অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কোমলমতি শিশুদের পাঠ্য বইয়ে নতুন ভাবে সংযুক্ত হওয়া বাংলা বর্ণ পরিচয়ের ব্যাখ্যা ধর্মভিত্তিক করায় সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাম্প্রদায়িক বর্ণ পরিচয়ের নতুন ব্যাখ্যার প্রতিবাদে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। যখন দেশের সাধারণ মানুষ কোমলমতি শিশুদের পাঠ্য বইয়ের বর্ণ পরিচয়ের নতুন পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করছে।

ঠিক সেই সময় হেফাজতে ইসলাম নামের একটি সংগঠন সমালোচকদের ন্যাস্তিক আখ্যা দিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের ক্রান্তিকালে তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে আশা জাগানো সেই তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চ পাঠ্য বই ইস্যুতে চুপ রয়েছে।

কেনো চুপ রয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ? সেই উত্তর জানতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে গত ছয় দিন ধরে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে এ প্রতিবেদক। যা এখনো চলমান। ইমরান এইচ সরকারের ব্যক্তিগত মোবাইলে ৮ জানুয়ারি থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা শুরু হয়। দিনভর চলে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের এই মুখপাত্রের পক্ষ থেকে।

এ প্রতিবেদক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠান। এরপর ৯ জানুয়ারি স্বশরীরে ইমরান এইচ সরকারের পরীবাগের বাসায় উপস্থিত হন এই প্রতিবেদক। সেখানে অবস্থানরত দুই ব্যক্তির কাছে ইমরানের খবর জানতে চাওয়া হলে কেউ তার বর্তমান অবস্থার কথা জানে না বলে খুব বিনয়ীভাবে জানায়। এদিকে ১ জানুয়ারি সারাদেশের স্কুলে সরকারের তরফ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়। তারপর থেকে পাঠ্যপুস্তকে নানা অসঙ্গতি নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। বিগত বছরগুলোতে দেখা যায়, বিনামূল্যের পাঠ্য বইয়ে কোনো অসঙ্গতি থাকলে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে প্রতিবাদ জানাতেন। সেই সঙ্গে যুক্ত করতেন নানান কর্মসূচি।

কিন্তু ২০১৭ সালে একবারের জন্যও প্রতিবাদ জানায়নি গণজাগরণ মঞ্চ। কেনো চুপ গণজাগরণ মঞ্চ? এর উত্তর খুঁজতে এ প্রতিবেদক ১০ জানুয়ারি আবারও ইমরান এইচ সরকারের মোবাইলে এসএমএস পাঠায় পরিচয় দিয়ে। সেই সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়, কেনো চুপ গণজাগরণ মঞ্চ। কিন্তু পাঠ্যবই বিতর্কে ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। এ প্রতিবেদক তবুও থেমে নেই গণজাগরণ মঞ্চের ‘চুপ থাকার’কারণ জানার জন্য। ১১ জানুয়ারি ইমরান এইচ সরকারের একাধিক আড্ডার স্থান। সেই সঙ্গে তার পরিচিত ছোট ও বড় ভাইদের সঙ্গে চলে যোগাযোগ। বিভিন্ন আন্দোলনে তার পাশে থাকা একাধিক অনুসারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় ইমরান এইচ সরকারের বর্তমান অবস্থানের কথা জানার জন্য।

কিন্তু সবাই হতাশ করেছে এ প্রতিবেদককে। গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের কোনো খবর জানে না তার কাছের লোকেরা। ইমরানের খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিত সঞ্জীবন সুদীপের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। সুদীপ বলেন, সন্ধ্যায় শাহাবাগ আসতে পারে ইমরান। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত শাহবাগ এলাকার এক সময়ের নিয়মিত আড্ডাস্থালে দেখা মেলেনি ইমরান এইচ সরকারের। ১২ ডিসেম্বর যোগাযোগ করা হয় ইমরানের কাজিন মোনা ভাই হিসেবে পরিচিত যিনি তার সঙ্গে। ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মোনা ভাইয়ের সাহায্য চাওয়া হলে তিনি এক কথায় জানান, ‘আমার জানা নেই তিনি কোথায় থাকেন।’

তবে এখনো চলছে এ প্রতিবেদকের অভিযান। কেনো চুপ হয়ে রয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ? এরপর ১৩ জানুয়ারি রাতে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইমরান এইচ সরকারের আস্থাভাজন একজন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে আপনার বিষয়ে। এক সপ্তাহ পরে ইমরান ভাই আপনাকে সাক্ষাৎ দিবেন।’ উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ইমরান এইচ সরকার বিয়ে করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাদিয়া নন্দিতা ইসলামকে। তারপর থেকে গণমাধ্যমে ইমরান এইচ সরকারকে নিয়ে প্রচারণা থাকলেও শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে তার ব্যক্তিগত কিংবা সাংগাঠনিকভাবে গণজাগরণ মঞ্চের কোনো কর্মসূচীর দেখা মেলেনি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.