অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় নষ্ট হয়ে গেছে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য শোধন সক্ষমতা। ফলে ল্যান্ডফিলে ড্যাম্পিং করা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট লিচেট (তরল বর্জ্য) শোধন করা যাচ্ছে না। অপরিশোধিত লিচেট এর আশপাশের ডোবা-নালা, নিচু জমি এবং পাশ দিয়ে প্রবাহিত তুরাগ নদীতে মিশছে।

আমিন বাজার ল্যান্ডফিল ডিএনসিসির ‘ক্যান্সার’
এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার টন বর্জ্য প্রতিদিন আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে ফেলা হচ্ছে। ফলে এটির অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। বলা চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসির ঈর্ষণীয় সাফল্য ক্যান্সারের মতো কুরে কুরে খাচ্ছে আমিন বাজার ল্যান্ডফিল। আধুনিক এই প্ল্যান্টটির করুণ অবস্থার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই অনেকাংশে দায়ী।

৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগান্তরে  ‘আমিন বাজার ল্যান্ডফিল ডিএনসিসির ক্যান্সার’ শীর্ষক শিরোনামে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাভারের বনগ্রাম ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামে ল্যান্ডফিলের লিচেট ট্রিটমেন্ট পন্ড ও প্ল্যান্ট স্থাপনের অল্প সময় পরই এটি নষ্ট হয়ে যায়। অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লিচেট ট্রিটমেন্ট সিস্টেমটি দীর্ঘ সময়ে সক্রিয় করার উদ্যোগ না নিয়ে বরং ডিএনসিসির কর্তাব্যক্তিরা তা বর্জ্যরে নিচে চাপা দিয়েছে। সলিড লিচেটের উৎকট গন্ধ আশপাশের পরিবেশকেই শুধু বিষিয়ে তুলছে না, করে তুলেছে স্যাঁতসেঁতে।

ডিএনসিসির গাড়ি চালকরা ময়লা নিয়ে এখন আর ভেতরে ঢুকতে চান না। তারা গাড়ির ময়লা ল্যান্ডফিলের আশপাশে ব্যক্তিগত কৃষিজমি ও খালি জমিতে ফেলছেন। গত দুই বছরে আশপাশের প্রায় ২০ একর ব্যক্তিগত জমি ভরাট হয়ে গেছে। ডিএনসিসি প্রভাবশালী সরকারি সংস্থা হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রতিবাদও তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছে না।

প্রতিবাদ সত্ত্বেও আশপাশের বহু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ওই এলাকার পরিবেশ ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। বর্জ্যরে কারণে আবাদ করতে পারছেন না জমির মালিকরা। এটি আশপাশের এলাকার পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটাচ্ছে। তুরাগ নদীও দূষিত হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসী এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায়।

সূত্র জানায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির পর ডিএনসিসিতে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা করার মতো দক্ষ লোক ছিল না। যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা দক্ষ না হওয়ায় এর সঠিক ব্যবস্থাপনা হয়নি।

১৫৬ বিঘা জমির ওপর ২০০৫ সালে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলের নির্মাণকাজ শুরু করে ডিসিসি। ২০০৭ সাল থেকে আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। জাপানি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় নির্মিত এই প্ল্যান্টের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশে প্রথম নির্মিত রাজধানীর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পরে এটি নির্মিত হয় অত্যাধুনিক উপায়ে। মাতুয়াইলেরটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে পরিচালিত হওয়ায় এখনও পর্যন্ত কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি, কিন্তু পরে অত্যাধুনিক মানের করে নির্মিত আমিন বাজার ল্যান্ডফিল অকেজো হয়ে পড়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.