শাহবাগ শিশুপার্কের কাছের পদচারী-সেতুটি নিজেই যেন এক ভাগাড়। ভাঙা কাঠ, কাগজ, পলিথিন অর্থাৎ সব ধরনের আবর্জনাই দেখা যাবে। সেতুর নিচেই আছে ফুলের বাজার। মালা গাঁথা, তোড়া বানানো হয় এখানে। 

পদচারী-সেতু ব্যাবহারে জনগনের অনাগ্রহ

এরপর অবশিষ্ট অংশ ফেলে রাখা হয় সেতুর সিঁড়িতে। ভবঘুরেদের আনাগোনাও কম নয়। জাদুঘরের সামনের পদচারী-সেতুও নোংরা। এখানে সব সময়ই ভবঘুরেরা শুয়ে-বসে থাকে। সিগারেটের শেষাংশ ও পানের পিক দিয়ে ভরা। গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন পদচারী-সেতু ঘুরে এমন অপরিচ্ছন্নতা লক্ষ করা যায়।

আহসানউদ্দোলা ছেলেকে নিয়ে শিশুপার্কে এসেছেন। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করে সড়ক পার হলেন ঝুঁকি নিয়ে। পাশের পদচারী-সেতু ব্যবহার না করা প্রসঙ্গে তাঁর উল্টো প্রশ্ন ‘সিঁড়ির গোড়ার ময়লা দেখছেন? উঠার তো জায়গা রাখে নাই। বাচ্চা নিয়ে ময়লা পার হওয়া সম্ভব না।’

ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে একটি পদচারী-সেতু ৮/এ (পুরোনো ১৫)। এ সেতুটি সব সময় বিভিন্ন পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা থাকে। বেশির ভাগই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের। সেতুর ওপর মলমূত্রে সয়লাব। দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। সেতুতে ছিন্নমূল শিশুদের আনাগোনা বেশি।

আসাদগেট পদচারী-সেতুর ব্যবহার কম। ধুলা, কাগজ, খাবারের প্যাকেট ভর্তি। সেতুর নিচে মাস্ক বিক্রির জন্য বসে ছিলেন আবুল হোসেন। তিনি ছয় মাস ধরে এখানে বসেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কখনো দেখেননি। তিনি বলেন, এ সেতুতে মানুষের চলাচল কম। কলেজগেট ও শুক্রাবাদ সেতুটি তুলনামূলক কম নোংরা, তবে সেখানে আবার ভবঘুরেদের আড্ডা বেশি। সদা ব্যস্ত ফার্মগেটের পদচারী-সেতুর অবস্থাও খারাপ। আবর্জনা, হকার, ভিক্ষুকের যন্ত্রণায় বিরক্ত পথচারীরা। পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কয়েকজন হকার বলেন, নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য কেউ আসে না। লোকজন উঠে বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট এখানেই ফেলে যায়।

নগরীর প্রায় সব কটি সেতুতেই কম-বেশি পোস্টার-ব্যানার টানানো থাকে। রাজনৈতিক দল বা সরকারি কোনো কর্মসূচি থাকলে বিশালাকার ব্যানার টানানো হয়। এতে সেতুর ভেতরে কী হচ্ছে তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ফলে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাদুল ইসলাম বলেন, দু-এক দিন পরপরই পরিষ্কার করা হয়। সকালে পরিষ্কার করা হয় বলে দিন শেষে নোংরা হয়ে যায়। পোস্টার-ব্যানারের ব্যাপারে বলেন, এগুলো দেখলে তিনি খুলে ফেলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল সেলিম মাহমুদ বলেন, অনেক পদচারী-সেতুই রাজউকের অধীনে পড়েছে। তাঁরা নিজেদের অধীনে নেওয়ার জন্য চেয়েছেন যাতে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন। ব্যানার টানানো নিয়ে বললেন, মেয়র এ ব্যাপারে সচেতন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন যাতে কমিয়ে আনা যায়। আর সরকারি হলে তা দ্রুতই খুলে ফেলার চেষ্টা করেন।

ডিএমপি থেকে পদচারী-সেতু ব্যবহারে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেতু ব্যবহার উপযোগী না করে জরিমানা নিয়ে পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত বৃহস্পতিবার ফার্মগেট সেতুতে কথা হয় ফাহিমা আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায়ই সড়ক পার হওয়ার জন্য জরিমানা করে, কিন্তু পদচারী-সেতুগুলো ব্যবহারের জন্য পরিষ্কার রাখা হয় না। নোংরা দেখে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.