নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর জানা গেল তথ্যটা। রুবেল হোসেন লম্বা স্পেলে বোলিং করতে পারেন না। সে জন্য তিনি টেস্টে ব্রাত্য। সুযোগ পাননি ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলেও। 



অবাক করা ব্যাপার, সেই পেসার রুবেলকে রেখেই কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন অন্য দুই নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও সাজ্জাদ আহমেদ।

রুবেলকে দলে নেওয়ায় প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘রুবেল বিসিএলে পরপর তিনটি ম্যাচ খেলেছে। সেখানে ভালো বোলিং করেছে। বিশেষ করে এই রাউন্ডের আগের রাউন্ডে অসাধারণ বোলিং করেছে। আমার মনে হয়, ওর এখন টেস্ট ক্রিকেটকে কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে।’ রুবেলের নিজেরও তাই দাবি। লম্বা স্পেলে বোলিং করতে না পারার প্রসঙ্গ হেসে এড়িয়ে বললেন, ‘কে কী বলে জানি না...কন্ডিশন বোলিং করার উপযোগী হলে আমি ১০-১২ ওভারের স্পেলও করতে পারি। লংগার ভার্সনে লম্বা স্পেলে বল না করলে তো উইকেটও পাওয়া যায় না। তবে আবহাওয়া খুব গরম থাকলে ৫-৬ ওভারের স্পেল করি।’

রুবেলকে নিয়ে দলে পেসার মোট পাঁচজন। গল টেস্টে ঘাসের উইকেট থাকতে পারে, প্রয়োজন হতে পারে তিন পেসারের। এটা যেমন একটি বিবেচনা, পাঁচ পেসার নেওয়ার আরেকটি কারণ দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রস্তুতি ম্যাচে কেউ চোট পেলে যেন হাতের কাছেই বিকল্প থাকে।

শেষ পর্যন্ত ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় কোনো খেলোয়াড়কে না নিয়ে টেস্টের জন্যই ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করায় রুবেলের জন্য কাউকে দলে জায়গা হারাতে হয়নি। তবে অনুমিতভাবেই দলে ফেরা বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এসেছেন আরেক পেসার শফিউল ইসলামের জায়গায়। অবশ্য মোস্তাফিজ দলে না থাকলেও হয়তো শ্রীলঙ্কা যাওয়া হতো না শফিউলের। ভারত সফরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর থেকেই তলপেটের পেশির সমস্যায় ভুগছেন তিনি। মিনহাজুল জানালেন, ‘হায়দরাবাদে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর শফিউলের স্টমাক মাসলে একটু সমস্যা হয়। এটা হার্নিয়ার সমস্যাও হতে পারে। ওখানে টেস্ট করা হয়েছে। আমরা ওর ফিটনেস নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।’

ভারতে টেস্টের আগে ঊরুর পেশির সমস্যায় দেশে ফেরত আসা ইমরুল কায়েস দলে ফিরতে পারেননি। তবে সুস্থ হলে কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টের জন্য শ্রীলঙ্কা পাঠানো হতে পারে বাঁহাতি এই ওপেনারকে। মিনহাজুলই জানালেন, ‘ইমরুল আমাদের একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। দুর্ভাগ্যবশত হায়দরাবাদ টেস্টে সে ইনজুরিতে পড়েছে। ফিটনেসের জন্য ওকে আমরা বিসিএলের দুটি রাউন্ড দেখব। ১ তারিখে ওর সেকেন্ড রাউন্ড শেষ হবে। দুই দিন বিশ্রাম নেওয়ার পর ৪ তারিখে ফিটনেস টেস্ট দেবে। ওর অবস্থা ভালো থাকলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাকে আমরা দলে অন্তর্ভুক্ত করব।’ দলটা তখন দাঁড়াবে ১৭ সদস্যের।

প্রধান নির্বাচকের বিশ্বাস, ইমরুল সহজেই ফিটনেস টেস্ট উতরে যাবেন। সেটা না হলে বিকল্প ওপেনার হিসেবে লিটন দাস তো আছেনই। সফরে লিটনের ভূমিকা বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবেও। মুশফিকের অধিনায়কত্ব এবং উইকেটকিপিং নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও মিনহাজুলের কথায় পরিষ্কার, তাঁদের দৃষ্টিতে তিনি এখনো সবদিক দিয়েই এক নম্বর, ‘মুশফিক আমাদের নাম্বার ওয়ান উইকেটকিপার। আমার মনে হয়, তিনটি পজিশনের কোনোটিতেই মুশফিকের অসুবিধা নেই।’

বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে লিটনের জায়গায় নুরুল হাসান নন কেন, সেই প্রশ্নটা অবশ্য উঠল। এর ব্যাখ্যায় মিনহাজুল যা বললেন তার সারমর্ম, নুরুল হাসান উইকেটকিপার হিসেবে ভালো হলেও ব্যাটিংয়ে তাঁর চেয়ে এগিয়ে লিটন। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের চেয়ে ব্যাটসম্যান-উইকেটকিপারকেই তাঁরা প্রাধান্য দিয়েছেন। লিটন নুরুলকে হারিয়ে দিয়েছেন এখানেই।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.