আবার শেয়ারবাজারমুখী হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ঝিমিয়ে পড়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আবারও বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাতে বাজারে লেনদেন ও সূচক প্রতিদিনই বাড়ছে।

বাড়ছে শেয়ারবাজারের সূচক, তেজিভাব, সতর্ক থাকার পরামর্শ


চলতি ২০১৭ সালের ১৪ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে চার শ পয়েন্ট বেড়েছে। আর লেনদেন বেড়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজারের এই টানা উত্থানে কিছুটা শঙ্কিত বিশ্লেষক ও বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আজ বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বাজারের সাম্প্রতিক উত্থানকে খুব বেশি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বলে আমার মনে হচ্ছে না। একদিকে ব্যাংকে আমানতের সুদ হার কম, তাই কিছু মানুষ বাড়তি মুনাফার আশায় শেয়ারবাজারে ঝুঁকছেন। আর পুরোনো খেলোয়াড়েরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মতো খেলাধুলা চালাচ্ছেন। তাই এ অবস্থায় নতুন করে যাঁরা বাজারে ঝুঁকছেন, তাঁদের অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, এটা বাজারের স্বাভাবিক শক্তি নয়।’

গত কয়েক দিনে রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশার একাধিক ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালের ধসের পর যেসব বিনিয়োগকারী বাজারবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের অনেকে আবার বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি কিছু নতুন বিনিয়োগকারীর হাত ধরেও বাজারে প্রতিদিন টাকা ঢুকছে বলে ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীরা জানান।

মূলত গত নভেম্বর থেকে বাজারে ধারাবাহিক উত্থানপর্বের শুরু, যা অব্যাহত রয়েছে নতুন বছরেও। এতে ডিএসইর প্রধান সূচকটি পাঁচ হাজারের পর সাড়ে পাঁচ হাজারের মনস্তাত্ত্বিক সীমাও অতিক্রম করেছে। লেনদেন ফিরে গেছে ২০১০ সালের অবস্থানে। তবে গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে মুখে মুখে প্রচারণা ছিল যে ২০১৭ সালে বাজার ভালো হবে। বছরের শুরুতে সেই প্রচারণা সত্যি হতে দেখা যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে রাজধানীতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী পুঁজিবাজার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খাইরুল হোসেন বলেছিলেন, শেয়ারবাজারের সূচক নিয়ে সরকারসহ কারও ভয় ও উদ্বেগের কিছু নেই। বাজারের নিজস্ব শক্তি বা গতিতে সূচক যদি ১০ হাজারও হয়, তাতে বাধা দেওয়ারও কিছু নেই। বিএসইসির চেয়ারম্যানের ওই বক্তব্যের পর বাজারে আরও গতি সঞ্চার হয়।

বাজারের বর্তমান অবস্থাকে এখনো স্বাভাবিকই মনে করছেন ডিএসইর পরিচালক ও শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি বলেন, বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। তবে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লাভের প্রলোভনে পড়ে ঋণ বা ধারদেনা করে কারও বিনিয়োগে আসা উচিত নয়। শাকিল রিজভী জানান, ২০১০ সালের ধসের পর যেসব বিনিয়োগকারী বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের একটি বড় অংশই আবার সক্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই কিছু নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছেন।

লেনদেনে শীর্ষে থাকা একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাজারে নতুন করে টাকা আসছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিনই বাজারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আবার পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাঁরা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরাও সক্রিয় হয়েছেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এ দুই স্টক এক্সচেঞ্জ মিলিয়ে লেনদেনের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ। গত ডিসেম্বরে এ প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছে। যেখানে বিক্রির চেয়ে কেনার পরিমাণই বেশি ছিল। এ ছাড়া লেনদেনে শীর্ষে ছিল ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবি সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, ব্র্যাক ইপিএল, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ। ডিসেম্বরে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেনে বিক্রির চেয়ে কেনার পরিমাণ ছিল বেশি, যার প্রতিফলনও পড়েছে বাজারে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.