রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে ফুটপাতের অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাস্তার ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান দিয়ে বসা হকারদের দৌরাত্ম্য কমাতে মেয়র কিছুটা সফলতা অর্জন করতে পারলেও ভিন্নমত হকার নেতাদের।

আন্দোলনের হুমকি দিলো হকার সংগঠনগুলো

মেয়রের হকার উচ্ছেদের এই উদ্যোগকে অবৈধ দাবি করে তারা বলছেন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য নয়। উচ্ছেদ বন্ধে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়া হবে বলে জানান তারা। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে যে কোনো সময় নতুন আন্দোলন কর্মসূচিরও ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছে হকার্স সংগঠনগুলো।

হকার্স সংগঠন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে প্রায় ৬০টিরও বেশি হকার্স সংগঠন আছে। একেকটি সংগঠনে ৫, ১০ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি হকার জড়িত। কিন্তু সিটি করপোরেশন তাদের জন্য কোনো ?পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উল্টো ব্যবসা থেকে হকারদের বঞ্চিত করছে। 
সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকের এক বৈঠকে হকারদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়র এ কথা জেনেও কোনো ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স সমিতির সভাপতি কামাল সিদ্দিকী বলেন, তারা ফুটপাতে বসা নিয়ে প্রতিনিয়ত পুলিশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও যোগাযোগ করছেন। তারা তো মেয়রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তবে মেয়রের এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। মেয়র তাদের ফুটপাতে বসতে না দিলে তারা অন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে তারা শ্রমিক ইউনিয়ন, বামপন্থী দলসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন। তারা যে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেন।

তিনি জানান, রাজধানী যদি হকার উচ্ছেদ করতে হয়, তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা ফুটপাতে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করবে। মেয়র তাদের ফুটপাতে বসতে দিচ্ছে না, সেজন্য তারা হকারদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ২৫ তারিখে প্রথমে শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে সব হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে তারা বড় আকারের সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, আজ বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কাছে প্রথমে স্মারকলিপি দেয়া হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রীর বরাবরও স্মারকলিপি দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারে রাজধানীর পাঁচটি স্পটে হকারদের জন্য হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন যদি হকার না বসে, তাহলে তো তাদের কিছু করার নেই।

তিনি জানান, তা ছাড়া হলিডে ছাড়াও সরকারি অন্যান্য ছুটির দিনে হকাররা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। তবে আবার শর্ত আছে, সেটা হলো যেস্থানে হলিডে মার্কেট হকারদের জন্য উন্মুক্ত রাখা আছে, সেখানে স্কুল এবং অফিস খোলা থাকলে তারা বসতে পারবে না। যেমন আইডিয়াল স্কুল যদি খোলা থাকে, তাহলে সরকারি ছুটি অথবা হলিডে দিনেও কোনো মার্কেট বসতে পারবে না। তবে হকাররা যদি মেয়রের সঙ্গে সমঝোতা করে বসতে চায়, তাহলে তো ভালোই।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.