দীর্ঘদিন মানুষ যেসব স্থাপত্যকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নির্মাণ হিসেবে দেখতো, তার প্রায় সবগুলোই এখন ঠাঁই নিয়েছে শুধুই স্মৃতিতে। টিকে থাকার মাঝে আছে শুধু পিরামিড। যার নির্মাণশৈলী আজও এক রহস্য। কিন্তু বাকিগুলো..? দেখা যাক কী অবস্থায় আছে সপ্তাশ্চর্যের বাকি ৬ টি।

ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান : Hanging Gardens of Babylon অনেকের কাছে ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগান হিসেবেও পরিচিত। ব্যাবিলন যা আধুনিক ইরাকের অংশ তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা ইউফ্রেটিস নদীর তীরে তৈরিকৃত একটি উদ্যান বিশেষ ছিল এটি। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ সালের দিকে নির্মিত উদ্যানটির আয়তন ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট। আর মাটি থেকে এর উচ্চতা ছিল ৮০ ফুট।
ঐতিহাসিকদের মতে, সম্রাট নেবুচাদনেজা ৬০৪ থেকে ৫৬১ খ্রিষ্টপূর্বে তাঁর সম্রাজ্ঞীর জন্য এই উদ্যান নির্মাণ করেন। ইতিহাস বলে, সম্রাট নেবুচাদনেজা নিনেভে দখলের সময় বিভিন্নভাবে তাকে সহযোগিতা করেন মিডিয়ান সম্রাট। পরে নেবুচাদনেজা মিডিয়ান রাজকন্যার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে বিয়ে করেন। পর্বতাঞ্চল মিডিয়া থেকে সমতল ব্যাবিলনে আসার ফলে সম্রাজ্ঞী প্রায়ই বিষন্ন থাকতেন। ফলে সম্রাট তাঁকে খুশি করার জন্য কৃত্রিম পাহাড়ে এই উদ্যানটি নির্মাণ করেন। বলা হয়, বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার গাছ এই বাগানে রোপণ করা হয়। উদ্যানটি তৈরিতে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক রাতদিন পরিশ্রম করে। যার পরিচর্যায় ছিল সহস্রাধিক মালী।

খ্রিষ্ট-পূর্ব ৫১৪ অব্দে পারস্য সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখলকালে ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদ-সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করেন। পরবর্তীকালে ব্যাবিলনের সম্রাট নেবোনিডাস উদ্যানটি রক্ষায় কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় তা সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট কোল্ডওয়ে ব্যাবিলনে ১৪ বছর খনন কাজ চালিয়ে উদ্যানটিসহ নগরীর প্রাচীন স্থাপনার ধংস্বাবশেষের সন্ধান পান।

মিসরের পিরামিড: প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে এখনও টিকে আছে মিশরের পিরামিড। মিশরের মরু অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে পিরামিড তৈরি হয়েছিল।

আর্টেমিস বা ডায়ানার মন্দির: বর্তমান তুরস্কের এফিসাস শহরে ছিল চাঁদের দেবী আর্টেমিস বা ডায়ানার মন্দির। আর্টেমিসের এই মন্দির তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে। কিন্তু ২৬২ খ্রিস্টাব্দে অন্য দেশের শত্রুর আক্রমণে মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়।

দেবতা জিউসের মূর্তি: ইউরোপের দেশ গ্রিসের অলিম্পিয়া শহরে ছিল দেবতা জিউসের মূর্তি। সেসময়ের বিখ্যাত ভাস্কর ফিদিয়স গড়েছিলেন এই মূর্তি। পরবর্তীতে খিস্টধর্মের উদ্ভবের ফলে ধর্ম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে এই মূর্তি নষ্ট করা হয়।

মৌসলম সমাধি মন্দির: বর্তমান তুরস্কের কারিয়া রাজ্যের সেসময়ের রাজা ছিলেন মৌসলম। তার জন্য হ্যালিকারনেসাসে তৈরি করা হয় বিশাল এক সমাধি মন্দির। ম্যাসিডোনিয়ার দিগ্বিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডার এই সমাধি ধ্বংস করেন। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে একজন ইংরেজ পর্যটক এই মন্দিরে রক্ষিত রাজা ও রানীর মূর্তি সংগ্রহ করে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে নিয়ে আসেন।

দেবতা হেলিয়াসের মূর্তি: তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম ভূমধ্যসাগরে ডেডেকানিজ দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম একটি দ্বীপ রোডস। কিংবদন্তি আছে বন্দরের প্রবেশপথের মুখে গ্রিক দেবতা হেলিয়াসের বিশাল এক মূর্তি ছিল। তবে ভূমিকম্পের ফলে মূর্তিটি একসময় ভেঙে যায়।

ফারোস বাতিঘর: এটি আলেক্সান্দ্রিয়ার বাতিঘর হিসেবেও পরিচিত। মিশরের নীলনদের মোহনায় ভূমধ্যসাগরের উপকূলে ফোয়ারোস উপদ্বীপ। এখানেই ছিল বিখ্যাত বাতিঘরটি। টলেমি এটি নির্মাণ করেন ২৮০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের দিকে। ঐতিহাসিকদের মতে, দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এটি টিকে থাকার কথা জানা যায়।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.