ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ক্ষমতাশালী রাজনীতিক এবং তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ারাম জয়ললিতা আর নেই। 





সোমবার গভীর রাতে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

 তামিলনাড়ুর 'আম্মা' জয়ললিতার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যু হয়েছে।

বিবিসি জানায়, স্থানীয় সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জয়ললিতার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে। হাসপাতালের বাইরে তখন হাজার হাজার ভক্ত তার সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছিলেন। 'আম্মা'র মৃত্যুর খবর জানার পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জয়ললিতার মৃত্যুর খবর প্রচার করে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই খবরের সত্যতা অস্বীকার করে এবং সেটি গুজব বলে এক বিবৃতিতে জানায়। ওই সময় অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, জয়ললিতা এখনো পর্যবেক্ষেণে রয়েছেন।

বেশ কিছুদিন ধরে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক অভিনেত্রী ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) নেত্রী জয়ললিতা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রোববার বিকেল ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন জয়জলিতা। দ্রুত তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। এরপর থেকে এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু তামিল কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় জয়ললিতার মৃত্যুর কথা জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনলাইন সংস্করণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, 'জয়ললিতার মৃত্যু হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা'।

এর কিছুক্ষণ পরই চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, 'জয়ললিতা এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন'।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের পাশাপাশি জয়া টিভিসহ তামিলনাড়ুর অন্তত তিনটি টিভি চ্যানেল জয়ললিতার মৃত্যুর খবর প্রচার করে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনে কান্নার রোল পড়ে যায়। ভেঙে পড়েন 'আম্মা'র সমর্থকরা। এআইডিএমকে সদরদফতরে অর্ধনমিত করা হয় দলীয় পতাকা। 

পরে এই খবরের সত্যতা অস্বীকার করে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ট্যুইট করে। টুইটে বলা হয়, জয়ললিতা এখনও লাইফ সাপোর্টে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, জয়ললিতার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীরা আগে আগেই বাসায় ফেরেন। অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনে 'আম্মা'র বিপুল সংখ্যক ভক্ত ভীড় করেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।    

গত ২২ সেপ্টেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে চেন্নাইয়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন জয়ললিতা। তারপর অবস্থার অবনতি হয় তার। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর সেরেও ওঠেন কিছুটা। জেনারেল বেডে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। কিন্তু রোববার বিকেলে আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন জনপ্রিয় এ রাজনীতিক। 

১৯৮৪ সালে প্রথম রাজ্যসভায় সদস্যপদ পান জয়া। তখন থেকেই তার রাজনীতি শুরু। অনেকেই মনে করেন, তামিলনাড়ুর বিখ্যাত অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম.জি রামচন্দ্রের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে আসেন অভিনেত্রী জয়ললিতা। 

১৯৮২ সালে প্রথম এআইএডিএমকের সদস্য হন জয়ললিতা। এরপর একে একে এআইএডিএমকের সভাপতি হন তিনি। ১৯৯১ সালে প্রথমবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন জয়ললিতা। তিনি চারবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। নিজের দলের নেতাকর্মী এবং রাজ্যের মানুষ তাকে ‘আম্মা’ বলে সম্বোধন করেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.