চলছে বিয়ের মৌসুম। এ সময় ঘিরে হবু কনেদের নিতে হচ্ছে নানা প্রস্তুতি।সবার জীবনে বিয়ের শানাই একবারই বাজে। তাই প্রতিটি নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাজসজ্জা হচ্ছে বিয়ের সাজ। যার ছবি কাঠের ফ্রেমে স্মৃতি হয়ে থাকবে সারা জীবন।



সব কনেরই চেষ্টা থাকে যেন স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাজের কোনো অপূর্ণতা না থাকে। এ জন্য খেয়াল রাখা প্রয়োজন সাজসজ্জার অনেক বিষয়েই। পোশাকটা কেমন হবে, কী রঙের হবে, সাজটা কোন ধাঁচের হবে, গহনার ধরন কেমন হবে। এ বিষয়ে রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান বলেন, বর্তমানে থিমভিত্তিক বিয়ের সাজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট একটি রঙের ওপর ভিত্তি করে বর-কনের পোশাকসহ বিয়ের সব অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা বেশ আকর্ষণীয় করে তোলে। তিনটি অনুষ্ঠানকে মাথায় রেখেই বিয়ের সাজে পরিবর্তন আসে। গায়ে হলুদ, বিয়ে ও বৌভাতের সাজকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে যেমন ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্র্যাডিশনে। কনের একেক অনুষ্ঠানে একেক লুক দিতেই সাজে আনা হয় এই ভিন্নতা। তিনটি লুকের মধ্যে ট্র্যাডিশন লুকে চোখের ওপর বেশি কাজ করা হয়। ঠোঁট গাঢ় লাল করা হয়। চুল ফুলিয়ে ট্র্র্যাডিশনাল লুক তৈরি করা হয়। বিয়ের সাজে কনের পোশাক ও গহনার ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ।

শাড়ির দাপটে 

মূলত কনের শাড়ির রঙ এবং ধরনের ওপর মেকআপ নির্ভর করে। যে রঙের শাড়ি মূলত সেই রঙের চোখের সাজ বা তার কন্ট্রাস্ট মেকআপ হতে পারে। আর হালফ্যাশনে আগাগোড়া ম্যাচিং দেখতে ভালোও দেখায় না। কানিজ আলমাস খানের ভাষায়, 'আমি সবসময় খেয়াল রাখি, বিশেষ এই দিনটিতে যেন কনেকে সবচেয়ে স্পেশাল দেখায়। বিয়ে মানেই ট্রেন্ডি লুক। আগের দিনের বিয়ের একমাত্র পোশাক ছিল লাল বা মেরুন বেনারসি। এখন বিয়ের শাড়ি কিন্তু নির্দিষ্ট রঙে থেমে নেই। বিভিন্ন রঙের শাড়ি এখন বিয়েতে পরা হচ্ছে। লাল মেরুনের সঙ্গে যোগ হয়েছে গোলাপি, আকাশি, সবুজ, নীল, সোনালি ও সাদা রঙ। শাড়ির ধরনের ভেতর আছে টাঙ্গাইলের জমকালো শাড়ি, জামদানি, মিরপুরের কাতান ও বেনারসি। বাহারি রঙের শাড়ির পাশাপাশি বিয়েতে ড্রেসও পরছে এখন। যেমন লেহেঙ্গা, গাউন পরেও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন অনেকে। তবে বেনারসি হলো আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য। ক্লাসি আর ট্রেন্ডি লুকের জন্য লাল বেনারসির তুলনা নেই। কিন্তু বিয়ে যেহেতু আপনার, তাই যে কোনো শাড়ি পরতে পারেন নিজের ইচ্ছামতো। রঙও পছন্দ করুন নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে। শাড়ি বা ড্রেস পছন্দমতো হলে তখন চিন্তা মেকআপ নিয়ে। শাড়ির সঙ্গে মেকআপ যদি মানানসই না হয়, তাহলে তো সাজ পূর্ণ হবে না। কারণ শাড়ির কাজ যদি অনেক বেশি ভারি এবং চকমকে হয় তাহলে সাজ হতে হবে সিম্পল। আবার শাড়ি যদি সাদাসিধে বেশি গর্জিয়াস না হয়, সে ক্ষেত্রে সাজ ও গহনা একটু গর্জিয়াস হলে বেশি মানানসই লাগবে। 

সাজের বেলায় 

সাজ শুরুর আগে কনের আইব্রো প্যাক করে একটি প্যাক লাগানো হয়, যাতে করে বিয়ের ভারি মেকআপ সহজেই বসে যায়। আর শীতের কারণে যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়ে যায়, তাই আগে লোশন দেওয়া জরুরি। এরপর ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে চোখের নিচে কনসিলার লাগান। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন দিন সারা মুখে। এক শেড হালকা রঙের ফাউন্ডেশন দিন গালে, কপালের মাঝে, থুতনি ও নাকের ওপরের অংশে। ডার্ক কালারড ফাউন্ডেশন দিয়ে কন্টোরিং করুন চিকবোন, নাকের দু'পাশ ও গালের যে কোনো ফোলা অংশে। গালে লাগান ব্রাউন ব্লাশন। ব্রাইডাল সাজে উজ্জ্বলতা আনতে এটি খুবই জরুরি। আইব্রো পেন্সিল দিয়ে সূক্ষ্ম রেখায় আইব্রো আঁকতে হয়। গ্রে ও বল্গ্যাক শ্যাডো লাগান। আইব্রোর ঠিক নিচে হাইলাইট করতে পারেন গোল্ডেন আইশ্যাডো বা হাইলাইটার দিয়ে। মডার্ন লুকে কনের সাজে স্মোকি ভাব ফুটিয়ে তোলা অথবা ফিশকাট করা হয়, যা এ সময়ের কনেদের বেশ পছন্দের। কনের ফিউশন সাজে যাদের চোখ ছোট তাদের চোখের শেপে পরিবর্তন আনা হয়। চোখ বড় করিয়ে দেখানো হয়। তাই দেখতেও ভালো দেখায়। এই সাজে ঠোঁটের সাজকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এখন কনের চুলের নানা সাজ। কনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আকর্ষণীয় হেয়ার স্টাইল খুব প্রয়োজন। কপাল যাদের বড় তাদের মাঝখানে সিঁথি ভালো দেখায় না তাদের সাইড সিঁথিতেই মানায় আবার ছোট উল্টো সিঁথি ভালো লাগে। চুল সামনে থেকে পাফ করে পেছনে নানা ডিজাইন করা হয়। সুন্দর চুলের স্টাইলে এখন যোগ হয়েছে নানা জুয়েলারি। টিকলি, টায়রা দিয়ে চুলের সৌন্দর্যের মাত্রাকে বহুগুণে বাড়ানো হচ্ছে। সামনে এবং পেছনে নানা ডিজাইনের এসব জুয়েলারিতে কনেকে অনেক সুন্দর দেখায়। আর এর সঙ্গে খোঁপায় তাজা ফুল তো আছেই। অন্যদিকে পুরো হাতজুড়ে কনুই পর্যন্ত যদি মেহেদি দেওয়া থাকে সে ক্ষেত্রে একটি প্রমিনেন্ট লুক আনতে বেজ না দিয়ে শুধু শিমার দিলে মেহেদিকে আরও বেশি দেখায়। আর মেহেদি দিতে না চাইলে নেলপলিশ দিয়ে সাজ এবং শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন কালারের স্টোন দিয়েও সাজানো যেতে পারে। নখে নেলপলিশ অথবা নেল পেইন্ট করা হয়ে থাকে কনের ইচ্ছা অনুযায়ী। 

গহনার আধিপত্য 

সাজের খাতিরে কনের গহনার তালিকা হওয়া চাই পরিপূর্ণ। যেন দূর থেকে দেখেই কনে নিশ্চিত হয়। সাজে থাকতে হবে নেকলেস, কানের দুল, আংটি, চুড়ি-বালা, নূপুর, টায়রা, টিকলি, নোলক। আধুনিক বিয়েতে যদিও এর বেশিও যোগ করতে দেখা যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। তবে এই ক'টি যেন না হলেই নয় কনে সাজে। স্বর্ণের গহনা যে কোনো শাড়ির সঙ্গেই ভালো লাগে। তাই এর প্রাধান্যটাও থাকে সব সময়। কিন্তু এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিজাইনের পুঁতিকেই সাজানো হয় সোনার বর্ডার দিয়ে। রুপার গহনা এখন বেশ ট্রেন্ডি এবং স্টাইলিশ। অলঙ্কারের ডিজাইন আরও বেশি চমকপ্রদ এবং আরও বেশি ট্রেন্ডি, স্টাইলিশ করার খাতিরে ডায়মন্ড, সোনার ব্যবহারের সঙ্গে চলে আসে রাবার, পল্গাস্টিক, ফেব্রিকের ডেকোরেশন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের ডিজাইন রুচি। গহনার নির্দিষ্ট অংশে ডায়মন্ডের ব্যবহারে সাজানো যেতে পারে পছন্দের ডিজাইন। আধুনিক গহনায় বিশদে দেখা মেলে মুক্তা, রুপা বা অন্য ম্যাটেরিয়ালের পুঁতির কাজ। 

কনের গহনার ডিজাইন হওয়া চাই ঐতিহ্যবাহী মোটিফের মধ্যে ট্রেন্ডি স্টাইলের। গহনায় থাকতে হবে বিয়ের লুক, হতে হবে ফ্যাশনেবল। ট্রেন্ডি ডিজাইনের বিয়ের অলঙ্কারে সরাসরি সোনার ঢালাই কাজ অথবা ডায়মন্ড দিয়ে ভর্তি চকচকা কাজ কমই দেখা যায়। সময়ের ডিজাইন পরিপূর্ণ হয়েছে পাঁচ মিশালি ম্যাটেরিয়ালের ভিন্ন ভিন্ন মোটিফে। নেকলেসের মোটিফে দেখা যায় ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা দুইয়ের মিশ্রণ। কানের দুল, টায়রার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে ডিজাইনের আকারে। আংটি, বালার ডিজাইনের নকশার ব্যাপকতা কমই দেখা যায় এখন। নূপুর, টিকলিতেও দেখা যায় ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার ছোঁয়া। আধুনিক বিয়ের গহনার ডিজাইনে সবচেয়ে পরিবর্তনের নাম রঙ। স্বর্ণ, ডায়মন্ডের সঙ্গে গহনাতে দেখা মেলে এখন লাল, সবুজ, রূপালি রঙের পুঁতি, রাবার, ফেব্রিকের মিশ্রণ। যা ডিজাইনে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

তবে দিন বুঝে পরিবর্তন আসবে গহনার রঙের। সে ক্ষেত্রে বিয়ের দিনের অলঙ্কার হতে হবে ঐতিহ্যবাহী, জমকালো এবং দারুণ স্টাইলিশ। বৌভাত অনুষ্ঠানের গহনা হোক আরেকটু ছিমছাম এবং হালকা-পাতলা।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.