ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল। আনন্দে ঘাসের ওপর দিয়ে স্লাইড করে চলে যাচ্ছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এ দৃশ্য কে ভুলতে পারবেন? ওই জয়েই তো ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছিল আর্জেন্টিনার—যাক, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সম্ভবত দর্শক হয়ে থাকতে হবে না তাদের। এবারও কি এমন কোনো দৃশ্য দেখা যাবে?

বিশ্বকাপে কি যাওয়া হবে না আর্জেন্টিনার
কাল লাপাজে ২-০ গোলে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়ার এই মাঠে আর্জেন্টিনার ইতিহাস এমনিতেই ভালো না। ২০১০-এর বাছাইয়ে ৬-১ গোলে হেরেছিলেন লিওনেল মেসিরা। ২০১৪-র বাছাইয়েও ১-১ গোলে ড্র। কাল তাই এ ম্যাচ নিয়ে এমনিতেই খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না মেসি ও তাঁর দলবল। বলিভিয়া ম্যাচ জিতে নিয়েছে ঠিকই, তবে তাতে তাদের কোনো লাভ হয়নি। পয়েন্ট টেবিলের এখন যে দশা। কাগজে-কলমেও সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না বলিভিয়া। কিন্তু সর্বনাশটা ঠিকই হয়ে গেছে আর্জেন্টাইনদের।

কনমেবল অঞ্চলে মাত্র ১০টি দেশের মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাই হওয়ায় হিসাবটা এমনিতেই গোলমেলে। এর মাঝেও ব্রাজিল নিজেদের কাজটা সেরে নিয়েছে। ১৪ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে রাশিয়ার টিকিট কেটে ফেলেছে কাল। কিন্তু বাদবাকি চারটি স্থানের জন্য লড়াইটা জমে উঠেছে বেশ। দুইয়ে থাকা কলম্বিয়ার পয়েন্ট ২৪, আবার ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আটে আছে প্যারাগুয়ে। তাই সাত দলেরই সুযোগ আছে প্রথম চারে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার। অথবা পঞ্চম হয়ে প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপে ওঠার।

২২ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা আছে পঞ্চম স্থানে। তাই পয়েন্টের হিসেব মেলাতে গেলে আর্জেন্টিনা খুব একটা খারাপ অবস্থানে নেই। পরের চারটি ম্যাচে পূর্ণ পয়েন্ট তো বটেই, একটু ভাগ্য হাত বাড়ালেই বিশ্বকাপের টিকিট কেটে ফেলতে পারবে আলবিসেলেসতেরা। কিন্তু ঝামেলা বাধাচ্ছে দুটি বিষয়। এ চার ম্যাচের মধ্যে নিজেদের মাঠের প্রতিপক্ষ দুটোই একটু সোজা—ভেনেজুয়েলা (দশম) ও পেরু (সপ্তম)। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাটিতে খেলবে হবে যাদের সঙ্গে, সে দুটো দল—উরুগুয়ে (তৃতীয়) ও ইকুয়েডর (ছয়) ভালোভাবেই আছে বিশ্বকাপের দৌড়ে। সহজ ম্যাচগুলো প্রতিপক্ষের মাঠে খেলার চেয়ে কঠিন ম্যাচগুলো নিজেদের মাঠে খেলা বেশি স্বস্তির।

এর মাঝে উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা ও পেরুর বিপক্ষে মেসিকে ছাড়াই হয়তো খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে। আর মেসি ছাড়া এই আর্জেন্টিনা কতটা ছন্নছাড়া সেটা তো সবাই জানেন। বাছাইপর্বে মেসি খেলেছেন, এমন ছয় ম্যাচের পাঁচটি জিতেছে আর্জেন্টিনা। আর মেসিবিহীন আট ম্যাচে জয় মাত্র একটি। তাই বাছাইপর্বে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেসি থাকবেন না; মনে কু ডাকতেই পারে আর্জেন্টিনার। দুঃসংবাদ আছে আরও। টানা তিন ম্যাচ হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের সামনে আর্জেন্টিনা ছাড়া আর কোনো কঠিন প্রতিপক্ষ নেই। কলম্বিয়ারও নিজেদের মাঠে ব্রাজিল ম্যাচটা ছাড়া আর খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হবে না।
সে তুলনায় চিলির সামনের পথটা বেশ কঠিন, ব্রাজিল ও বলিভিয়ার মাঠে গিয়ে খেলতে হবে তাদের। আবার ঘরের মাঠে ইকুয়েডরের সঙ্গের ম্যাচটাও খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দলের মাঝে যে মাত্র ৩ পয়েন্টের পার্থক্য। আর ইকুয়েডরের পরের ম্যাচ কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্রাজিলের সঙ্গেই। চিলি ও ইকুয়েডরের এই কঠিন পথই সাহস দিচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সব হিসাব মিলবে ১০ অক্টোবর। ইকুয়েডরের প্রায় নয় হাজার ফুট উঁচু আতাহুয়ালপা স্টেডিয়ামে। যদি কোনো নাটকীয় না ঘটে তবে সেদিনই আবার ফিরবেন মেসি। ওই ম্যাচ দিয়েই হয়তো আবারও দেখা যাবে ম্যারাডোনার সেই স্লাইডের মতোই কোনো কিছু।

২০০৯ সালের সে দিনটাও কিন্তু ছিল এমনই এক ১০ অক্টোবর! ম্যারাডোনার স্থলে না হয় এদগার্দো বাউজাই হলেন। স্লাইড না হোক, দুহাত ছুড়ে পাগলাটে চিৎকার করে দৌড়াতে দৌড়াতেও তো অবিস্মরণীয় কিছুর সৃষ্টি করতে পারেন বাউজা! কিন্তু আর্জেন্টিনা পারবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগ্রহটা ধরে রাখতে?
নাকি মেসি-আর্জেন্টিনাকে ছাড়াই রাশিয়া বিশ্বকাপ দেখতে হবে সবাইকে!

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.