রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত ও যানজটমুক্ত করতে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে এগিয়ে চলছে গণপরিবহন আধুনিকায়ন প্রকল্প মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজ। মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালনা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। 

ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রোরেল

এটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কোম্পানি। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিএমটিসিএল-এর মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন জানান, প্রথম প্যাকেজ উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোরেলের ডিপোর জমি উন্নয়নের কাজ, যা এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে আছে। দ্বিতীয় প্যাকেজটি হলো ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। উত্তরা ডিপো থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার লম্বা মেট্রোরেল লাইনে স্টেশন থাকবে ১৬টি। এলাকা ভাগ করে ৪টি প্যাকেজের আওতায় এসব নির্মাণ কাজ সম্পাদন করা হবে। উত্তরা ডিপো থেকে পল্লবী পর্যন্ত ৩ নং প্যাকেজ। পল্লবী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৪নং প্যাকেজ। আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার ৫নং প্যাকেজ, কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ৬নং প্যাকেজ। ৭ নং প্যাকেজ হলো বিদ্যুতের কাজ। ৮নং প্যাকেজের আওতায় সম্পন্ন করা হবে ট্রেন কেনার কাজ।

এসব প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১ নং প্যাকেজের ডিপোর মাটি উন্নয়নের কাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। দুই, তিন, চার এবং আট নং প্যাকেজের কাজের ইভাল্যুয়েশনের শেষ পর্যায়ে। সাত নং প্যাকেজের কাজ ইভাল্যুয়েশনের মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। ৫নং প্যাকেজ (আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার),  ৬নং প্যাকেজ (কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক)- এই প্যাকেজ দুটি প্রি-কোয়ালিফিকেশন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে।
মেট্রোরেল লাইন-৬-এর প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৪ সাল পর্যন্ত ধরা হলেও ২০১৯ সালে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করার টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন।

ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রোরেল

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা-এসটিপি (স্ট্র্যাটাজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান) গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনার আওতায় ৩টি রেলভিত্তিক ও ৩টি বাসভিত্তিক গণপরিবহন রুটের সুপারিশ করা হয়। বিগত ২০০৯-১০ সালে ঢাকা শহরে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা চালিয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র চাহিদার ভিত্তিতে মেট্রো লাইন-৬-এর সুপারিশ করে।

জাইকার সুপারিশের আলোকে ২০১২ সালে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মেট্রোরেল প্রকল্পের বেসিক ডিজাইন সম্পন্ন হয় ২০১৪ সালে। এরপর ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল বিল ২০১৫’ পাস হয়। ২০১৬ সালের ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

মেট্রোরেল লাইন-৬-এর রুট এলাইনমেন্ট হলো উত্তরা তৃতীয় পর্ব-পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁ-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-প্রেসক্লাব-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এই মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। স্টেশন থাকবে ১৬টি। স্টেশনগুলো হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, দক্ষিণ পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগা, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল।

সম্পূর্ণ এলিভেটেড মেট্রোরেলের এই রুটে প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে ৩৭ মিনিটে। মেট্রোরেল লাইন-৬ পুরোটাই হবে উড়ালপথে। ট্রেন থাকবে ২৪টি, প্রত্যেক সেটে ৬টি করে কোচ থাকবে। 
জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। ঋণ সহায়তার পাশাপাশি সম্পূর্ণ কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোপারেশন এজেন্সি-জাইকা।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.