পিচঢালা পথ ছেড়ে জলপথে শহরের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষ।





 ঢাকায় যানজটের ধকলে যেখানে নগরবাসীর জান ওষ্ঠাগত; সেখানে সময় লাগছে মাত্র ৮-১২ মিনিট! অবিশ্বাস্য হলেও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত 'স্বপি্নল হাতিরঝিল' প্রকল্পের নতুন উপকরণ ওয়াটার ট্যাক্সিতে মগবাজার, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার এলাকার মানুষ মাত্র ১২ মিনিটে গুলশান ১ নম্বরে পেঁৗছে যাচ্ছে। আর এর অর্ধেক সময় লাগছে রামপুরা কিংবা বাড্ডার বাসিন্দাদের। গত শুক্রবার মহান বিজয় দিবসের দিনে এ সার্ভিস উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা ঝিলের পানিতে চলবে চারটি 'ওয়াটার ট্যাক্সি'। এফডিসি থেকে বাড্ডা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা এবং গুলশান-১ পর্যন্ত ৩০ টাকা।


হাতিরঝিলের স্বচ্ছ পানির বুকে ভেসে চলার বাড়তি বিনোদনের জন্য গতকাল শনিবার সকাল থেকেই যাত্রীর চেয়ে বিনোদনপ্রেমীর উপচেপড়া ভিড় ছিল। হাতিরঝিলের এফডিসি বা বেগুনবাড়ী অংশে ওয়াটার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে উৎসুক জনতা রয়েছে, যারা দেখে আনন্দ উপভোগ করছে, ট্যাক্সগুলো চলতে শুরু করলেই হাততালি দিচ্ছে। দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার পর, ঘাটের বেদিতে প্রবেশের জন্যও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধকেও লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।


টিকিট কাউন্টারের দু'জন বিক্রয় প্রতিনিধি সকাল থেকেই টিকিট দিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মো. শাকিল আহমেদ তুহিন ও মো. সোহেল রানা নামের দু'জন প্রতিনিধি জানান, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাত্রীর চেয়ে বিনোদনপ্রেমীর সংখ্যাই ছিল বেশি। দেখা যায়, ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা করিম গ্রুপের পরিচালক লেফটেন্যান্ট (অব.) শাহ আলমকে কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠার স্থান পর্যন্ত ছোটাছুটি করছেন। যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত ও সময় নিয়ন্ত্রণেও তিনি সচেষ্ট। শাহ আলম সমকালকে জানান, উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল শুরু হয়। বেগুনবাড়ি থেকে মেরুল বাড্ডার যাত্রী স্ট্যান্ডে পেঁৗছাতে সময় লাগছে ৫-৬ মিনিট। তবে বিনোদনপ্রেমীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ট্যক্সির গতি কমিয়ে চলাচল করায় ১০ মিনিট লাগছে।


একটি ওয়াটার ট্যাক্সিতে উঠে তার ইঞ্জিন চালুর পর দেখা গেল যাত্রীদের উল্লাস। যাত্রীরা আনন্দ করছেন, তুলছেন সেলফিও। কেউ কেউ মজার ছলে ট্যাক্সিতে রাখা 'লাইফ জ্যাকেট' পরেছেন। ট্যাক্সির যাত্রী মগবাজারের নিলুফার জেসমিন বলেন, 'এ এলাকায় আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। হাতিরঝিলের আগের রূপ দেখেছি। কিন্তু কখনও ভাবিনি এরকম চিত্র দেখতে পাবো!। সকালে মা আর মেয়েকে নিয়ে এসেছিলাম। আর এখন এলাম খালা আর ছেলেকে নিয়ে।' হাজীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, 'অন্য ধরনের এক অনুভূতি কাজ করছে। ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে মনেই হচ্ছে না; আমি যান্ত্রিক শহরে আছি। আমরা এ রকম ঢাকা চাই।' ট্যাক্সির খুদে যাত্রী সুমাইয়া বলে, 'আমার খুব ভালো লেগেছে।'


ওয়াটার ট্যাক্সির মাস্টার মোহাম্মদ রাসেল বলেন, 'ঘাটে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার কথা থাকলেও ৫ মিনিটও অপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। একটু দেরি হলেই যাত্রীরা হৈচৈ শুরু করে দিচ্ছেন।' মাস্টারের সহকারী মো. রিয়াজ জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেক বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৭টি ট্রিপ দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সামনের সারির ৮টি আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি বোটেই ময়লা ফেলার স্থান রয়েছে। কোনো যাত্রী যেন ঝিলের পানিতে ময়লা না ফেলেন, সে জন্য নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.