রাজধানীতে তীব্র যানজটের দ্রুত অবসান দরকার: আমরা গভীরভাবে লক্ষ করে আসছি যে, ইদানীং রাজধানীজুড়ে যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ব্যাপারটা এমনই যে এই যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার যেন কেউ নেই। আমরা আরও লক্ষ্য করে আসছি যে এই যানজট নিয়ে এত লেখালেখির পরও যেন সরকারের প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার সারা পাওয়া যাচ্ছে না। যাতে আমরা আরও হতাশই হচ্ছি।

রাজধানীতে তীব্র যানজটের দ্রুত অবসান দরকার

এমনিতেই রাজধানীতে যে পরিমাণ লোক বসবাস করার উপযোগী সেখানে বসবাস করে আসছে অনেক বেশি। ফলে ঘন বসতিপূর্ণ রাজধানীতে মানুষকে নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা জানি যে রাজধানীর জীবনযাত্রায় মানুষ এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। রাজধানীতে রয়েছে নানা সমসা। আবাসন থেকে শুরু করে পরিবহন ও গ্যাসসহ নানা সংকটে যেন নিমজ্জিত এই রাজধানী ঢাকা। এসব সমস্যা সংকট ছাড়াও রাজধানীর মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার প্রতিদিনই হচ্ছে সেটি হলো ভয়াবহ যানজট।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহর। আগামী ২০ বছরে এ শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়বে। পাল্লা দিয়ে বাড়বে যানবাহনের সংখ্যাও। নানা কাজে নগরবাসীর দৈনিক যাতায়াত (ট্রিপ) প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়বে। অথচ চাহিদার তুলনায় রাস্তা বাড়বে না। এতে রাজধানীতে যানজটের তীব্রতা হবে দ্বিগুণ। ফলে রাজধানী ঢাকাতে মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করবে।

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যানজটের কারণে রাজধানীবাসীর কর্মপরিধি কমেছে। যানজটের কারণে ধস নেমেছে নগরকেন্দ্রিক ব্যবসাবাণিজ্যেও। বাধ্য হয়ে বাসার কাছাকাছি চাকরি খুঁজছেন অনেকেই। কেবল যানজটের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে রাজধানীর অসংখ্য মানুষ। এমনকি স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির হারও কমে আসছে। এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।

এ কথা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই যে, যাতায়াত সমস্যা এখন নগরবাসীর জন্য চরম একটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর ওপর আর্থিক ক্ষতি তো আছেই।

যানজটের কবল থেকে হাসপাতালের রোগী পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। পাশাপাশি গণ-পরিবহনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে আইনের শাসন অনুপস্থিতির কারণে। তাই জনমনে স্বস্তি নেই, শান্তি নেই, ভোগান্তিরও শেষ নেই। রাজধানীতে বসবাস করে প্রায় দেড় কোটি মানুষ। তাই যানবাহনের সমস্যার কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। প্রত্যেক রুটে হাজার হাজার মানুষ যানবাহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু যানবাহনের খবর নেই। একটি বাহন পেলে বাদুরঝোলা হয়ে ঝুলতে থাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যা খুবই অমানবিক। তাই এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।

যানজট একটি মহাসমস্যা। এই সমস্যার সমাধানও সহজ কাজ নয়। তবে সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে আমরা ধরে নিতে পারি যানজটের সমস্যা অর্ধেক কমে আসবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু এর জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন এবং আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ। আমরা মনে করি, কেবল মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, যানবাহন চলাচলে জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা বিধানসহ সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পন্থা অবলম্বনও জরুরি। আমাদের মনে আছে যে যানজট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে রাজধানীর চারপাশে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল একসময়। কিন্তু তার সফল বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

পরিবহন সংকটের পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগের একটি বড় কারণ হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম থাকা। রাস্তার ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যান চলাচল করায় যানজট বহুগুণে বেড়ে গেছে। রাজধানীতে মানুষের চলাচলে গতি আনতে হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও পাতাল রেল নির্মাণের যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে ভালো সিদ্ধান্তগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে যানজটের দুর্ভোগ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ। এ দুর্ভোগের অবসান না হলে একদিকে যেমন মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়াসহ কর্মপরিধি কমে যাবে, অন্যদিকে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হবে, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তাই আমরা আশা করব, যত দ্রুত সম্ভব সরকার দেশের যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেবে। 

দৈনিক ডেসটিনি

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.