ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্ব কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। 

সিআইএর সঙ্গেই আছেন ট্রাম্প

এ লক্ষ্যে স্থানীয় সময় শনিবার ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে 'সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি'র (সিআইএ) প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি আমেরিকার গোয়েন্দাদের ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন। তিনি এক হাজার শতাংশ (একশ শতাংশকে অতিরঞ্জিত) সংস্থাটির সঙ্গে আছেন বলেও ঘোষণা দেন। 

সিআইএ'র ৩০০ কর্মকর্তার উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, 'আমি এক হাজার শতাংশ আপনাদের সঙ্গেই আছি। হাতেগোনা কয়েকজনও আপনাদের মতো কাজ করতে পারবে না এবং আপনারা জেনে রাখুন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আমি আপনাদের ভালোবাসি, সম্মান করি। সিআইএ কর্মীদের মতো আর কাউকে আমি সম্মান করি না।' তাছাড়া, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে দূরত্বের অভিযোগ গণমাধ্যমের সৃষ্টি বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। তাছাড়া, সিআইএ'র সদর দপ্তর পরিদর্শন করে জঙ্গিবাদ এবং চরমপন্থা দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আইএসসহ ইসলামী জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা থেকে যে কোনো মূল্যে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।' 

উল্লেখ্য, চলমান ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নতুন প্রেসিডেন্ট। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনেই পূর্বসূরি ওবামার স্বাস্থ্যনীতি (ওবামাকেয়ার) বন্ধের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর এবং বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া অন্তত ৮০ কূটনীতিক বরখাস্তের নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সিআইএ কার্যালয় পরিদর্শনের বিষয়ে সংস্থাটির সাবেক উপ-পরিচালক মিশেল মোরেল জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পরিদর্শন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যথার্থ সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সিআইএর অভিযোগ এবং প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সৃষ্ট জটিলতা ও টানাপড়েনের সম্পর্ক দ্রুত উন্নয়ন করতেই প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাটির সদর দপ্তরে ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি সফর।

এদিকে, সিআইএর প্রধান কার্যালয়ে ট্রাম্প রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, এমন অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির অনেক কর্মী। কর্মরত অবস্থায় প্রাণ দেয়া ১১৭ জন সিআইএ কর্মীর উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল ওয়ালের সামনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'সিআইএকে শক্তিশালী করার জন্য আমার মতো কেউ ভাবে না। যদিও আমি সন্দিহান, এই কক্ষের কতজনই বা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন!'

ট্রাম্পের এমন রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ভালোভাবে নেননি গোয়েন্দারা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির বিদায়ী পরিচালক জন ব্রেনানের সাবেক সহকারী নিক সাপিরো বলেন, 'মেমোরিয়াল ওয়ালের সামনে সিআইএ কর্মীদের উদ্দেশে ট্রাম্পের এমন রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে সাবেক প্রধান ব্রেনান মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।' তার মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আত্মপ্রতিষ্ঠার জঘন্য প্রদর্শনী করছেন। এ জন্য তার লজ্জা পাওয়া উচিত।' অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা সেই অর্থে রাজনীতিক নই। আমরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছি কিনা, এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা খুবই আক্রমণাত্মক এবং প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য অনাহুত। প্রেসিডেন্টের এমন রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ কথায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন।'

এদিকে, বড় মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী জ্যারেড কুশনারকে হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রে আমেরিকার স্বজনপ্রীতিবিরোধী আইন লঙ্ঘিত হবে না বলে শনিবার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। 

শনিবার বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত 'মতামতমূলক' বিবৃতি অনুযায়ী, 'নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। আর এর আওতায় কোনো ফেডারেল সংস্থার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট যদি তার কোনো আত্মীয়কে নিয়োগ দেন, তখন সেখানে আইনি বাধা প্রয়োগের সুযোগ নেই।' বিবৃতিটি আমেরিকার বিচার বিভাগের লিগ্যাল কাউন্সেল অফিস থেকে দেয়া হয়। ১৪ পৃষ্ঠার ওই মতামতে আরও বলা হয়, 'পরিবারের সদস্যদের সক্ষমতা অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেস বাধা দেয়নি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে না।' উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি ট্রাম্প তার জামাই জ্যারেড কুশনারকে হোয়াইট হাউসের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ট্রাম্পকে বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ দেবেন ৩৫ বছর বয়সী কুশনার। সে সময়, ট্রাম্পের মুখপাত্র কেলিঅ্যান কোনওয়ে খবরটি নিশ্চিত করেন।
সংবাদসূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিজনেস ইনসাইডার

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.