দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী শঙ্কট কাটিয়ে উঠলেও মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পাশে দলটির সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় বিএনপির পরিচিত মুখের নেতাদের দেখা নেই।

শঙ্কট কাটিয়ে উঠলেও মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পাশে বিএনপির পরিচিত মুখের নেতাদের দেখা নেই

এরই মধ্যে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ উঠেছে, জেলা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিচিত মুখের নেতাদের কারও ভাই ও ছেলে কাউন্সিলর প্রার্থী। তাই স্বজনদের নির্বাচন নিয়েই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন তারা।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউছার আশা ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মো. সাদরিল ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী।

এদিকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে জেলা যুবদলের আহ্ববায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্ববায়ক আবুল কাউছার আশা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা কেউ ছেলের, কেউ ভাইয়ের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদের সদস্য হওয়ায় একা একাই নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করতে হচ্ছে বিএনপি থেকে মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে।


প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। যিনি নারায়াণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আপনার চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন কিনা? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। এরই মধ্যে আমরা ২৭টি ওয়ার্ডের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছি, সেখানে বিএনপির সবাই উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অফিসে ২৭টি ওয়ার্ডের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা মহানগর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়ার পরেও নতুন মেয়র প্রার্থীর পাশে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের না দেখতে পেয়ে, দলের এই কোণঠাসা অবস্থায় স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভের কথা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে জানালে পরিবর্তন ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এসব মনগড়া কথা। নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির বৈঠকে আমি সেই বিকেল থেকেই উপস্থিত রয়েছি। আর আমার ভাইয়ের নির্বাচন এখানে কোনো বিষয় না। আমার ভাই অনেক আগে থেকেই কমিশনার হয়ে আসছে। এবারও হবে। যারা এসব কথা বলছেন তারা অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে বলছেন।’

স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভের কথা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে জানালে ব্যস্ততার কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদককে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়াই করতে হবে বর্তমান মেয়র ও ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে। আগামী ২২ ডিসেম্বর এই নির্বাচন হবার কথা রয়েছে।

গতবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি সমর্থন দিলেও নির্বাচনের আগের রাতে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপি তৈমুর আলমকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার তিনি দলের মনোনয়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত সরাসরি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বাদেও আরো ৬ জন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.