একটু নিরবতা, একটু শান্তির জন্য পিপাসার্ত হয়ে থাকে আমাদের মন। কখনো কখনো মনে হয় এমন কোথাও চলে যাই যেখানে কেউ খুঁজে পাবে না। নিজের মতো থাকতে কোন বাঁধা থাকবে না। শ্রান্ত মন চুপচাপ শুধু উপভোগ করবে প্রকৃতিকে, চোখ জুড়াবে, জীবনে ফিরে আসবে আনন্দ। এমন নিরবিচ্ছিন্ন সুখের সময় কাটাতে যেতে পারেন নিঝুম দ্বীপ। নোয়াখালীর হাতিয়ার ছোট্ট একটি দ্বীপ এটি।
 
নিঝুম দ্বীপের মূল আকর্ষণ হরিণ। উত্তাল মেঘনা পেরিয়ে এই দ্বীপে যখন আপনি পৌঁছবেন আপনার মনে হবে অন্য কোন ভুবনেই চলে এসেছেন বুঝি। শান্ত পরিবেশের জন্যই দ্বীপের এমন নাম হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে আগে এর নাম ছিল ওসমান দ্বীপ। কারণ ওসমান নামের এক ব্যক্তি প্রথম এই দ্বীপে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন।

দ্বীপের জাতীয় উদ্যানে দেখা মেলে অসংখ্য হরিণের। নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। দেশের আর কোন দ্বীপে এত কাছ থেকে এত বেশি সংখ্যক হরিণ দেখা যায় না। সবুজ বন তাদের নিরাপদ আবাস। বনে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দও আলাদা। শীতের সময় নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের বাড়তি পাওনা হিসেবে দেখা পাবেন নানান জাতের পরিযায়ী পাখির।
 
মূলত নিঝুম দ্বীপ বল্লার চর, চর ওসমান, কামলার চর, চর মুরিসহ আরও ছোট কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। সত্তরের দশকে এখানে বন বিভাগের কাজ শুরু হয়। ২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়। ১৯৭৮ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ জোড়া চিত্রা হরিণ অবমুক্ত করা হয় এখানে। সেই হরিণের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে বিশ হাজারেরও বেশিতে।
 
দ্বীপের বনাঞ্চলের মজা হল, এখানে কোন হিংস্র পাণী নেই। তাই ঘুরে বেড়াতে পারবেন ইচ্ছামত। হরিণ দেখার পাশাপাশি দেখতে পাবেন উৎবিড়াল, মেছো বাঘ, খেকশিয়ালসহ আরও নানান ধরণের প্রাণী। অতিথি পাখিদের মধ্যে আছে নিশি বক, কানিবক, গোবক, পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, লালপা, নানান জাতের মাছরাঙ্গা ইত্যাদি। পৃথিবী বিপন্ন ইন্ডিয়ান ইস্কিমার বা দেশী গাঙচষার অন্যতম বিচরণস্থল এই দ্বীপ।


নিঝুম দ্বীপের জনমানবহীন সমুদ্র সৈকতও বেশ উপভোগ্য। বালুকাবেলা ধরে হেঁটে বেড়াতে পারেন। দেখতে পারেন এখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রা। জেনে রাখুন, দ্বীপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। রাত ১১টা পর্যন্ত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
 
কীভাবে যাবেন
সদরঘাট থেকে একটি করে লঞ্চ প্রতিদিন হাতিয়ার তমরুদ্দীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ পথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো হল এম ভি টিপু ৫ (০১৭১১৩৪৮৮১৩) ও এমভি পানামা (০১৯২৪০০৪৬০৮), এমভি ফারহান ৩ (০১৭৮৫৬৩০৩৬৬) এবং ফারহান ৪ (০১৭৮৫৬৩০৩৬৯)। 


লঞ্চে ডেকে জনপ্রতি ভাড়া সাড়ে ৩০০ টাকা। প্রথম শ্রেণীর সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। ডাবল কেবিন ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ঢাকা থেকে বিকেল পাঁচটায় ছেড়ে তমুরুদ্দী পৌঁছাতে পরদিন সকাল হয়ে যায়। সেখান থেকে অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে বন্দরটিলা ঘাট। রিজার্ভ নিলে ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। যাওয়া যাবে তিন থেকে চারজন। সেখানে ট্রলারে চ্যানেল পার হলেই বন্দরটিলা।
 
এরপর আবার নিঝুম দ্বীপের নামা বাজার যেতে হবে রিকশা কিংবা অটো রিকশায়। ভাড়া ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যাত্রা করে পরদিন দুপুরে পৌঁছানো যাবে নিঝুম দ্বীপে।
 

এছাড়া সড়ক পথেও যেতে পারেন নিঝুম দ্বীপ। প্রথমে যেতে হবে নোয়াখালীর সোনাপুর। সেখান থেকে অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে চর জব্বার ঘাটে। এরপরে সি ট্রাক কিংবা ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে যেতে হবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট। সেখান থেকে আবার বাস কিংবা অটো রিকশায় জাহাজমারা বাজার। জাহাজমারা বাজার থেকে আবার ইঞ্জিন নৌকায় যেতে হবে নিঝুম দ্বীপ। তবে ভ্রমণে গেলে ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে যাওয়াই ভালো।

 
কোথায় থাকবেন
নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য একমাত্র ভালো মানের জায়গা হল অবকাশ পর্যটনের নিঝুম রিসোর্ট। এখানে দুই শয্যার কক্ষ ভাড়া ১৫০০ টাকা। তিন শয্যার কক্ষ ১৮০০ টাকা। চার শয্যার কক্ষ ২০০০ টাকা। ১২ শয্যার ডরমিটরি ৩০০০ টাকা।
 
ঢাকা থেকে এ রিসোর্টের বুকিং দেওয়া যায়। যোগাযোগ: অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, শামসুদ্দিন ম্যানশন, ১০ম তলা, ১৭ নিউ ইস্কাটন, ঢাকা। ফোন: ০২-৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ০১৫৫২৪২০৬০২।
 
নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে নিজেরাও শান্তি বজায় রাখুন। যে কোন প্রকার হৈ চৈ, তীব্র আলো, গানবাজনা বন্য প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায়। আপনি নিশ্চয়ই হরিণের রাজ্যে গিয়ে হরিণ না দেখে ফিরে আসতে চান না! হালকা রঙের পোশাক পরুন, এতে বন্য প্রাণীদের চোখে কম পরবেন। কম শব্দ হয় বা শব্দ হয় না এমন জুতা পরুন। শীতের সময় গেলে প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক নিন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.