গুলশানে বিদেশে লোক পাঠানোর প্রতিষ্ঠানের একটি কার্যালয় থেকে গতকাল শনিবার এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, এজেন্সির মালিকের কাছে ওই ব্যক্তি টাকা পেতেন, যার জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এজেন্সির মালিক।




এয়ার ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয় থেকে লাশ উদ্ধার



মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মকবুল ইসলাম (৫১)। তাঁর বাড়ি মাদারীপুরের হোগলমতিয়ায়। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। গুলশান-১-এর ১৩৬ নম্বর সড়কের ৫/এ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার খোকন এয়ার ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় পুলিশ এজেন্সির কম্পিউটার অপারেটর আশরাফুল ইসলাম, অভ্যর্থনাকারী মরিয়ম আক্তার ও পিয়ন নুরুল আফসারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।


গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, মকবুল মূলত একজন দালাল ছিলেন। গ্রাম থেকে লোকজন নিয়ে এসে রিক্রুটিং এজেন্সিতে দিতেন। অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁদের পাঠাতে না পারায় তিনি গ্রামে যেতে পারছিলেন না। এজেন্সির মালিকের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। মালিক দীর্ঘদিন ধরে অফিসে না আসায় মকবুল রাত-দিন সেখানেই থাকতেন। 


গতকাল সকালে অফিসের একজন কর্মচারী মকবুলকে মৃত অবস্থায় পান। তিনি জানান, মকবুল হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন। তাঁর হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে রিং পরানো ছিল বলেও তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন।


মকবুলের ভাই আবদুল হালিম বলেন, তাঁর ভাই এজেন্সির মালিক আমিরুল গনির কাছে ১৮ লাখ টাকা পেতেন। টাকাগুলো তিনি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে এনেছিলেন তাঁদের বিদেশে পাঠানোর জন্য। কিন্তু মালিক টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনি বিপাকে পড়ে যান এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই অফিসে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এজেন্সির মালিকই মকবুলকে হত্যা করিয়েছেন।


এ বিষয়ে মালিক আমিরুল গনি বলেন, মকবুল তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। গত এক মাসে তাঁর পরিবারের দুজন ব্যক্তি মারা যাওয়ায় তিনি অফিসটি মকবুলের জিম্মায় দিয়ে চট্টগ্রামে তাঁর বাড়িতে রয়েছেন। প্রায় মাস খানেক ধরে তিনি অফিসে নেই। টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ও মকবুল মিলে আগে লিবিয়ায় লোক পাঠাতেন। সেখানে তাঁরা ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, যার মধ্যে ১৮ লাখ টাকা ছিল মকবুলের। 


কিন্তু হঠাৎ করে লিবিয়ায় লোক পাঠানো বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা বিপাকে পড়ে যান। কিন্তু তবুও তিনি বিভিন্ন সময়ে মকবুলকে ৯ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি টাকাও দিয়ে দিতেন। তাঁর দাবি, মকবুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল এবং তিনি তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানেন না।



Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.