প্রথমবার সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের গড় সুদহারপ্রথমবারের মতো সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে ব্যাংক ঋণের গড় সুদহার।







 গত নভেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগে ভিন্ন-ভিন্ন খাতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণ হলেও গড় সুদহার সব সময় ১০ শতাংশের বেশি ছিল। আগের মাস অক্টোবরে ব্যাংকগুলোর ঋণের গড় সুদহার ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। 

বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৭৫ সাল থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ ও আমানতে গড় সুদহারের হিসাব সংরক্ষণ করে আসছে। ওই বছর ঋণের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর আমানতের সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে তখন ঋণ ও আমানতের মধ্যেকার সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর এর আগে ঋণের সর্বনিন্ম সুদহার ছিল ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময় ব্যাংকগুলো গড়ে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছিল। তখন আমানতে সুদহার ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ফলে স্প্রেড ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে ২০১৬ সালের নভেম্বরে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। স্প্রেড নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশীয় পয়েন্টে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম সমকালকে বলেন, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা বলে আসছেন। প্রথমবারের মতো তা কার্যকর হওয়াটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো খবর। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণে এটা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তবে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিতে হবে। আর কম সুদের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে দিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে সুদহার প্রথম ১১ শতাংশের নিচে নেমে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে তা ১৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। পরে আরও বেড়ে ১৯৮৩ সালে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর ১৯৯২ সালের জুনে বেড়ে হয় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। তখন আমানতে সুদ ছিল ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। এতে স্প্রেড দাঁড়ায় ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ২০১২ সালে আবার সুদহার উঠে যায় ১৩ শতাংশের ওপরে। ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই খারাপ পর্যায়ে পেঁৗছে যে, ব্যাংকগুলো নিজেরা বসে ঋণ ও আমানতে সুদহারে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয়। তবে ২০১৪ সালের শুরুর দিক থেকে চাহিদা কমায় ঋণের সুদহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ওই বছরের প্রথম প্রান্তিকের পর ঋণের গড় সুদহার ১২ শতাংশের ঘরে নামে। পরের বছর নেমে আসে ১১ শতাংশের ঘরে। আর ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তা ১০ শতাংশের ঘরে ছিল। নভেম্বরে প্রথমবারের মতো নেমে আসে সিঙ্গেল ডিজিটে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংকের এমডি এম এ সালাম  বলেন, বাজার চাহিদা বিবেচনায় বেশ কিছু দিন ধরে ঋণের সুদহার কমছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদও কমিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি ঋণ গ্রহীতাদের জন্য ভালো হলেও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা ঠকছেন। এতে করে অনেক সঞ্চয়কারী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। ব্যাংকের তুলনায় সেখানে মুনাফা বেশি পেলেও কেউ এর বিপরীতে ঋণ নিতে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদা বিবেচনায় বেশ আগে থেকেই গৃহসহ বিভিন্ন খাতে অনেক ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। বেশ কিছু দিন ধরে ভালো গ্রাহকদের এক অঙ্ক সুদে ঋণ দিচ্ছে। অবশ্য কৃষি ঋণে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সুদহার ১০ শতাংশ থাকলেও অনেক ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিট সুদে কৃষি ঋণ দিচ্ছে। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন খাতে ব্যাংক ভেদে সুদহার এক অঙ্কে থাকলেও সম্মিলিতভাবে সুদহার এক অঙ্কে নামার ঘটনা এই প্রথম। যদিও আলোচ্য মাসেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের গড় সুদহার ছিল ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকে ৮ দশমিক ৩৬, বিশেষায়িত দুই কৃষি ব্যাংকে ৮ দশমিক ৯১ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.