গত বছরের ১ নভেম্বর অটোরিকশার ভাড়া ৬০ ভাগ বাড়ানো হলেও নৈরাজ্য বন্ধ হয়নি। রাজধানীতে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৮৬ শতাংশই আইন ভেঙে চুক্তিতে চলে। বাকী ১৪ ভাগের ১১ ভাগ মিটারে চললেও এর চালকরা 'বকশিশ' দাবি করেন।





 শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয় যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ভাড়া অরাজকতা বন্ধে ৮ দফা সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমিতির ‘গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটি’ রাজধানীর ২৫টি এলাকায় গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৬৬টি অটোরিকশায় ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, ৮৬ ভাগ অটোরিকশা চুক্তিতে চলাচল করছে। যারা মিটারে চলে তাদের ৯৭ ভাগ ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া বা 'বকশিশ' দাবি করছে। যাত্রী পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজী হয় না ৮২ শতাংশ অটোরিকশা।

সমিতির সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মতিঝিল থেকে গুলিস্তান ১০০ টাকা, সদরঘাট থেকে ধানমণ্ডি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কমলাপুর থেকে ফার্মগেট ২০০ টাকা, প্রেস ক্লাব থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। মিটারে যাতায়াত করলে এসব পথে চুক্তিকৃত ভাড়ার ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশে যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারতেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদিত ১৪ হাজার বাণিজ্যিক অটোরিকশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করছে ঢাকা জেলায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৫০টি অটোরিকশা। এছাড়াও গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীতে নিবন্ধিত আরও ৫ হাজার অটোরিকশা চলছে। মিটারবিহীন এসব অটোরিকশা রুট পারমিট ও নীতিমালার শর্ত লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী বহন করছে। ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন বৈধ-অবৈধ মিলে প্রায় ২৯ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে। এর ৫৬ শতাংশ মিটারবিহীন। মিটারবিহীন ১৫ হাজার অটোরিকশা চলে পুলিশ সার্জেন্ট ও সাংবাদিকদের সহায়তায়। এসব অটোরিকশাকে প্রতিমাসে ৮ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকার হলেও অধিকাংশ মালিক দুই বেলায় ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত জমা আদায় করে। গ্যারেজ ভাড়া গিসেবে নেওয়া হয় আরও ৫০ থেকে ৮০ টাকা করে। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা চালকদের ১০ থেকে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। তাই চালকরা মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হন।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জরিপকৃত ১৬ শতাংশ অটোরিকশা চালকের লাইসেন্স নেই। ২২ শতাংশের লাইসেন্স ভুয়া।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম তালুকদার প্রমুখ।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.