বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কারাগারে যেতে হতে পারে এমন শঙ্কা থেকে আপদকালীন সময়ে কারা দলের নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। খালেদা জিয়াও চিন্তাভাবনা করছেন। নেতৃত্বে কারা থাকবেন তা ঠিক হচ্ছে।

ঐক্য অটুট রাখতে চলছে নানা পরিকল্পনা

দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে এবং দলীয় প্রধানকে বাদ দিয়ে দলটি নির্বাচনে যাবে এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক মহলে। দলের কোনো কোনো নেতার সরকারের সঙ্গে আপোষ করার গুঞ্জনও আছে বিএনপিতে। সঙ্গত কারণে এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্য অটুট রাখতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটি থেকে তৃণমূল নেতাদের অনেকেই এখন একাধিক মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচারের মুখোমুখি। ইতোমধ্যে তারেক রহমানের একটি মামলায় রায় হয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল মামলার বিচার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। কয়েকদিন পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিত হতে হচ্ছে। এ দুটি মামলা নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নানা শঙ্কায় রয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে কারাগারে যাওয়া বা সাময়িক সময়ের জন্য রাজনীতি থেকে দূরেও থাকতে হতে পারে। 

রাজনীতিতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিতির শঙ্কার সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হওয়া নেতাদের আপোষ আলোচনা বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। সঙ্গত কারণে বিএনপি প্রধানের অনুপস্থিতিতে দল কিভাবে পরিচালিত হবে তার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্র মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিয়া পরিবারে কারো নেতৃত্বে অথবা কারো একক নয়, যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে।

বিএনপি নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি এক প্রভাবশালী নেতা জানান, বিএনপি প্রধানের সাজা হওয়ার শঙ্কা এবং নেতাদের আপোষ আলোচনার বিষয়ে সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। বিএনপি প্রধান বৈঠকে কয়েকজন নেতাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে আপোষ করে কারো কারো নির্বাচনে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় ২-৩ জন নেতা তারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নেই জানালেও অন্যরা চুপ থাকেন। জবাবে বিএনপি প্রধান বলেন, ব্যক্তি স্বার্থে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কেউ হয়তো ভুল পথে পা বাড়ালেও বাড়াতে পারেন। তাতে লাভ হবে না। কারণ আপোষকারীদের সঙ্গে কর্মী থাকবে না এবং একপর্যায়ে তিনি আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। 

স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ২-৪ জন আপোষকারীকে নিয়ে বিএনপি মোটেও চিন্তিত নয়। তবে বিগত সময়ে দলকে সাময়িক সময়ের জন্য বেকায়দায় ফেলতে আপোষকারীদের কার্মকান্ডের জন্য ভাবতে হচ্ছে। এ জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, কারাগারে যেতে হলে দলের ঐক্য অটুট রাখতে কিছু পরিকল্পনা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ নিয়ে সিনিয়র ও মধ্য সারির আস্থাভজন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি। নেতারা বেগম জিয়ার সাময়িক অনুপস্থিতিতে জিয়া পরিবারের কাউকে দলের নেতৃত্ব দেয়ার পারামর্শ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে অনেকে পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানের নামও বলেছেন। আর শেষপর্যন্ত তাকে আনা সম্ভব না হলে যৌথভাবে কমিটি করে দলের দায়িত্ব দেয়ার কথাও বলেছেন। নেতাদের এই পরামর্শের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে দলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্য, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা কিংবা প্রভাবশালী একজন যুগ্ম মহাসচিবের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া কেউ গ্রেপ্তার হলে বিকল্প কাউকে তার শূন্যস্থান পূরণে তিন স্তরের কমিটি করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নানা শঙ্কা কাজ করছে। সে জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কারাগারে যেতে হতে পারে এমন শঙ্কা থেকে আপদকালীন সময়ে কারা দলের নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। খালেদা জিয়াও চিন্তাভাবনা করছেন। নেতৃত্বে কারা থাকবেন তা ঠিক হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে যখন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার আলোচনা চলছে সে সময়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সাবেক নেতা ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) আহ্বায়ক শেখ শওকত হোসেন নিলু সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়েই আওয়ামী লীগ-বিএনপির নির্বাচনী সমঝোতা হচ্ছে। আর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়টি ভালো করেই জানেন। এই বক্তব্যের পরে দলের মধ্যে শুরু হয় নতুন করে সন্দেহ ও অবিশ্বাস। 

নিলুর এ বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আসলে নিলু সরকারের একজন এজেন্ট। সরকার তাকে দিয়ে এ ধরনের মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.