়ানক প্রবণতা, যা দীর্ঘদিন ধরে নীরবে চলে আসছে।

আইনজীবীরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতনের অর্থকে কেন্দ্র করে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যাও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালে দেশটি পার্লামেন্টে আইন করতে বাধ্য হয়। সেখানে বলা হয়, স্ত্রীর বেতনে হস্তক্ষেপ করলে স্বামীর সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিন্তু অনেক নারী মনে করেছেন, এই আইন তাঁদের জন্য যথেষ্ট নয়।

ইউনিভার্সিটি অব আলজেরিয়ার সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নোরেদিন বেকিস বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ফল হলো এটা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ছেলেদের শেখানো হয় আর্থিক ক্ষমতার ওপর আধিপত্য পুরুষের।’

আলজেরিয়ার প্রচলিত নিয়ম হলো স্বামীরা স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের খরচ দেবে। আর স্ত্রীর উপার্জন তাঁর নিজের জন্য থাকবে। কিন্তু যেহেতু অনেক নারীকে তাঁদের উপার্জন স্বামীর হাতে তুলে দিতে হয়, তাই মেয়েদের কাজ করার আগ্রহ কম।

আইনজীবী বেনব্রাহাম বলেন, অনেক নারী নিজেদের বেতন নিজের ও সন্তানের জন্য রাখার জন্য যদি বিবাহবিচ্ছেদ করতে হয়, তাহলে সেটাই ভালো বলে মনে করেন।

নিজের বেতনের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ থাকার অধিকার প্রসঙ্গে দেশটিতে যে বিতর্ক রয়েছে, তা সম্প্রতি দেশটির পরিবার ও নারীবিষয়ক মন্ত্রী মৌনিয়া মেসলেমের এক বক্তব্যে আরও উসকে উঠেছে। এর ফলে এই নারী মন্ত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি দেশটির কর্মজীবী নারীদের বেতন রাষ্ট্রকে দিয়ে দিতে আহ্বান জানান। বলেন, প্রধান সম্পদ তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটি যে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে এ অর্থ। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে তো সাহায্য করতে পারি।’

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এল বিলাদকে তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনধারণের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয় তা আমাদের স্বামীরা দিয়ে থাকে। তাই উপার্জিত এই বেতন আমাদের নয়।’

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.