পুরান ঢাকার উর্দু রোড থেকে শুরু হয়ে কেবি রুদ্র লেন চলে গেছে চাঁদনীঘাটের দিকে। সামনে এগোলেই ওয়ালটার লেন, ইসলামবাগ। পাশে আলীগড় ঘাট, বেড়িবাঁধ। এসব এলাকায় রাস্তার দুই পাশে প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল আর রাসায়নিকের গুদাম। মাঝে মাঝে ছোট ছোট কারখানা। 

প্লাস্টিকের কারখানা গুদামে পুরান ঢাকা চরম ঝুঁকিতে

পলিথিনের কারখানাও রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ির নিচেই হয় গুদাম, নয় কারখানা।

হাজার হাজার মানুষ কাজ করে এসব প্রতিষ্ঠানে। তবে এগুলো যে মৃত্যুর কারণ হতে পারে সে কথা খুব একটা জানা নেই তাদের। পুরান ঢাকায় সাম্প্রতিক আগুনের ঘটনার বেশির ভাগ এসব গুদাম-কারখানা থেকে ঘটেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার পশ্চিম ইসলামপুরে বেড়িবাঁধ এলাকার প্লাস্টিক গুদাম থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। গত তিন বছরে পুরান ঢাকার প্লাস্টিকের গুদাম ও কারখানায় অর্ধশতাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

২০১০ সালে নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়। এরপর তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা কেরানীগঞ্জে সরানোর উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বেশির ভাগই সরানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি। তবে এখনো পুরান ঢাকার গলিতে গলিতে বাড়ির নিচতলায় রাসায়নিকের গুদাম ও দোকান দেখা যায়। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিস এ জাতীয় ৪০০ বাড়ি শনাক্ত করেছে। সবগুলো অনুমোদনহীন।

জানা গেছে, পুরান ঢাকার কয়েক লাখ মানুষকে ঝুঁকিমুক্ত করতে শিগগিরই যৌথ অভিযান চালাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব ও বিস্ফোরক পরিদপ্তর। তবে এর আওতায় থাকছে না প্লাস্টিক কাঁচামালের গুদামগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লাস্টিকের দানা বা কাঁচামাল দাহ্য পদার্থ। এগুলো অগ্নিকাণ্ডের অবশ্যম্ভাবী কারণ নয়। তবে আগুন ধরে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ফলে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের কারণে রাসায়নিক গুদামের সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরানোর দাবিও তুলেছে স্থানীয় লোকজন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্লাস্টিক পণ্যের কারখানা যদি না থাকে তাহলে আগুনের ঝুঁকি নেই।

ডিএসসিসির সচিব খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম সরাতে তত্পরতা চালাচ্ছি। ফায়ার সার্ভিস একটি সার্ভে করে আমাদের দিয়েছে, নোটিশ দিয়েছে। আমরা গুদাম মালিকদের নোটিশ দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম-কারখানা শনাক্ত করে সিটি করপোরেশনকে তালিকা দিয়েছি। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে অ্যাকশনে যাব, সে সাপোর্ট আমাদের নেই।  মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটও পাচ্ছি না। ’

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, ‘প্লাস্টিকের দানা দাহ্য পদার্থ। যদিও এগুলো থেকে আগুন কম লাগে। কারণ, জ্বলতে সময় নেয়। তবে আগুন ধরে গেলে দ্রুত ছড়ায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে।  এ আগুন নেভানো কঠিন। ’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্গানিক কেমিক্যাল হওয়ায় এগুলো আমাদের আওতায় পড়ে না।  এরপরও ইসলামবাগের ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখব। ’

শামসুল আলম দাবি করেন, নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকার ৮০০ রাসায়নিক গুদামের তালিকা করা হয়।  প্রায় সবই কেরানীগঞ্জে সরানো হয়েছে।  সেখানে নতুন করে রাসায়নিক গুদামের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না, পুরনোগুলো নবায়ন করা হচ্ছে না।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.