হেমন্তের মাঝামাঝি, শীতের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর সেইসঙ্গে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে বিয়ের আয়োজন। প্রতিদিনই সন্ধ্যায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দেখা যায় রঙিন এলইডি লাইটের নজরকাড়া সৌন্দর্য আর এলাকার কনভেনশন হল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সকাল-বিকাল বিয়ের অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতা। 





বাঙালি বিয়ে মানেই বিরাট উৎসব। আর এই উৎসবের প্রথম ধাপ হলো গায়ে হলুদ। সাধারণত আজকাল সব হলুদের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়। গায়ে হলুদের দিন কনেকে গাঢ় হলুদ রঙের শাড়িতে বেশি মানায়। হালকা কমলা রঙের শাড়িও ভালোই চলে কনের হলুদের অনুষ্ঠানে। তবে হাল আমলে হলুদের শাড়িতে এসেছে নানা রকম পরিবর্তন। বিভিন্ন বিয়েতে হলুদের অনুষ্ঠানে কনেকে হলুদ ছাড়াও লাইট পার্পাল, সবুজ, মেজেন্টা রঙের শাড়িও পরতে দেখা যাচ্ছে। তবে বাঙালি বিয়ে বলে কথা, তাই অন্য রঙের শাড়ির চেয়ে হলুদ অথবা কমলা রঙের শাড়িও কনেকে বেশি মানাবে। বরের স্টেজে ওঠার আগে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে নেওয়াই ভালো, চাইলে বিভিন্ন স্টাইলে দাড়ি রাখতে পারেন। তবে সেটা যেন হয় মার্জিত। হলুদের স্টেজে ওঠার আগে বর-কনের বেশ কিছু প্রস্তুতি আছে। ভালো করে ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। স্টেজে ওঠার আগে কনেকে করে নিন লাইট মেকআপ। চোখের শ্যাডোগুলো মনমতো রাঙিয়ে নিতে পারেন নিজেই। যদি হলুদের সাজ পার্লার থেকে নিয়ে থাকেন, তাহলে তারাই আপনাকে অনুষ্ঠানের উপযোগী করে সাজিয়ে দেবে। হলুদ অনুষ্ঠানে গহনা পরার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেটালের গহনা পরিহার করে ব্যবহার করুন ফুলের তৈরি গহনা। আজকাল ফুলের দোকানে অর্ডার দিলে পুরো গহনার সেট তৈরি করে দেয়। এ ছাড়া কাপড়ের তৈরি কৃত্রিম ফুলের গহনাও আজকাল বেশ চলছে। দোকান থেকে শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা কিনে নিতে পারেন অথবা নিজে ডিজাইন করে সেই গহনাগুলো অর্ডার করতে পারেন। 

স্টেজ

আগে দর্শনধারী, তারপর গুণ বিচারী। এ রকম একটা উক্তি অনেক আগেই প্রচলিত। তাই হলুদের স্টেজ হওয়া চাই জমকালো। আজকাল বিভিন্ন ইভেন্ট প্ল্যানার আছে, তাদের কাছে অর্ডার করলেই ক্যাটালগ থেকে আপনার পচ্ছন্দ মতো স্টেজ তৈরি করে দেবে। যদি নিজেরাই স্টেজের ডিজাইন করতে চান তাহলে বিভিন্ন ফুল যেমন : রজনীগন্ধা, গাঁদা, বিভিন্ন রঙের গোলাপ, গ্গ্নাডিওলাসসহ বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন হলুদের স্টেজ। তবে খেয়াল রাখতে হবে স্টেজটা যেন একটু বড় হয়। তাহলে বর অথবা কনের সামনের জায়গা বেশি পাওয়া যাবে এবং সেখানে ডেকোরেটেড ফুড আইটেম রাখতে পারবেন। আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো বর অথবা কনের জন্য ফ্লোরিং বসার ব্যবস্থা না করে আরামদায়ক সোফা ব্যবহার করুন। তাহলে বর-কনের অনেকক্ষণ বসে থাকার কষ্ট কম হবে।

হলুদের সাজ ও পোশাক

বাঙালি বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই বিশেষ কিছু। আর বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই হলুদ। এই হলুদের দিনে পোশাকটা পুরনো ঐতিহ্য মেনে পরলেই বেশি মানাবে। আগেকার হলুদের অনুষ্ঠানে হলুদ অথবা কমলা রঙের শাড়ির চল বেশি দেখা যেত। এবং এখনও ঠিক তেমনটিই আছে। তবে কিছুটা পরিবর্তনও এসেছে শাড়ির রঙে। এখন হলুদ, মেরুন, সবুজ, বেগুনি রঙের শাড়ি অথবা বিভিন্ন রঙের কম্বিনেশনে ব্লক, প্রিন্ট অথবা জামদানি শাড়ি ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এক প্যাঁচের বিশেষ স্টাইলে শাড়ি পরে ফেলুন। চাইলে শিফনের অথবা টিস্যুর ওড়না মাথাতে জড়িয়ে নিন। আর হ্যাঁ, হলুদের আগের রাতে, হাতে মেহেদি রাঙাতে যেন ভুল না হয়। আর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী হাতে রাখি পরে নিন। বিভিন্ন ডিজাইনে হাতে মেহেদি দিতে পারেন অথবা ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা ডিজাইনে অর্থাৎ আঙুলের মাথা ভরাট করে হাতের তালুতে মেহেদি পেস্ট দিয়ে গোল সূর্য এঁকে নিতে পারেন।

বরের হলুদের পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি ব্যবহার করতে পারেন। তবে কনের শাড়ির সঙ্গে বরের পাঞ্জাবি মিলিয়ে কিনলে সেটা বেশি ভালো হয়। অথবা পছন্দ মতো এমব্রয়ডারি করা স্টাইলিশ পাঞ্জাবি ব্যবহার করতে পারেন। আর মানানসই পায়জামা অথবা চুড়িদার পরতে পারেন হলুদে। আর পায়ে থাকবে চামড়ার জুতা। সেলুন অথবা জেন্টস পার্লার থেকে চুল ছাঁটিয়ে আর দাড়ি-গোঁফ সেভ করতে যেন ভুল না হয়।

হলুদের তত্ত্ব : গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বর-কনে উভয় পক্ষের বাড়িতে বরণ ডালা সাজিয়ে পাঠানো হয়।

গায়ে হলুদে পাঠানো হয় ডালা, কুলা, মিষ্টি, পান-সুপারি, মাছ ও পরিবারের বৃদ্ধদের কাপড়। গায়ে হলুদের মাছ সাজানো হয় বর-কনের মতো; একটি মাছকে বর এবং অন্যটিকে কনের মতো করে সাজানো হয়।

গায়ে হলুদের পোশাক কেমন হবে, তার ওপর ভিত্তি করে হলুদের কুলা-ডালা সাজানো হয়। গায়ে হলুদের শাড়িটাকে ঘোমটা দেওয়া কনের মতো সাজানো হয়। গায়ে হলুদের মাছের ও পোশাকের ডালা সেলোফেন পেপার এবং নানা রঙের নেটের কাপড় পেঁচিয়ে চারপাশে সোনালি রঙের ফিতা দিয়ে বেঁধে সাজানো হয়।

বরের ডালায় গায়ে হলুদে যা দেওয়া হয় : বরের পোশাক, জুতা, টুপি, সুগন্ধি, ফেসওয়াশ, সেভিং ফোম, রেজর, ক্রিম, কটন, বাডস, সাবান, শ্যাম্পু, তোয়ালে, পাউডার, চিরুনি, আয়না, টুথপেস্ট, ব্রাশ, বডি স্প্রে, জরির মালা, স্যান্ডো গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া, রুমাল, মোজা, জায়নামাজ, তেল, হলুদবাটা, চন্দন, রাখি, ফল ইত্যাদি। কনে পক্ষের লোকজনই বরের বরণ ডালা সাজায়।

কনের ডালায় যা দেওয়া হয় : পোশাক, আন্ডার গার্মেন্টস, লিপলাইনার, মাশকারা, কাজল, আইব্রো পেনসিল, নেলপলিশ, নেলপলিশ রিমুভার, পারফিউম, সাবান, শ্যাম্পু, পারফিউম, ফেসওয়াশ, আয়না, চিরুনি, পেস্ট ব্রাশ, তেল, ক্রিম, মেকআপ বক্স, লিপস্টিক, খোঁপা, লিকুইড ফাউন্ডেশন ক্লিপ, সেফটিপিন, চুড়ি ইত্যাদি।

হলুদের আপ্যায়ন 

গায়ে হলুদের আপ্যায়নে কাচ্চি বিরানি বা চিকেন বিরানির সঙ্গে টিকিয়া কাবাব দিতে পারেন। খাবারের শেষে ফিরনি বা মিষ্টির ব্যবস্থা রাখতে পারেন। গায়ে হলুদে বর ও কনের সামনে নানা পদের ফল ও ফল দিয়ে তৈরি ডিজাইন করে সাজানো বিভিন্ন আইটেম রাখা হয়। মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় নানা পদ ও পিঠা রাখা হয়। গায়ে হলুদের আপ্যায়নের সবচেয়ে পুরনো রেওয়াজ হচ্ছে পান। পান খেয়ে ঠোঁট লাল করার রেওয়াজ রয়েছে। ঢাকার ধানমণ্ডিতে ৪ নম্বর রোডে বাহারি পানের দোকান রয়েছে। ইসলামপুর ও মিরপুর-১১ নম্বরে পানের দোকান রয়েছে। ওখান থেকে পান কিনতে পারেন। পানের মূল্য ২০ থেকে ২০০ টাকা। গায়ে হলুদের অন্যতম রেওয়াজ হচ্ছে মিষ্টি পরিবেশন। অনেকে শীতকালে গায়ে হলুদে পিঠা কিনতে পারেন গুলিস্তানের পিঠাঘর এবং বংশালের দিলুর পিঠাঘর থেকে।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.