'ওই যে সুদূর নীহারিকা, যারা করে আছে ভিড় আকাশেরও নীড়ে...', সেখানেই শুরু হয়েছিল এক মহাজাগতিক যুদ্ধ। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত 'অরিয়ন নেবুলা' বা 'কালপুরুষ নীহারিকা' অঞ্চলে নক্ষত্রদের মাঝে সত্যিকার অর্থেই যুদ্ধ বেঁধে যায়। একদল তারকা তাদের বদস্বভাব নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় মেতে ওঠে। ঠিক তখন, ১৪০০ সালের দিকে, ব্রিটেনের রাজপরিবারগুলো ইংল্যান্ডের সিংহাসন দখলের জন্য শুরু করেছিলে 'ওয়ার অব দ্য রোজেস'।  
মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে শুরু হয় তাদের দ্বন্দ্ব। ফলাফল- যে পদ্ধতিতে তারা শূন্যে অবস্থান করছিল, তার ইতি ঘটে। অন্তত ৩টি তারকা তাদের স্বাভাবিক গতিপথ থেকে ছিটকে অন্য দিকে চলে যায়। তীব্র গতির এই তারকাগুলো আর দেখা মেলেনি শত শত বছর। কিন্তু আবারো তারা ফিরে এসেছে, দেখা দিচ্ছে বিগত কয়েক যুগ ধরে। ইনফ্রারেড এবং রেডিও সিগনালের মাধ্যমে ছিটকে পড়া ২টি তারকাকে চিহ্নিত করা গেছে। এরা অরিয়ন নেবুলাতে পাতলা ধুলো মেঘ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ওপরের তিনটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একদল তারকার কিভাবে বিচ্ছেদ ঘটে। বামের প্রথম ছবিতে কয়েকটি তারকা স্বাভাবিক নিয়মে এক অপরকে প্রদক্ষিণ করছে। মাঝের ছবিতে দুটো তারকা তাদের কক্ষপথে একে অপরের কাছে চলে এসেছে। ডানের ছবিতে কাছাকাছি তারকা দুটো হয় একটা আরেকটার সঙ্গে লেগে যাবে কিংবা আঁটোসাঁটো কোনো অবস্থার সৃষ্টি করবে। এই ঘটনা অন্যান্য তারকাগুলোকে এদিক সেদিক ছড়িয়ে দেওয়ার মতো মহাকর্ষীয় বল সৃষ্টিতে যথেষ্ট। ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দুটো তারকা একে অপরের বিপরীত মুখে ছুটছে। এই দুটো তারকা ৫৪০ বছর আগে এবই অবস্থানে ছিল। তারা ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক নিয়মেই অবস্থান করত। কিন্তু যে দুটো তারকা কাছাকাছি এসে ঘুরছিল, তাদের শক্তি একযোগ হয়নি। তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে তৃতীয় কোনো তারকা ছিল যে কিনা এ দুই তারকার শক্তি চুরি করেছিল।  
সম্প্রতি নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ একই স্থানে নতুন একটি তারকার সন্ধান পেয়েছে। এটি সেই স্থানেই অবস্থান নিয়েছে যেখানে ৫৪০ বছর আগে অন্য তারকা ছিল। এখন তিনটি তারকা অপেক্ষাকৃত কমবসয়ী তারকাসমৃদ্ধ 'ক্লেইনমান-লো নেবুলা' অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা কিনা ১৩০০ আলোকবর্ষ দূরে। অরিয়ন নেবুলা অঞ্চলের মাঝামাঝিতে এদের অবস্থান।  
হাবলের নতুন পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা নিরেট প্রমাণ পেয়েছেন যে, এই ৩ তারকা তাদের অবস্থান থেকে ছুটে চলে যায়। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি পার্ক এর প্রধান গবেষক কেভিন লুহম্যান বলেন, এর আগেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দ্রুত গতিশীল ছুটে যাওয়া তারকাদের চিহ্নিত করেছেন যারা একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে ছিল। তারা ছুটেও অন্য কোথাও চলে যায়।
এখন এই ৩ তারকা দারুণ গতিতে নিজের পথে ক্লেইনমান-লো নেবুলাতে ছুটছে। এরা অন্যদের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি গতিতে ছুটছে।
লুহম্যানের মতে, এই ৩টি তারকা একটা সময় মহাকর্ষীয় বলের প্রতাপ প্রদর্শনে লিপ্ত হয়। তখন তাদের বাড়িছাড়া করা হয়। তারকাদের এমন সুবিন্যস্ত সিস্টেমে এমন হয় মাঝে মাঝে।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো ভবিষ্যতের আসন্ন যন্ত্রগুলোর মাধ্যমে অরিয়ন নেবুলাতে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালাবেন। হাবলের মাধ্যমে গৃহিত ছবিগুলোর সঙ্গে নতুন নেওয়া ছবিগুলোর তুলনা করা হবে। আশা করা যায়, তারকারাজির এই যুদ্ধ আরো স্পষ্ট হবে তাদের কাছে। 
সূত্র : গ্যালাক্সি মনিটর

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.