উত্তরায় নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজিএমইএ। দিন-রাত কাজ চালিয়ে জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লোর নির্মাণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।






নতুন ভবনে বিজিএমইএর প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে। বর্তমান ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তাদেরও নতুন ভবনে স্থান করে দেওয়া হবে। নির্মাণে সহযোগিতা হিসেবে তাদের কাছে অগ্রিম কিস্তি নেওয়া হচ্ছে। তিনটি ব্যাংক ছাড়া ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তারা সবাই বিজিএমইএর সদস্য। ভবনে কোনো ভাড়াটিয়া নেই।

উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের নয় বিঘা সরকারি খাসজমিতে প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের জায়গা বিজিএমইএকে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ত মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পর বিজিএমইএকে সবুজসংকেত দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) প্রস্তাবিত জমি হস্তান্তরের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যেখানে যা প্রয়োজন, সহযোগিতা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি দেখভাল করছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিজিএমইএর নেতারা।

বিজিএমইএর আর্থিক বিষয়-সংক্রান্ত দায়িত্বশীল সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, তারা হিসাব-নিকাশ করে দেখেছেন, জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ব্যয় ও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিজিএমইএ ভবনের আনুমানিক মূল্য ৪০০ কোটি টাকা। নতুন ভবন নির্মাণেও বড় অঙ্কের ব্যয় হবে। এতে আর্থিক চাপে পড়বেন পোশাক মালিকরা।

সাংগঠনিক কাজকর্মের বাইরে উৎপাদন ও রফতানি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ সম্পন্ন হয় বিজিএমইএ ভবন থেকে। এর মধ্যে পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ব্যবহারের অনুমতি বা ইউপি ইস্যু, কাঁচামাল ব্যবহারের ঘোষণা বা ইইউডি ইস্যু, শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাওয়ার জন্য জিএসপি ফরম ইস্যু ও রফতানিতে নগদ সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তার মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয় এ ভবন থেকে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আদলে শ্রমিক-মালিক মধ্যকার যে কোনো নালিশে সালিশি মীমাংসা, সদস্য কারখানাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা, বিশ্ববাণিজ্যের হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করাসহ উৎপাদন এবং রফতানি-সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা দিয়ে থাকে বিজিএমইএ। এসব কাজে ১৫ তলা ভবনের দুই লাখ ৬০ হাজার বর্গফুটের মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট ব্যবহার করে বিজিএমইএ। বাকি এক লাখ ২০ হাজার বর্গফুট বিক্রি করা হয়েছে।

জানা গেছে, টেরিটাওয়েলসহ তৈরি পোশাকের অন্যান্য খাত বিবেচনায় নিলে রফতানি আয়ের ৮৬ শতাংশ

আসে এ খাত থেকে। সরাসরি ৪৪ লাখ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সোয়া দুই কোটি মানুষ পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাংক-বীমাসহ অর্থকরী অনেক খাতও চলছে একে কেন্দ্র করে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে পোশাক খাতের অবদান এখন ১৩ শতাংশ। সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তিন হাজার ৪২৪ কোটি ডলারের রফতানি আয়ের মধ্যে পোশাকের প্রধান দুই খাত নিট (গেঞ্জিজাতীয় পোশাক) ও ওভেন (শার্ট, প্যান্ট) থেকেই এসেছে দুই হাজার ৮১০ কোটি ডলার। আগামী তিন বছরে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এ আয় পাঁচ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আদালতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জাতীয় উন্নয়নে পোশাক খাতের অবদান এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবেন তারা। যদি বিজিএমইএর এ আবেদন বিবেচনাযোগ্য না হয়, তাহলে অন্তত আরও তিন বছর বর্তমান ভবনে থাকার অনুমতির আবেদন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি। এ জন্য একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি মামলার যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন।

এ মামলায় হাইকোর্টের অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পালন করা মনজিল মোরসেদ বলেন, রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদনের সুযোগ পাবে বিজিএমইএ। যেহেতু রায়ের কপি প্রকাশ করা হয়েছে, সে কারণে কপি সংগ্রহের দিন থেকে তারিখ গণনার প্রয়োজন নেই। গত ৮ নভেম্বর বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে আপিল বিভাগের ৩৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।

ভূমির মালিকানাস্বত্ব না থাকা এবং ইমারত বিধিমালা ও জলাধার আইনভঙ্গের অভিযোগে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে এটি ভেঙে ফেলার রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। গত ২ জুন হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

দুই যুগ আগে ১৯৯২ সালে পূর্ত সচিবের কাছে একখণ্ড জমির জন্য আবেদনের মাধ্যমে বিজিএমইএর নিজস্ব ভবন নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভবনটি উদ্বোধন করেন। এর পর ভবনটি দেশের রফতানি বাণিজ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।



Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.