গত ৬ নভেম্বর চিনি কলের জমি উদ্ধারের নামে সাঁওতালদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর বর্তমান দুর্দশার এমন কথা জানান মাদারপুর গ্রামের মিনতি কিসকু। ‘রাতের কুয়াশায় শাড়ি কাপড় ভিজে বৃষ্টির ফোঁটার মতো টপ টপ করে গায়ে পানি পড়ে। তারই উপর ঠাণ্ডা বাতাসে শরীর শিউরে ওঠে।’

 চিনি কলের জমি উদ্ধারের নামে সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন - কলাপাতার ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে সাঁওতালরা

ঘটনার পর নানাভাবে প্রতারণার শিকার নিঃস্ব সাঁওতালরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে কলাপাতার ঘর বানিয়ে সেখানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। শীতের কারণে বৃদ্ধ ও শিশুরা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।

জয়পুর সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা রুবিনা মার্ডী জানান, কলাপাতা দিয়ে বানানো ঘর কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। একারণেই তারা এখন মাদারপুর আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গাছের নিচে শাড়ি কাপড় দিয়ে বানানো ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, গত এক মাস ধরে এভাবে থাকতে থাকতে সাঁওতাল পল্লীর অধিকাংশ মানুষ এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এক মাস হয়ে গেল, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তাদের আরো কতদিন এভাবে থাকতে হবে, এ চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে উঠছেন তিনি।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতাল পল্লীতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক মাস পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার। কিন্তু সাঁওতালদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দিন দিন তাদের দুঃখ, দুর্দশা বেড়েই চলেছে।

 চিনি কলের জমি উদ্ধারের নামে সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন - কলাপাতার ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে সাঁওতালরা

গত ৬ নভেম্বর আখ কাটার নাম করে এসে রংপুর চিনিকলের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সাহেবগঞ্জ সাঁওতাল পল্লীতে হামলা চালায়। এ সময় তারা লুটপাট করে নেওয়ার পর সাঁওতালদের প্রায় আড়াই হাজার একচালা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রোমেশ সরেন নামে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন।

এদিকে, সাঁওতালদের বর্তমান দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে সেখানে সাংবাদিকদের যেতে দিচ্ছে না স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের লোকজন। নতুনবার্তা নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি তৌফিকুর রহমান এমন অভিযোগ করেন।

 চিনি কলের জমি উদ্ধারের নামে সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন - কলাপাতার ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে সাঁওতালরা

তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে সংবাদ সংগ্রহে ওই এলাকায় যান। এ সময় চেয়ারম্যান বুলবুলের লোকজন তাকে বাধা দেয়। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও চেয়ারম্যান বুলবুলের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.