রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নীলক্ষেত-নিউমার্কেট।





 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁষা এই এলাকায় রয়েছে ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ঢাকা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া রয়েছে নিউমার্কেট, চাঁদনী চক মার্কেট, গাউছিয়ার মতো বিপণিবিতানও। এ অঞ্চলেই অবস্থান আজিমপুর সরকারি কলোনির। পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত এ কলোনির প্রধান সমস্যা নিরাপত্তা। বাসিন্দারা জানান, এ কলোনিতে প্রবেশ ও বাইরের একাধিক ফটক থাকায় এখানে সব সময়ই বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল। আশপাশে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এ কলোনিতে সাবলেটও বেশি। নীলক্ষেত মোড় থেকে সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা পর্যন্ত আজিমপুর আর পলাশী এলাকা মিলিয়ে আজিমপুর সরকারি কলোনি; যেখানে ৪, ৫ ও ৬ তলাবিশিষ্ট ১৪৫টি ভবন রয়েছে, যাতে সরকারিভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছে এক হাজার ৮২৪ পরিবার। আজিমপুর উত্তরাঞ্চলে ৬০টি, মধ্যাঞ্চলে ২৪টি, পলাশীতে ২০টি, দক্ষিণাঞ্চলে ৩১টি ও মৌচাক এলাকায় ১০টি ভবন রয়েছে।


সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেই আজিমপুর কলোনিতে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেলের পর থেকেই বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। সরেজমিনে সন্ধ্যার পর কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ভবনের আশপাশে ছেলেমেয়েদের আপত্তিকর চলাফেরা। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বের হলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বলে জানান কলোনির বাসিন্দা হোসনে আরা। স্থানীয় বাসিন্দা কলেজছাত্র আরিফুল বলেন, কলোনির মাঠে বহিরাগতরা খেলতে আসে। বন্ধু হওয়ার কারণে তারাও খেলার সুযোগ করে দেন। কিন্তু এর ফাঁকে আশপাশের বাজে ছেলেরাও এখানে ঢুকে পড়ে।


জানা যায়, এই অবাধ অনুপ্রবেশের কারণে ২০১২ সালে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে খুন হয় বহিরাগত এক কিশোর। আর এ খুনের খেসারত দিতে হয়েছে খেলায় অংশ নেওয়া অনেককেই।


সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা গেছে, আজিমপুর ও পলাশীর ১৪৫টি ভবনের বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তুলনামূলকভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বরাদ্দপ্রাপ্তদের কক্ষ বেশি থাকায় তারা সাবলেট বাণিজ্যে বেশি যুক্ত। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসার বিপরীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন থেকে যা কাটা হয়, তার অনেক বেশি সাবলেট দিয়ে তারা আয় করে নেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতে প্রতিজনকে দিতে হয় দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা। ছোট রুমে ছয় থেকে আটজন এবং বড় রুমে ৮ থেকে ১০ জনকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিয়ে পাওয়া যায় ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। রান্নাঘর বা বারান্দায় সাবলেট দিলে ওই টাকার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, কলেজের বিপরীত দিকে এটি হওয়ায় এখানে থাকাটা সুবিধাজনক। সেই সঙ্গে পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধাও আছে।

 অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ কলোনির মধ্যাঞ্চলে তিনটি ফ্ল্যাটের বরাদ্দকারী অবসরে যাওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। এ ফ্ল্যাটগুলো হলো_ ২০/এইচ, ১২/বি ও ৩/এম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরাদ্দপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে থাকেন না।


আজিমপুর কলোনির পরিবেশের অবস্থা ভালো নয়। পুরো কলোনি ঘুরে দেখা যায়, যেখানে-সেখানে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। কলোনির ভেতরকার দুটি পুকুরের দিকে তাকানোও কঠিন। পুকুরপাড়ে বড় সাইনবোর্ডে 'এই পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মাছ ধরা, গোসল করা এবং কাপড় ধোয়া নিষেধ' লেখা থাকলেও নেই এর তদারকি। বহিরাগতরাই এ পুকুরগুলো বেশি ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। কলোনির বাসিন্দাদের অসচেতনতা আর সুষ্ঠু তদারকির অভাবে পুকুরের চারপাশে এখন খালি ময়লা-আবর্জনা। সে সঙ্গে কলোনির বিভিন্ন ভবনের দেয়াল ও খোলা জায়গার আগাছা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করায় বেড়েছে মশা।


বাসিন্দাদের সমস্যা প্রসঙ্গে কলোনির মধ্যাঞ্চল কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিকদার মো. আলেক বলেন, আমাদের এখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেশি। তারা এখানকার স্থানীয় হওয়ায় প্রভাব খাটায়। সে সঙ্গে অনেকেই সাবলেট দিয়েছেন। সেখানেও বহিরাগতরাই থাকে। এসব কারণে এখানকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।


উত্তরাঞ্চল কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, কলোনিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার অনেক পথ রয়েছে। ফলে এখানে বহিরাগতরা সহজেই চলাফেরা করতে পারে। তারা এখানকার মাঠেও খেলাধুলা করে। এসব কারণে আমাদের নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে।


মৌচাক অঞ্চল কল্যাণ সমিতির সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের অংশটি ছোট হওয়ায় এখানে সমস্যা কম। তবে দারোয়ান না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো নয়। সাবলেটের বিষয়ে তিনি বলেন, বাসা ভাড়া কর্তনের পর অনেকেই কষ্ট করে থাকেন। তাই কেউ কেউ ভাড়া দেন। তবে সমিতি সব সময়ই বিষয়টি তদারক করে, যেন কোনো খারাপ লোক এখানে প্রবেশ করতে না পারে।


পলাশী অঞ্চল কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমাদের এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়। সে সঙ্গে বহিরাগতদের আনাগোনাও আছে। এখানেও অনেকে সাবলেট দেন। বিষয়টি আমরা মেনে নিয়েছি। তবে কোনো ধরনের সমস্যা হলে অবশ্যই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় সমিতির পক্ষ থেকে। আজিমপুর কলোনির এসব সমস্যার বিষয়ে এর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সমস্যাগুলো আমলে এনে সমাধানের চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে এখানকার মধ্যাঞ্চলে ২০ তলা করে ছয়টি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, এগুলো নির্মাণ শেষ হলে সমস্যাগুলো মিটে যাবে।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.