মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় নাফ নদীতে সোমবার ভোরে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবে গেছে।





 নারী-শিশুসহ চার রোহিঙ্গাকে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করেন। তবে ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে উদ্ধার রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

 উদ্ধার হওয়া মংডুর বড়গজি বিলের মৌলভী মো. সেলিমের স্ত্রী রেহেনা বেগম সমকালকে জানান, তারা ৩০ জন ভোরে একটি নৌকায় নাফ নদী পার হচ্ছিলেন। নৌকাটি কিছু দূর আসার পর একদিকে হেলে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালান তিনি। এই অবস্থায় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে টেকনাফে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, 'আমি ও আমার এক বোন এবং দুই শিশুকে জেলেরা উদ্ধার করেছেন। বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে জানি না।'

ওই নৌকায় চার দালালও ছিল বলে জানান রেহেনা বেগম। তাদের দুজন হলো ইসমাইল ও হাসিম। অন্যদের নাম জানাতে পারেননি তিনি।

টেকনাফের হ্নীলা নাটমুরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জেলে আশিষ দাস বলেন, 'সকাল ৭টার দিকে নাফ নদীর মাঝখানে এক নারীর চিৎকার শুনতে পাই। এ সময় একটি নৌকা এগিয়ে এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে।'

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হ্নীলার জাদীমুরা গ্রামের একটি দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করছে। তারাই মংডুর রাইম্যাপাড়া গ্রামের কিছু রোহিঙ্গাকে নৌকায় তুলে সোমবার বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চালায়।

তবে বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, 'নাফ নদী থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত রেহানা প্রথমে নৌকাডুবির কথা বলেছিলেন। পরে তিনি জানান, নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেনি। সাঁতার কেটে তিনি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছিলেন। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'

রোহিঙ্গা বোঝাই চার নৌকা ফেরত

টেকনাফে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় অর্ধশত রোহিঙ্গা বোঝাই চারটি নৌকা মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিয়েছে বিজিবি। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, সোমবার ভোরে রোহিঙ্গা বোঝাই চারটি নৌকা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এগুলোকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজিবির এ বাধার মধ্যেই গত রোববার রাত ও সোমবার ভোরে টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অন্তত তিন শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে।

টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মো. দুদু মিয়া জানান, নাফ নদীতে নৌকাডুবির খবর শুনে অনেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না করে ফিরে গেছেন। তবে সোমবারও শতাধিক রোহিঙ্গা লেদা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। আরও দুই শতাধিক বিভিন্ন স্থানে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ক্যাম্পে দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক মাসে অন্তত ১৭ হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই দুটি ক্যাম্পে আগে থেকেই দেড় লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। বাড়তি মানুষের চাপে ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ছোট-ছোট ঝুপড়ি ঘরে ৩-৪টি পরিবার গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, ক্যাম্পে একেকটি ঝুপড়িতে ১৫-২০ জন গাদাগাদি করে বাস করছে। এ অবস্থায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.