পুরাতচি থালাইভি অর্থাৎ বিপ্লবী নেত্রী৷ এই নামেই তাকে ডাকতেন অনুরাগীরা। কারণ লড়াই করেই তামিলনাড়ুর মসনদে বসেছিলেন জয়ললিতা। অভিনেত্রী থেকে হয়ে উঠেছিলেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ।





 রিল লাইফের সুন্দরী নায়িকা থেকে রিয়েল লাইফে ৬ বার মুখ্যমন্ত্রী। বিতর্ক এবং জনপ্রিয়তা - এ দু'টো বিষয় জয়াললিতার পাশাপাশি হেঁটেছে। মানুষের আশীর্বাদে রাজনীতির লড়াইয়ে বার বার জয়ী হলেও জীবনের লড়াইয়ে হার মানতে হলো তাকে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়রামন জয়ললিতার জীবনাবসানে শেষ হল দ্রাবিড় রাজনীতির এক বর্ণময় অধ্যায়।

১৯৬০ ও ৭০'র দশকে দক্ষিণ ভারতের ডাকসাইটে অভিনেত্রী ছিলেন জয়াললিতা। তামিল, তেলেগু এবং কানাডা ভাষায় বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন জয়াললিতা। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের চলচ্চিত্রের নায়কদের রাজনীতিতে আসার উদাহরণ আছে। কিন্তু সিনেমার নায়িকারা যে রাজনীতিতে এসে সফল হতে পারে, জয়াললিতা তার উদাহরণ।

একশো চল্লিশটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ফিল্মি ক্যারিয়ারে ইতি টেনে এমজি রামচন্দ্রনের হাত ধরে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে ৬ বার শপথ গ্রহণ করেন। রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রীর সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন জয়াললিতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়াললিতাকেই তার দল এআইডিএমকে'র নেতা-কর্মীরা অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে মেনে নেয়।

১৯৯১ সালে প্রথম তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জয়াললিতা। রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিসেবে জয়াললিতার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ যেমন উঠেছে তেমনি দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন।

জয়াললিতা একবার বলেছিলেন, 'কখনো আমি নিজের আবেগ প্রকাশ্যে দেখাই না। সবার সামনে কখনো রেগে যাইনি বা কাঁদি নি। অথচ রাজনীতিতে আসার আগে আমি এমন ছিলাম না। খুব লাজুক ছিলাম। অপরিচিতদের সামনে আসতে চাইতাম না।আমার কাজ দেখে মানুষ আমাকে খুব কড়া স্বভাবের মনে করে। তবে আমি কখনো নিজে ইচ্ছা করে কড়া হতে চাই নি।'

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করলেও জাতীয় প্রেক্ষাপটেও জয়াললিতার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বহুবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জয়াললিতার সমর্থনের ভরসায় টিকে ছিল।

তামিলনাডু বিধানসভাতেও বিরোধী দলকে রীতিমতো দাবিয়ে রাখতেন জয়াললিতা। তবে ২০১৪ সালে কর্ণাটকের একটি বিশেষ আদালত তার আয়ের সাথে সংগতিহীন সম্পদ অর্জনের পুরনো একটি দুর্নীতির মামলায় তাকে চার বছরের সাজা দিয়েছিল। ভারতের কোন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর জেলে যাবার ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম।

কিন্তু তামিলনাডুতে জয়াললিতার জনপ্রিয়তায় কোন চিড় ধরেনি। গরীবদের ঘরে-ঘরে রঙ্গিন টেলিভিশন, মিক্সার গ্রাইন্ডার মেশিন দেবার প্রকল্প এবং সস্তায় গরীবদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করে দেয়া তাকে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছিল।

মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ভরতনাট্যমে তালিম নিয়েছেন তিনি৷ স্কুল-টপার ছিলেন জয়ললিতা৷ দশম শ্রেণিতে জিতেছিলেন গোল্ড স্টেট অ্যাওয়ার্ডও৷ কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সে মায়ের জোরাজুরিতেই সিনেমায় নামতে বাধ্য হন তিনি৷ নিজের প্রথম ছবি নিজেই দেখতে পাননি জয়ললিতা৷ কারণ তা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছিল৷ তিনিই প্রথম তামিল অভিনেত্রী হিসেবে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে সিনেমার পর্দায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন৷ সিনেমায় অভিনয় করাকালীন বিবাহিত অভিনেতা শোবান বাবুর প্রেমে পড়েন৷ কিন্তু দু’জনে কখনও বিয়ে করেননি৷

ইংরাজি সাহিত্য পড়তে ভালবাসতেন আম্মা৷ যেখানেই যেতেন বই সঙ্গে নিয়ে যেতেন৷

তামিল অভিনেত্রী হিসেবে তার ঝুলিতেই সবচেয়ে বেশি সিলভার জুবিলি সিনেমার রেকর্ড রয়েছে৷ তামিল ভাষাতেও স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন তিনি৷ তামিলে বইও বেরিয়েছে তার৷ নিয়মিত লেখক ছিলেন ‘থাই’ নামের তামিল সাপ্তাহিকে৷ তার প্রয়াণে ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বর্ণময় এবং প্রভাবশালী চরিত্রদের একজন বিদায় নিলেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.