বাংলাদেশের পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বেনাপোলে আটকে আছে পাটপণ্য বোঝাই ট্রাক
প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে দাঁড়িয়ে আছে পাটপণ্যবোঝাই বেশ কিছু ট্রাক। হঠাৎ করে বাড়তি শুল্কের মুখে বন্দর থেকে ট্রাক বুঝে নিচ্ছেন না ভারতের আমদানিকারকরা। এ কারণে টনে সর্বোচ্চ ৩৫২ ডলার শুল্ক আরোপের পরদিন শুক্রবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত গত চার দিনে মাত্র ৭টি ট্রাক বন্দর ছেড়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০ ট্রাক পাট ও পাটপণ্য ভারতে যায়। 

সাধারণত বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ভারতের আমদানিকারকরা ভারত অংশে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য বুঝে নেন। পেট্রাপোল বন্দর স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী সমকালকে জানান, উচ্চ হারের শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশের পাটপণ্য নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন ভারতের আমদানিকারকরা। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আগে থেকে ঋণপত্র (এলসি) করা পাটপণ্য ছাড় 

করতে দিলি্লর সঙ্গে দেন-দরবার করছেন তারা। 

এদিকে গতকাল সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভারতে সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন রফতানিকারকরা। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পাটপণ্য আমদানিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারতের রাজস্ব বিভাগ। এ বিষয় নিয়ে গতকাল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের কার্গো শাখার কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ  বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পাট ও পাটপণ্য ভারতে রফতানি হয়। শুল্ক আরোপের কারণে গত চার দিনে মাত্র ৭ ট্রাক পাটপণ্য বেনাপোল বন্দর ছেড়ে গেছে। 

পাটপণ্য রফতানিকারকের প্রতিনিধি তৌহিদুর রহমান জানান, অযৌক্তিক উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের কারণে ভারতে পাটপণ্য রফতানি কমে যাবে। এত বেশি শুল্ক দিয়ে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। পাটপণ্যের মোট রফতানির ২০ শতাংশ যায় ভারতে। 

বেনাপোল বন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বছরে প্রায় দুই লাখ টন পাট সুতা, বস্তা ও চট রফতানি হয় ভারতে। এর মধ্যে পাট সুতার পরিমাণ দেড় লাখ টন। বেশির ভাগ পাটপণ্যই বেনাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি হয়ে থাকে। 

কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চান ব্যবসায়ীরা :পাটপণ্যে ভারতের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ চায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করতে অনুরোধ জানাবে মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টির সুরাহা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

গতকাল সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে পাট খাতের ব্যবসায়ীরা সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে আরও ১৩ পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কাঁচা পাট রফতানি বন্ধের যুক্তি দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে পরবর্তী এক মাসের জন্য সব ধরনের কাঁচা পাট রফতানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এ সময়সীমা পার হওয়ার আগেই গত ২ ডিসেম্বর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানো হয়। এতে কাঁচা পাটের অভাবে ভারতের পাটপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। তখন ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসুসহ বেসরকারি খাতের রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা। 

সূত্র জানায়, ভারতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডবি্লউটিও) নালিশের পথে যেতে আগ্রহ দেখায়নি বৈঠকে উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি কোনো পক্ষ। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, আপিল কিংবা নালিশে সুরাহা পেতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। বরং রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান আসতে পারে। নেপালের উদাহরণ দিয়ে বৈঠকে বলা হয়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দাহার সরাসরি হস্তক্ষেপে সে দেশের পাটপণ্য আমদানিতে অ্যান্টিড্যাম্পিং শুল্কারোপের পরিবর্তে নামমাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছে ভারত।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.