চোখ খুলতেই দেখি—মেয়ে জীবনে প্রথমবার স্কুলে যাচ্ছে মায়ের হাত ধরে। তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নেমে তাকে জড়িয়ে ধরে কপালে কয়েকটি চুমু দিয়ে বলি, 'মা তুমি জীবনে উচ্চশিক্ষিত হও। চিকিৎসক হয়ে গরিব রোগীকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করবে।'


রিভার প্রথম ক্লাশ ছিল আজই
 এরপর তারা বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় প্রাইভেটকারে থাকা স্ত্রী-কন্যার মৃত্যুর খবর পান।

সদ্য স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে বিমূঢ় মো. রিপন মাহমুদ একথা জানান। গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ লীগের উপবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক রিপন একমাত্র মেয়ে রুবাইদা নুসরাত রিভা (৪) ও স্ত্রী নুসরাত জাহান লাকীকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামে থাকতেন।

রোববার সকাল ৯টার দিকে গোয়ালবাথান গ্রামের রেলক্রসিং এলাকায় ভারতের কলকাতাগামী 'মৈত্রী এক্সপ্রেস' ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই শিশুসহ একই পরিবারের চার জন এবং গাড়িটির চালক নিহত হয়।

এ বছরই স্থানীয় অ্যাডভেন্টিস্ট ইন্টারন্যাশনাল মিশন স্কুলের (এইমস) প্লে-গ্রুপে ভর্তি হয়েছিল রিভা। রোববারই ছিল তার প্রথম ক্লাশ। তার চাচাতো ভাই তালহা ছিল একই স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার সকালে রিপনের স্ত্রী লাকী-মেয়ে রিভা ও তার চাচাতো ভাই সফিকুল ইসলাম বিদ্যুতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ও ছেলে তালহা একটি প্রাইভেটকারে স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় বাড়ির পাশের রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় 'মৈত্রী এক্সপ্রেসের' সঙ্গে প্রাইভেটকারটি ধাক্কা খায়। এতে কারটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভোঙামারি রেলসেতুর নিচে গিয়ে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারটির বিভিন্ন অংশ খুলে যায়। এরপর তাদের লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে এলাকাবাসী।

দুর্ঘটনায় দুই শিশু ও মায়েদের নিহত হওয়ায় ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের চলছে শোকের মাতম। নিহত প্রাইভেটকার চালক মিনহাজ মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্ত্রী-মেয়েকে হারিয়ে নির্বাক রিপন কান্না সামলে বলেন, 'রিভাকে এবারই স্থানীয় খ্রিষ্টান মিশন স্কুলে ভর্তি করাই। আজই তার জীবনে প্রথম ক্লাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ আমার স্ত্রী ও সন্তানকে কেড়ে নিলেন।'

তিনি আরও বলেন, 'মেয়েকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলাম। সকালে মেয়ের কপালে চুম্বন দিয়ে বলেছিলাম, মা তুই অনেক বড় হবি; ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের সেবা করবি।'

রিপনের আরেক চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন বলেন, 'বিদ্যুৎ একমাত্র ছেলে তালহা ও স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে হারিয়ে পাগল প্রায়। আত্মাহুতি দেওয়ার জন্য বারবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে শুয়ে পড়ছেন। তাকে একটি আত্মীয়ের বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।'

দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার জন নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শতশত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এসময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে সেখানকার পরিবেশ। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যরা।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.