শেয়ারবাজারের লেনদেন বাড়ছে; এটি নতুন খবর নয়।



 ১৫০০ কোটি টাকা লেনদেন পাঁচ বছর পর


 কেননা গত তিন সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দৈনিক গড়ে হাজার কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর হলো গতকাল সোমবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) একদিনে স্বাভাবিক লেনদেন (ব্লক লেনদেন ছাড়া) দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দুই শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হয় ১ হাজার ৫২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার, যা পাঁচ বছর পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ২০১১ সালের ২৮ জুলাই। তবে গত ২৩ নভেম্বর খুলনা পাওয়ারের ৮২৬ কোটি টাকারও বেশি ব্লক লেনদেন নিয়ে দুই বাজারের শেয়ার লেনদেন ১ হাজার ৫২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ছাড়িয়েছিল।

গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ও সিএসইতে কেনাবেচা হয় ৭৮ কোটি টাকার শেয়ার। 

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন প্রায় প্রতিদিন ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারী বাড়ছে। বাড়ছে নতুন বিনিয়োগ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেনদেন ও শেয়ারদরও বাড়ছে। অন্যতম প্রধান মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট দিনের লেনদেন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তাতে লেনদেনে অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গতকাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সর্বাধিক ভূমিকা ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের। ডিএসইতে এ খাতের ২৮ কোম্পানির মোট ১৯২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গত রোববারের তুলনায় প্রায় ৯৪ কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া জ্বালানি ও শক্তি খাতের ১৮ কোম্পানির লেনদেন সাড়ে ৯১ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বস্ত্র খাতের লেনদেন সাড়ে ৫ কোটি টাকা বেড়ে ১৭১ কোটি ২০ লাখ টাকা হয়েছে। অন্য সব খাতের কম বেশি লেনদেন বাড়লেও ব্যাংক খাতের লেনদেন ১৮ লাখ টাকা কমেছে। গতকাল এ খাতের ৩০ কোম্পানির লেনদেন সামান্য কমে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় নেমেছে। অবশ্য বরাবরের মতো প্রকৌশল খাত ছিল খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে। এ খাতের ৩৩ কোম্পানির আরও সাড়ে ৬৭ কোটি টাকার লেনদেন বেড়ে ২৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। খাতওয়ারি লেনদেনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচাও বেড়েছে। গতকাল ৪৩ কোম্পানির ১০ কোটি টাকার ওপর শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। রোববার এ সংখ্যা ছিল ২৩টি। সর্বাধিক বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) কোম্পানির ৫৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর পরের অবস্থানে থাকা ডেসকোর ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকার, বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার, অ্যাকটিভ ফাইনের ২৯ কোটি ২৪ লাখ টাকার, সিঙ্গার বাংলাদেশের ২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

এদিকে লেনদেনের পাশাপাশি গতকাল দুই বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের বাজারদরও বেড়েছে। ডিএসইতে ১৯০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৪টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত থেকেছে ২২টির দর। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে এদিন ১৪৫ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ডের দর বেড়েছে, কমেছে ৯৫টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ২৫টির দর। এতে ডিএসইএক্স সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫১১৯ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ৯৫৩৬ পয়েন্টে উঠেছে।

গতকাল অন্তত ১৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির থাকায় অন্তত ৮টি কোম্পানির শেয়ারের বিপুল পরিমাণ শেয়ারের ক্রয় আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতা শূন্য ছিল। কারণ যাদের কাছে ওই শেয়ার ছিল, তারা আগামীতে শেয়ারগুলোর আরও বেশি দর পাওয়ার আশা করছেন। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলো হলো_ আইসিবি, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আরামিট সিমেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, দুলামিয়া কটন, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল টি, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিডি ওয়েল্ডিং, বিচ হ্যাচারি, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, ইমাম বাটন, ম্যাকসন্স স্পিনিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, শমরিতা হাসপাতাল এবং সোনারগাঁ টেক্সটাইল।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.