২০০৯ সালে 'রফতানি অবকাঠামো উন্নয়ন' নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে। সাড়ে ১১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক সাড়ে আট কোটি টাকা দেওয়ার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দেয়।

২০০৯ সালে 'রফতানি অবকাঠামো উন্নয়ন' নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে। সাড়ে ১১ কোটি টাকার এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক সাড়ে আট কোটি টাকা দেওয়ার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দেয়।
 চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের জন্য আলোচনা করতে সংস্থাটির একাধিক মিশন বাংলাদেশে আসে। সরকারের সঙ্গে ঋণ চুক্তির আলোচনা হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনও পায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক সরে যায়। বিশ্বব্যাংক প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে সরে গেছে এমন তিনটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রেলওয়ে। অন্য দুটি প্রকল্পের একটি রফতানি উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের কারিগরি সহায়তা সংক্রান্ত। আরেকটি রেলওয়েতে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকৌশল ও দরপত্র সংক্রান্ত। এদিকে ভারতীয় ঋণের আওতায় থাকা রেলওয়ের ২৬৪টি মিটার গেজ ও ২টি ব্রড গেজ ইন্সপেকশন কার সংগ্রহ প্রকল্প বাতিল হচ্ছে। 

জানতে চাইলে রেল সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন বলেন, অর্থায়ন অনিশ্চয়তায় এ প্রকল্পগুলো বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। অহেতুক তালিকা ভারী করে এসব প্রকল্প এডিপিতে রাখা ঠিক হবে না। প্রকল্পের যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে, ওই পর্যন্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, পরে অর্থায়ন পাওয়া গেলে প্রকল্পগুলো আবার শুরু করা হবে। 

এদিকে ভারতীয় প্রথম দফা ঋণের ২৬৪ মিটার গেজ ও ২ টি ব্রড গেজ ইন্সপেকশন কার সংগ্রহ প্রকল্প বাতিল হচ্ছে। ৯৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের কোনো কোম্পানি এখন মিটার গেজ যাত্রীবাহী কোচ উৎপাদন করে না। এ জন্য একনেকে অনুমোদন পেলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিশ্বব্যাংক উইংয়ের সাবেক প্রধান আরাস্তু খান বলেন, সাত থেকে আট বছর আগে রেলপথ ব্যবহার করে রফতানি বাড়ানোর একাধিক বড় প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনা করে বিশ্বব্যাংক। জয়দেবপুরে বিশেষ কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। কারিগরি সহায়তামূলক এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বড় প্রকল্প প্রস্তুত করার কথা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। 

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকৌশল ও দরপত্র সংক্রান্ত ২০০৮ সালের মে মাসে শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১০ সালের মার্চ মেয়াদে একনেক অনুমোদন করে। মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ না হলেও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতন দিতে নভেম্বর পর্যন্ত দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা পেতে বিশ্বব্যাংককে কয়েক দফা চিঠি লিখেও সাড়া মেলেনি। অর্থায়ন অনিশ্চয়তায় সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বাকি দুটি প্রকল্পও বাদ দেওয়ার কারণ একই।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক বলেন, বাতিলের প্রস্তাবে থাকা প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থ দিতে রাজি ছিল। কিন্তু অর্থ না পাওয়ায় এখন বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে রেলওয়ে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পরিকল্পনামন্ত্রী স্বাক্ষর করলে এডিপি থেকে এসব প্রকল্প বাতিল হয়ে যাবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.